কুষ্টিয়া র শহর নারকীয় যানজটে নাকাল ভোটাররা এখন কাঁদছেন…

Feature Image

 

লাগামহীনভাবে অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে এখন নজিরবিহীন ভয়ংকর এক রূপ ধারন করেছে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির নগরী কুষ্টিয়া শহরের যানজট পরিস্থিতি। এতে করে প্রতিনিয়ত স্বাভাবিক যান চলাচলে দুর্ভোগের বদলে এখন নারকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি নানা কারনে গুরুত্বপূর্ণ দেশের পশ্চিমাঞ্চলের জনগুরুত্বপূূূূর্ণ জেলা শহর কুষ্টিয়া নগরীর বাসিন্দারা।

“প্রতিদিনকার অসহনীয় এ দূর্ভোগ-দূর্দশায় পতিত নাগরিকের চোখের জল, কান্না আর দূর্দশার চিত্র সদর আসনের প্রভাশালী সাংসদ ও আওয়ামী লীগের অসীম ক্ষমতাধর যুুুুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের চোখে কি পড়েনা? নাকি তাঁর চোখেঠুলি পড়েছে?” আবেগপূর্ণ এ প্রশ্ন আর অভিযোগটি করেন ভয়ানক দূর্দশাকবলিত জনগুরুত্বপূর্ণ মজমপুর গেটস্থ সড়কে অতিসম্প্রতি একেবারে চোখের সামনেই প্রাণ হারানো সেই শিশুপুত্রটির অসহায় পিতার।

নগরবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত অটোরিকশার কারণেই শহরের বেশ কয়েকটি জায়গায় বেশিরভাগ সময়ই লেগেই থাকে যানজট। এছাড়া অদক্ষ চালকের কারণে ও যেখানে সেখানে ইউটার্ন নেওয়া এবং যাত্রী ওঠানামানোতেও প্রতিদিন নয় প্ররতিমুহূর্তেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানায়, পৌরসভার লাইসেন্স শাখা থেকে থেকে গত বছর এক হাজার ২৪৮ জন শহরে অটোরিকশা ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স করেছিলেন। এ বছর করেছেন মাত্র ৬০৪ জন। এক বছরের জন্য একটি অটোরিকশার ভ্যাট ট্যাক্স মিলে দুই হাজার ২৫ টাকা দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করতে হয়। এরপর লাইসেন্স দেওয়া অটোরিকশাগুলো পৌর এলাকায় চলার অনুমতি পায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে,
অটোরিকশার কারণে সবচেয়ে বেশি যানজটের সৃষ্টি হয় শহরের তিনটি রুটে। এগুলি হলো, মজমপুর গেট থেকে এন,এস,রোড হয়ে বড় বাজার, থানামোড় থেকে মোল্লাতেঘরিয়া ও পলিটেকনিক থেকে সরকারি কলেজ ও হাসপাতাল মোড় হয়ে সাদ্দাম বাজার পর্যন্ত। এই তিন সড়কে মোট পাঁচ কিলোমিটারে দুই হাজারেরও বেশি অটোরিকশা চলাচল করে।

এছাড়া আমিন ফার্মেসি মোড়, হাসপাতাল মোড় ও কোর্টস্টেশন মোড়ে সকালে এবং বিকালে সবচেয়ে বেশি ও নারকীয় জট বাধে।

জেলা পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট সুমন বিশ্বাস জানালেন, ‘শহরের এনএস রোড় ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বটতৈল থেকে কুষ্টিয়া-ঈশ্বরদী মহাসড়কের ত্রিমোহনী পর্যন্ত আট কিলোমিটার রাস্তায় অটোরিকশা চলাচল করছে সবচেয়ে বেশি। এসব সড়কে চলতে গিয়েই তারা একে অপরের সঙ্গে রীতিমতো রেসিং প্রতিযোগিতা করে। এসব কারণে তারা যে যেদিকে পারছে সেদিক দিয়ে চলাচল করছে। ফলে যানজট লাগামহীন মাত্রা ছাড়িয়েছে।’

কুষ্টিয়া ইসলামি কলেজের অধ্যক্ষ নওয়াব আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘অটোরিকশার কারণে এখন এককালের পরিচ্ছন্ন এ নগরীতে স্বাভাবিক পায়ে চলাচল করাটাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কোন সড়কে কয়টি অটোরিকশার চলবে তা কর্তৃপক্ষের এখনই নিন্ধারন করে ঠিক করে দেওয়া উচিত।’

অটোরিকশা চালক সংগ্রাম পরিষদ কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ জানান, তার পরিষদে ২ হাজার ৩৯টি অটোরিকশা আছে। সেগুলো শহরে চলাচল করে। এর বাইরে আরও ছয় হাজার অটোরিকশা শহরে চলছে, যেগুলি পৌরসভার বাইরে থেকে প্রতিদিনই আসে। মুলত বাইরে থেকে আসা অটোরিকশাগুলিই শহরের যানজট তৈরি করছে বলে অভিমত তার।

কুষ্টিয়া পৌরসভার লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শহর ছাড়াও কুমারখালী ও মিরপুর উপজেলার অনেক অটোরিকশা অবাধে শহরে এসে চলাচল করে। আর এতেই মূলত শহরেই যানজট বেড়েছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।’

অটোরিকশা চালক রফিকুল ইসলাম জানান, শহরে শুধু আমাদের কারণেই যানজটের সৃষ্টি হয়না। এখানে অন্যান্য পরিবহনের কারণেও যানজট বাধে।

জেলা ট্রাফিক কার্যালয়ের পরিদর্শক (টিআই) মেহেদী হাসান বলেন, ‘অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করতে ট্রাফিক সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। পৌরসভা চাইলেই তাদের সকল প্রকারের সহযোগিতা করা হবে।’

Loading...

আরো খবর »