দেবশ্রী চক্রবর্তীর ফুচকা পর্ব ১০

Feature Image

 

রিন্টুদের বাড়িতে আজ সকাল থেকে ঝগড়া । সেই কোন সকালে ঝগড়া শুরু হয়েছে, থামবার নামই নেই । ফুচকাদের পাশের বাড়ির তনুশ্রী কাকিমা পর্দা ফাক করে সেই কখন থেকে কান পেতে আছে । কি ঝগড়া হচ্ছে সব কিছু একেবারে কন্ঠস্থ করে নিচ্ছে সে । ফুচকা তিন তলার ঘরে বসে অংক করছে, আজ রবিবার স্কুল নেই, তাই সকাল থেকে বাবা অংক পরীক্ষা নিচ্ছে । অংক করার জন্য মন সংযোগ চাই, এত চিতকারের মধ্যে আর যাই হোক অংক করা সম্ভব না । একটা অংকও সে শেষ করতে পারছে না, সব অর্ধেক করে রেখেছে সে। মাথাটা ঝিমঝিম করছে, তাই ঘরের মধ্যে একটু পাইচারি করতে গিয়ে তনুশ্রী কাকিমাদের জানালার দিকে ফুচকার চোখ গিয়ে পরে । ভদ্রমহিলাকে একেবারে পছন্দ না ওর । সারা দিন পাড়ার লোকের ঘরে কান পাতা এর কাজ । তারপর সেই কথা ফোন করে সারা পাড়ায় রাষ্ট্র করে সে । পাড়ায় ঢুকতে গিয়ে যে স্বপ্নপুরি টেলার্স , সেই দোকানের বৌটার সাথে এই কাকিমার খুব ভাব । ওটাই ওর আড্ডা দেওয়ার মেইন জায়গা । বহুবার ফুচকা স্কুল থেকে ফেরার পথে তনুশ্রী কাকিমাকে ওই দোকানে বসে বিদ্রুপ করতে দেখেছে । ফুচকাকে দেখে কিরকম যেন বিচ্ছিরি একটা হাসি হাসেন উনি । যেন কত তুচ্ছ তাচ্ছিল্লের মানুষ ফুচকা । একদিন ফুচকাকে ডেকে দোকানের অন্য মহিলাদের সামনে জিজ্ঞাসা করেছিল ফুচকা অংকে কত পেয়েছে ।

পাড়াপ্রতিবেশিদের আর দোষ দিয়ে কি হবে , বাড়ির লোকজন যদি শত্রু হয় , তাহলে আর অন্যদের কি দোষ । ফুচকা অংকে আঠাশ পেয়েছে, সে কথা বাবাই তো চিতকার করে সারা পাড়া রাষ্ট্র করেছিল, ঠাম্মা যত বলছিল যে ওপরে থুতু মারলে নিজের গায়ে পরে, কিন্তু বাবাকে কে আর বোঝাবে সে কথা । বাবা চিতকার করে বলেছিল সবাই শুনুক তোমার গুনধর নাতি অংকে ফেল মেরেছে । বাবার মুখটা আজকাল সহ্য হয় না ওর । বাবা যখন রেগে যায়, বাবার দাত গুলো কোদালের মতন বেরিয়ে আসে । অফিস থেকে এসে বাবা যে রুটি তরকারি খায় তা লেগে থাকে ঐ দাতের গোড়ায় । ঘেন্নায় সারা গা গুলিয়ে ওঠে ওর । ফুচকা যেন ডাশটবিন , দুনিয়ার সব রাগ, ঘেন্না, অপমান ফেলার জায়গা । দিন দিন ডিপ্রেশানে ডুবে যাচ্ছে সে । এমন সময় ঘড়িতে ঢংঢং করে দশটা বাজলো । চিনু দিদিমনির আসার সময় হয়ে গেলো ।

নদাদুর সাথে চিনুর বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার পর প্রায় তিন মাস চিনু ঘর থেকে বের হয় নি । সারা দিন ঘরে বসে থাকত । একসময় সে ভেবেছিল এই পোড়া মুখ আর কারুকে দেখাবে না সে । চিনুকে এই ডিপ্রেশানের থেকে বার করে নিয়ে আসে কালুর বৌ টুকটুকি । লোকের বাড়ির কাজ সেরে টুকটুকি বাড়ি ফেরার পথে রোজ যেত চিনুর কাছে ।সংগে করে নিয়ে যেত বটতলার ঢপার ফুচকা । ঢপা খুব ঢপ দেয় বলে বটতলার রিক্সার স্ট্যান্ডের সবাই ওর নাম দিয়েছে ঢপা । কিন্তু ওর আসল নাম কালা চাদ । ঢপ মারলেও ঢপা ফুচকা কিন্তু অসাধারন বানায় । রোজ সেই ফুচকা খেয়ে প্রায় একমাসের মধ্যে চিনুর মুখের সাথে সাথে মনের রুচি ফিরে আসে । মনটা যেন ফুচকার জলের মতন চটপটা হয়ে ওঠে ।

