বিয়ের পর স্বামীর ধর্ম গ্রহণে বাধ্য নয় স্ত্রী

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

অার্ন্তজাতিক ডেস্ক: বিয়ের পর স্ত্রীকে স্বামীর ধর্মই গ্রহণ করতে হবে এমনটা মনে করেন না ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট। এই সংক্রান্ত একটি মামলায় বোম্বে হাইকোর্টকে রায় পুনর্বিবেচনা করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

বোম্বে হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল, বিয়ের পর স্বামীর ধর্মবিশ্বাসের সঙ্গেই মিশে যায় স্ত্রীর ধর্ম। এই কারণে এক পার্সি মহিলাকে প্রথা মেনে তার বাবা-মায়ের শেষকৃত্য করতে বাধা দেয়া হয়েছিল, যেহেতু তার হিন্দু ধর্মের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। গুলরোখ এম গুপ্তা নামে ওই মহিলাকে ধর্মীয় রীতি মেনে টাওয়ার অব সাইলেন্সে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ভালসাদ জোরোস্ট্রিয়ান ট্রাস্টকে ওই মহিলাকে বাধা দেয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আর্জি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র এবং বিচারপতি একে সিক্রি, এএম খানউইলকর, ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও অশোক ভূষণের বেঞ্চ জানিয়েছে, বিয়ে কখনোই একজন নারীর নাগরিক অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।

বিচারপতিরা স্পষ্টভাষায় জানান, ‘বিয়ের অর্থ এই নয় যে একজন নারী নিজেকে তার স্বামীর কাছে বন্ধক রাখছে। আমরা এই ধর্মীয় সংযুক্তির পক্ষে নই। এমন কোনও আইন নেই যেখানে নারীদের অন্য ধর্মে বিয়ে হওয়ার জন্য টাওয়ার অব সাইলেন্সে ঢুকতে বাধা দেয়া যায়।’

৮৪ বছরের বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তাদের শেষকৃত্যের জন্য হাইকোর্টের অনুমতি চেয়েছিলেন গুলরোখ। তবে ট্রাস্টের পক্ষে রায় দিয়ে বোম্বে হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছিল, বিয়ের পর স্বামীর ধর্মই হয়ে যায় স্ত্রীর ধর্ম। গুলরোখকে নীরব টাওয়ারে ঢুকতে হাইকোর্ট বাধা দেয়ায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিনি। নিজেদের অনড় মনোভাব ত্যাগ করে একজন সন্তানের তার বাবা-মায়ের প্রতি আবেগকে অনুভব করার জন্য ভালসান্দ ট্রাস্টের কাছে অনুরোধ করেছে শীর্ষ আদালত।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »