জিয়াউর রহমানের বিশ্বাস ঘাতকতার কারনে পাকিস্থানীরা বেচে যায়

Feature Image

কুষ্টিয়া থেকে  হুমায়ুন কবির: জিয়াউর রহমানের বিশ্বাস ঘাতকতার কারনে পাকিস্থানিরা বেচে যায় এমন মন্তব্য করেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্জ সদর উদ্দিন খান।

পুষ্প মাল্য অর্পণ, বর্ণাঢ্য র‍্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানের মধ্যেদিয়ে খোকসা হানাদারমুক্ত দিবস পালিত হল।

১৯৭১ সালের এ দিন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা ওড়ান মুক্তিযোদ্ধারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলা সদরের খোকসা হাই স্কুল, শোমসপুর হাই স্কুল, গণেশপুরের গোলাবাড়ীর নিলাম কেন্দ্র, মোড়াগাছা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দোসর রাজাকার বাহিনীর শক্ত ঘাঁটি ছিল। এ জনপদে হত্যা, ধর্ষণ, লুট, অগ্নিসংযোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ইউনিট। প্রথমে পাকিস্তান পুলিশ উৎখাতের উদ্দেশ্যে থানা দখলের পরিকল্পনা হয়।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ৩ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে মুজিববাহিনীর কমান্ডার আলাউদ্দিন খান, কে এম মোদ্দাসের আলী, আলহাজ সদর উদ্দিন খান, নুরুল ইসলাম দুলাল, আলহাজ সাইদুর রহমান মন্টু, রোকন উদ্দিন বাচ্চু, তরিকুল ইসলাম তরুর নেতৃত্বে ২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা থানা দখলের জন্য চারদিক থেকে আক্রমণ করেন। রাতভর যুদ্ধের পর সকালে ৩৫ জন পুলিশ ও ৩৬০ জন রাজাকার সদস্য আত্মসমর্পণ করে।

৪ ডিসেম্বর খোকসা থানায় বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন খোকসা জানিপুর পাইলট হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আলতাফ হোসেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান, মোদ্দাচ্ছের আলী, আলহাজ সদর উদ্দিন খান, গোলাম ছরোয়ার পাতা, আলহাজ সাইদুর রহমান মন্টুসহ মুক্তিযোদ্ধারা। দখল করা প্রচুর আগ্নেয়াস্ত্র ও আটকদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে ক্যাম্পে পৌঁছালে ৪ ডিসেম্বর পাক হানাদারদের একটি বড় দল আবার থানা দখলের চেষ্টা করলে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে মিলিশিয়া ও পাকিস্তানি সেনাসদস্যদের দলটি খোকসা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। হানাদারমুক্ত হয় খোকসা।

দিবসটি পালনে এ বছর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ, শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিল ও সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খোকসা উপজেলার চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ সদর উদ্দিন খান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ বিষ্ণ পদ সাহার সভাপতিত্বে বেলা ১২ টার সময় মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বেতবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল আখতার, খোকসা পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক প্রভাষক তারিকুল ইসলাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হুদা প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সদর খান বলেন, দেশের মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে সংখ্যানিয়ে বেগম খালেদা জিয়া যে মন্তব্য করেন তা ঠিক নয়। তিনি বলেন, যুদ্ধের সময় বিরঙ্গনাদের ন্যায় তিতিও যদি ধর্ষিত হত তবে তিনিও এমন মন্তব্য করতেন না।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তিকে আরে দেশ পরিচালনায় থাকতে হবে। দেশ বাচাতে বারও মুক্তিযোদ্ধাদের একত্রিত হয়ে শেখ হাসিনার সরকার প্রতিষ্ঠা করতে ঐক্য বদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সাবেক কমান্ডার আলাউদ্দিন খান সাংবাদিকদের কে বলেন, ‘খোকসা থানা আক্রমণের জন্য প্রায় চার’শ থেকে পাঁচশত মানুষ নিয়ে বৈঠক করি কিন্তু এর মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ আক্রমণ করতে নিষেধ করে। এরপর ৩ ডিসেম্বর রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার আবদুল হাই আমাকে বার্তা পাঠায় যে আজকের মধ্যে থানা আক্রমণ না করলে কিন্তু আর পারবেন না। আবদুল হাই রাজাকার হলেও আমাদের তথ্য দিত। তবে ওই দিন সন্ধ্যায় আবদুল হাইকে কিছু না বলে গোপন বৈঠক করি মুকশিতপুরের আবদুস সাত্তারের বাড়িতে। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় আজ রাতেই থানা আক্রমণ করা হবে।’

আলাউদ্দিন খান আরো বলেন, ‘৩ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টার সময় খোকসা থানা আক্রমণ করি। পুলিশ আর আমাদের মধ্যে রাত ৪টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এরপর থানায় ঢুকে গ্রেনেড মারার হুমকি দিলে পুলিশ আত্মসমর্পণ করে। পুলিশের কাছ থেকে ১৩৫টা রাইফেল ও ৪৫ কার্টন গুলি পাওয়া যায়। সেখানে ৩৬০ জন রাজাকার ও ৩৫ জন পুলিশকে আটক করে মানিককাট মুক্তিযোদ্ধা ক্যাম্পে নিয়ে যাই। ৪ ডিসেম্বর খোকসা থানা সদরে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করি।
দুপুরে উপস্থিত সকলকে মুক্তিযোদ্ধার পক্ষ থেকে খাবারের ব্যাবস্থা করা হয়।
রাতে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আরো খবর »