চিনু একদিন টুকটুকিকে দুঃখ করে বলে, আশেপাশে পাড়ার মহিলারা চিনুর থেকে বয়সে কত বড় , কিন্তু এখনো কত শরীরে গ্লেস তাদের । চিনুর শরীরেও কি এরকম গ্লেস আনা সম্ভব ?
টুকটুকির দিদি ওর ছেলে ফটিকের সাইকেল সারাবার দোকানের পাশে একটা বিউটি পার্লার খুলেছে । কিন্তু বস্তির মেয়েরা সেভাবে কেউ সেই পার্লারে যায় না । কসমেটিক্স গুলো সব থেকে থেকে খারাপ হয়ে যাচ্ছিল । টুকটুকি বুদ্ধিমতি মেয়ে সে সুযোগ বুঝে চিনুকে বলল, পিসি , তুমি একবার বলেছ, আমি বুঝে নিয়েছি । আমার ওপর তোমার বিশ্বাস আছে তো ?

চিনু আবেগে আপ্লুত হয়ে বলল, টুকটুকি , তোর ওপর বিশ্বাস করবো না তো কার ওপর করবো বল ? তুই আমার দুঃসময়ের বন্ধু ।

টুকটুকি বলল, তাহলে নো চিন্তা । কাল সকালে আমি এক্সপার্ট লোক পাঠিয়ে দেবো । সে এসে তোমাকে রেডি করে দিয়ে যাবে ।

এসব কথা শুনে চিনু আবেগে গদ্গদ হয়ে টুকটুকির গালে একখানি চুমু খেয়ে বসলে,
টুকটুকি বলল, কি যে কর না তুমি পিসি । সত্যি বাপু , পারোও বটে ।
চিনুর জীবনটা যে এভাবে বদলে যাবে চিনু নিজেও তা বুঝতে পারে নি । টুকটুকির দিদির ম্যাসেজ ক্রিমের ছোয়ায় চিনুর সারা শরীর ঝিলিক মারতে থাকল । মাথার চুলে সোনালি রং করে সালোয়ার কামিজ পরে সে এখন টিউশান করাতে যায় । শরীর চর্চার সাথে সাথে চিনু আজকাল সাহিত্য চর্চাও শুরু করেছে । টুকটুকি সন্ধ্যা হলে চিনুকে এসে অনেক ধর্ম কর্মের কথা সুনিয়ে যায় । জয় গুরুর শিষ্য হবার পর থেকে টুকটুকি আজকাল খুব ধার্মিক হয়ে গেছে । সে চিনুকে বলেছে ,
পিসি, তুমি তো শিক্ষিতা মেয়ে, নেকাপড়া শিখে এরকম ভাবে কান্না কাটি করলে হবে । তোমার দুঃখ দিয়ে বড় বড় বই নিখে ফেলো দেখি । আমার মন বলছে তুমি একদিন সফল হবেই হবে । আমাদের পাড়ার নাম উজ্জ্বল করবে । টুকটুকির সেদিনের কথায় চিনু খুব উতসাহিত হয়ে পরেছিল । সেও স্বপ্ন দেখেছিল এলো মেলো ক্লাব থেকে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হচ্ছে । সে প্রতিজ্ঞা করলো নিজের হারানো সম্মান তাকে ফিরিয়ে আনতেই হব ।

চিনু সারা দিন রাত ধরে লেখে । টিউশান যাবার পথে চিনু রাস্তায় যা যা দেখে, তাই নিয়ে ভাবে, তারপর ছাত্রের বাড়ি গিয়ে একটা পাতা ধার নিয়ে তাতে লিখে ফেলে । সেদিন ফুচকাদের বাড়ি আসার পথে পাচিলের ওপর তিনটে হনুকে বসে থাকতে দেখে তার গান্ধিজীর কথা মনে পরে যায় । তারপর ফুচকাদের বাড়ি এসে সত্যাগ্রহ নামে একটি কবিতা লিখে ফেলে সে ।

ফুচকাদের পাড়া থেকে সাহিত্য জগতে নতুন দুই নক্ষত্রের আবির্ভাব হয়েছে । একজন চিনু দিদিমনি আরেকজন হচ্ছে রিন্টুর মা । আজকাল রিন্টুর মায়ের খুব দেমাক হয়েছে । পাড়া প্রতিবেশিরা তো বটেই বাড়ির লোকেদেরো তার সাথে সমিহ করে কথা বলতে হয়, পান থেকে চুন খসলে সে চিতকার করে সবাইকে জানিয়ে দেয় যে সে কত বড় একজন লেখিকা, তার মুখের ওপর কথা বলার স্পর্ধা হয় কি করে । রিন্টু পড়াশুনায় ভালো, তার ওপর তার মা একজন লেখিকা সব দিক থেকে সে এগিয়ে আছে, কিন্তু ফুচকার নিজের বা পরিবারের কারুর সম্পর্কে গর্ব করে বলার মতন কোন জায়গা নেই ।
আজকাল অবশ্য মা ফুচকাকে রিন্টুর উদাহরন দিয়ে বকতে ভয় পান , কারন ফুচকা তার মাকে জবাব দিয়ে দেয় , রিন্টুর মায়ের মতন তুমি দু কলম লিখে দেখাও তো । ফুচকার মা বহু বার মনের দুঃখে লেখার চেষ্টা করেও একটা শব্দও লিখে উঠতে পারে নি । ফুচকার বাবা ওর মাকে বিদ্রুপ করে বলে সব কিছু সবার দ্বারা কি আর হয়, তুমি বরং আমার জন্য একটু চা করে আনো । ফুচকার মা মনে মনে ভাবে সত্যিই তো তার মতন এত ভালো চা কি আর রিন্টুর মা বানাতে পারবে ।
আগামী কাল থেকে এলোমেলো ক্লাবের মাঠে শুরু হচ্ছে বইমেলা । বিশিষ্ট শিশু সাহিত্যিক সূর্যেন্দু উদ্বোধন করবে সেই মেলার । উদ্বোধ্নী মঞ্চে রিন্টুর মায়ের দুটো বই উদ্বোধন হবে বলে আজ রিন্টুর মায়ের মেজাজটা সকাল থেকে গরম হয়ে আছে । রিন্টুর ঠাকুমার বাতের ব্যাথাটা একটু বেড়েছে বলে সে বৌমাকে সকালে জলখাবার বানাতে বলে বিপদে পরে গেলেন । রিন্টুর মা তখন তার লেখা টেবিলে বসে কিছু একটা ভাবছিল । আচমকা ভাবনার পতন হওয়ায় সে ভীষন খাপ্পা হয়ে ওঠে । রিন্টুর মা তার শ্বাশুরিকে পরিস্কার ভাষায় জানিয়ে দেয় যে তাদের পরিবারের মধ্যে সে নিজে থেকে কিছু একটা করার চেষ্টা করছে, তা কারুর সহ্য হচ্ছে না ।
ব্যাস তেলের মধ্যে একফোটা জল এসে পরলে যেমন হয় , ঠিক সেই ভাবে রিন্টুর ঠাকুমা বলে উঠল , কি এমন লেখো তুমি বৌমা, আমার সব জানা আছে কি লেখো ।

রিন্টুর মা ঝাঝিয়ে উঠে বলল, কি বললেন আপনি আমি কি লিখি ?

রিন্টুর ঠাকুমা বলে বসল , ঠিকই শুনেছ, বৌমা । আমি পড়তে পারি না ঠিক, কিন্তু তোমার শ্বশুর মশাই নিজে পড়ে আমাকে বলেছে যে বৌমা কি যে লেখে তার আগা মাথা কিছু বুঝতে পারি না ।
চিনি সেই সময় ঘর ঝাট দিচ্ছিল, সে এই সব কথা শুনে বলে বসে, ঠিক বলেছো ঠাকুমা বৌদির লেখার আগা মাথা কিছু বোঝা যায় না , আমি ভেবেছিলাম আমি অবুঝ মানুষ তাই হয় তো আমার মাথায় ঢোকে না । কিন্তু এখন তো দেখছি কেউই বোঝে না ।

রিন্টুর মায়ের আসল জায়গাটাই খোচা লাগায় সে একেবারে বাঘিনীর মতন ঝাপিয়ে পরে চিনির ওপর ।
এই জন্যে বলে কাজের মেয়েকে এত প্রশ্রয় দিতে নেই । এই বাড়ির লোকজন প্রশ্রয় দিয়ে এই কাজের মেয়েকে এত মাথায় তুলেছে যে আজ এর এত স্পর্ধা বেড়ে গেছে ।

রিন্টুর ঠাকুমা বলল, দোষটা চিনির না বৌমা, তোমার । তুমি নিজেই তো চিনিকে বসিয়ে বসিয়ে তোমার লেখা পড়ে শোনাতে । চিনি যাতে তোমার লেখা শোনে তার জন্য ওর হাতে মুঠোমুঠো টাকা দিতে , আজ চিনি খারাপ হয়ে গেলো ?

চিনিও কম যায় না, সে বলল, কোথায় আর টাকা দিতো , গত এক মাস ঐ পচা লেখা গুলো শুনে শুনে আমার কান পচে গেছে , কিন্তু বৌদি এক টাকাও আমার হাতে ছোয়ায় নি । আর বৌদি কাজের লোক বলে বলে বারবার অপমান করো না । আমি তো লোকের বাড়ি কাজ করে দু পয়সা রোজগার করে আনি , তোমার তো সে যোগ্যতাও নেই ।

রিন্টুর মা বলে, আমার মতন এক কলম লিখে দেখা দেখি ।

প্রত্যুত্তরে চিনি বলে ঐ লেখা কেউ পড়বে না বৌদি ।

কেউ থামবার পাত্র না । ঝগড়া এমন পর্যায় পৌছে গেলো যে বাড়ির নীচে লোকজন জড় হয়ে গেলো । ধনা স্যারের কুকুর গুলো দল বেধে বারির নীচে জটলা হয়ে চিল্লে উঠল । চিনু দিদিমনি কোনক্রমে ভিড় সরিয়ে ফুচকাদের বাড়িতে এসে সবে ঢুকেছে, চিনুকে ঢুকতে দেখে ফুচকার মা এসে বলল, পিসি দেখেছেন কি অবস্থা, এ নাকি লেখিকা । কি অসভ্যের মতন চিতকার করছে শুনেছেন ।
চিনু জুতো খুলতে খুলতে বলল, তাই তো শুনছি । ছিঃ ছিঃ । আমাকে দেখেছো তো , তোমাদের সাথে এত দিন তো মিশছি, কোন অহংকার দেখেছ আমার মধ্যে ?
ফুচকার ঠাম্মা রান্নাঘর থেকে হাত মুছতে মুছতে বলল, আমাদের চিনুর মতন মেয়ে লাখে একটা মেলে । ওর সাথে কারুর তুলনা কি চলে ?
ফুচকার মা বলল, আপনার ভাইপো সেদিন বাজার থেকে ফেরার পথে আপনাকে দেখেছে মাঝ রাস্তায় দাড়িয়ে আপনি একদৃষ্টে মাছেদের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভাবছিলেন ।

চিনু মাথা ঝাকিয়ে একটা তৃপ্তির হাসি হেসে সম্মতি জানিয়ে বলল , হুম, সেদিনই তো তেলাপিয়া কবিতাটা লিখেছি বাড়ি ফিরে ।

চিনু দিদিমনিকে দেখলে ফুচকার গা পিত্তি জ্বলে যায় । এই বুড়ো বয়েসে চুলের রং করেছে হলুদ । যা দেখতে লাগে । সেদিন ফুচকার বন্ধু কেলটো নাকি দেখেছে চিনু লাল রঙ্গের সালোয়ার কামিজ পরে তার হলুদ চুল উড়িয়ে রাস্তা দিয়ে আসছিল । এমন সময় একটা হনু নাকি দূর থেকে চিনুর চুল গুলোকে সোনপাপড়ি ভেবে ভুল করে , গাছ থেকে নেমে এসে এক গাবলা টান মেরেছে । ব্যাস , চিনুর নাকি সে কি চিতকার । তারপর পাচু গোয়ালা লাঠি নিয়ে তাড়া করায় নাকি হনুটা চিনুকে ছেড়ে পালায় । চিনু এত চালাক সে কথা কারুর কাছে স্বিকার করে নি ।

ফুচকার মা বলল, পিসি, জানেন তো , চিনি আজ ঝগড়ার সময় বলছিল, রিন্টুর মা নাকি এমন লেখে যে তার অর্থ কেউ বোঝে না ।
চিনু বিজ্ঞের মতন বলল, বুঝবে নাই তো । মনে অহংকার থাকলে লেখা কুয়াশা আচ্ছন্ন থাকে । তা বোধগম্য হয় না । আমার লোখা কিন্তু একজন শিশু থেকে বৃদ্ধ , সবাই বুঝবে । একদম জলের মতন পরিস্কার ।

ফুচকা সিড়ির ওপর থেকে সব কথা মন দিয়ে শুনছিল । চিনির কথা ওঠায় সে বলল, এই চিনিই তো এত দিন তোমাদের কাছে ভালো ছিল না । সেই আজ এত ভালো হয়ে গেলো ।

ফুচকার মা বলল, দেখেছেন পিসি , এই ছেলে কি ভবিষ্যতে আমাদের দেখবে বলুন ?

চিনু বিজ্ঞের মতন মাথা নাড়িয়ে বলল, সব বুঝি , কি আর বলবো বলো । সেদিন আমাকে কিভাবে আপমান করেছিল, আমি বলেই আসি তোমাদের বাড়ি । রিন্টু সত্যি ভালো ছেলে গো । ছেলের মুখে রা নেই ।

ফুচকার মা সম্মতি জানিয়ে বলল, ঠিক বলেছেন পিসি , রিন্টুর গলার আওয়াজ এ পাড়ায় কেউ পায় না ।
ফুচকার মায়ের কথা শেষ করার আগেই ফুচকা ঝাঝিয়ে উঠে বলল, রিন্টুর মা এত ভালো লেখে বলে তোমরা ওকে হিংসা করে এসব বলছো, ওর মায়ের মতন লিখে দেখাও দেখি ।

ফুচকার বাবা হৈ হট্টগোল শুনে সিড়ি দিয়ে নেমে এসে ফুচকাকে কান মোলা দিয়ে ওপরের ঘরে টানতে টানতে নিয়ে যায় ।

সেদিনের পর চিনুর ভাগ্য খুলে যায় । এলোমেলো ক্লাবের বই মেলার উদ্বোধনে চিনুর লেখা বই প্রকাশিত হয় শিশু সাহিত্যিক সূর্যেন্দু মুখোপাধ্যায়ের হাত থেকে । সূর্যেন্দু চিনুর হলুদ চুল দেখে প্রথম ভয় পেয়ে গেছিল । অনেকক্ষন চিনুর চুলের দিকে তাকিয়ে তিনি কিছু ভাবছিলেন, তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন । চিনু মঞ্চের মাঝে মাথা নীচু করে দাড়িয়ে তার নতুন বই থেকে একটি কবিতা পাঠ করেছিলেন । সেদিন চিনুর ঘেউ ঘেউ কবিতাটি শুনে দর্শকদের মধ্যে একজন মুগ্ধ হয়েছিলেন , তিনি হচ্ছেন ধনা স্যার । স্যারের মনে ঘেউ ঘেউ কবিতাটি এতটা দাগ কাটে যে স্যার যাবার আগে চিনুর দশ কবি বই কিনে নিয়ে যান । স্যারকে যখন প্রকাশক জিজ্ঞাসা করেন যে কেন তিনি দশকপি বই এক সাথে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ?

তখন ধনা স্যার বলেন, এ এক অতিমানবিক কাব্য সংকলন , যা প্রতিটি মানুষের একবার অন্তত পড়া উচিত । আমি আমার ছাত্রদের দেবো বলে দশ কবি সংগ্রহ করলাম , ভবিষ্যতে আরো কয়েক কপি সংগ্রহ করবো ।

প্রথম দিন বই বিক্রিতে এত বড় সাফল্য পেয়ে চিনু উন্মাদ হয়ে গেলো । বইমেলাতে যাকে দেখলো তাকেই ধরে জানালো তার সাফল্যের কথা । ফুচকার ঠাকুমা আর মায়ের বিশেষ অনুরোধে চিনুকে এলোমেলো ক্লাবের তরফ থেকে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হল । আর ক্লাবের তরফ থেকে সেই মানপত্র ও বিশেষ সংবর্ধনা মেমেন্টো চিনুর হাতে তুলে দিলো রিন্টুর মা ।এই ভাবে এই ঘটনার মাধ্যমে ফুচকার মা এবং চিনুর অতৃপ্ত বাসনা তৃপ্তি লাভ করলো ।

Loading...

আরো খবর »