প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে যানবাহনগুলো

Feature Image

কুষ্টিয়ার প্রধান ৩টি মহাসড়কের বেহাল দশায় যানবাহনসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে ভুগান্তি বেড়ে গেছে চরম পর্যায়। কুষ্টিয়া-ঈম্বরদী মহাসড়ক, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়া রাজবাড়ী মহাসড়ক খানাকন্দে ভরে যাওয়ায় এ দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। আর এতে করে পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। এক ঘন্টার রাস্তা পাড়ি দিতে ৩/৪ ঘন্টা সময় লাগছে। তার পর আবার রাস্তা ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় প্রতিদিনই ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা। অভ্যন্তরীণ ও ঢাকার রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীরাও থাকেন বিপদে। সড়কের কারনে ১ ঘন্টার রাস্তায় যেতে সময় লাগছে তিন থেকে ৪ ঘন্টা।

প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে যানবাহনগুলো। যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে ক্ষতি হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এছাড়া জীবনবাজী রেখে প্র্রয়োজনীয় কাজ সারতে বাড়ী থেকে বের হয়ে আর ফেরা হচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন। এবং আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করছেন অনেকেই।
কুষ্টিয়া ত্রিমোহনীর উডল্যান্ডের সামনে যেন সড়ক নয়, মরণফাঁদে রুপ নিয়েছে। প্রতিদিনই তার আশেপাশে কয়েকটি যানবাহন বিকল হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকছে রাস্তায়।জেলায় কোন র্যঅকার না থাকায় সেই বিকল যানবাহনটি না সরাতে পেরে দুই পাশে জানযটে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে থাকে।

পরিবহন চালক ও যাত্রীরা জানান, সড়ক ভাল থাকলে কুষ্টিয়া হতে যশোর যেতে সময় লাগে দুই ঘন্টা। এখন সময় লাগছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা। তাও আবার অনেক স্থানে যানজট লেগে যায়। কুষ্টিয়ার মজমপুর গেট, পুলিশ লাইনের সামনে, জুগিয়া পার হয়ে বারখাদার আগে উডল্যান্ড কারখানার সামনের অংশ থেকে শুরু করে ১২ মাইল পর্যন্ত সড়ক এখন দু:স্বপ্নে পরিণত হয়েছে সবার কাছে। এ রুটে যাতায়াতকারীদের কাছে সড়ক এখন যন্ত্রনা। সড়ক নিয়ে বিচলিত ক্ষমতাসীন দলের নেতারাও। তারাও সড়কের এই অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন চান। সড়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হলে প্রয়োজন প্রায় শতকোটি টাকা। জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সাথে কথা হলে তার জানান, সড়কের এই অবস্থার কারনে সাধারণ মানুষের কাছে মুখ দেখানো দ্বায় হয়ে পড়েছে।

তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে আমাদের। সামনে নির্বাচন, তাই দ্রুত সড়ক মেরামত করা না গেলে ভোটের রাজনীতিতে বেকায়দা হতে পারে। শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদর এমপির প্রতিনিধি আতাউর রহমান আতা জানান, ‘ইতোমধ্যে সড়ক নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে।
তার একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। এমপি সাহেব নিজেও বিষয়টি তদারকি করছেন। কাজটি যাতে দ্রুত হয় সেজন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছেন সদর এমপি।’

ব্যক্তিগত কাজে অটোরিক্সাযোগে বটতৈল চারমাইল এলাকায় যেতেই মেলে দুর্ভোগ কাকে বলে। মজমপুর গেট থেকে চারমাইল পর্যন্ত সড়ক যেন হাজারো খানাখন্দে ভরা। টানা বৃষ্টিতে খানাখন্দ যেন আরো জেগে উঠেছে। চৌড়হাস বিএটি কার্যালয় থেকে বটতৈল মোড় পর্যন্ত সড়ক যাচ্ছেতাই। মহাসড়ক হলেও তাকে মহাসড়ক বলাটা অসম্মানের হবে। কারণ মহাসড়ক কখনো খাল হতে পারে না। হাজারো খানাখন্দে আচ্ছাদিত হয়না। প্রশ্নও জাগলো। মহাসড়ক হলে তো সড়ক বিভাগ অন্তত ইট-বালি দিয়ে তা ভরাটের চেষ্টা করতো।

ট্রাকচালক বাদশাহ আলমগীর বলেন, ট্রিপ নিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে দ্বিগুনেরও বেশি সময় লাগছে। ভাঙা সড়ক অতিক্রম করতে মাঝে মধ্যেই স্প্রিং ভেঙে পড়ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তা মেরামত করতে হচ্ছে।

দেশের অন্যতম বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালকল মালিক ওমর ফারুক জানান, প্রতিদিন প্রায় ২০ট্রাক চাল তার মিল থেকে ঢাকা, নারায়নগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যায়। এতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না চাল। মাঝে মধ্যেই চালভর্তি গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। সময়মত চাল সরবরাহ করতে না পারায় চালের বাজারেও প্রভাব পড়ে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কুষ্টিয়ার আহ্বায়ক কে এম জাহিদ বলেন, সড়ক সংস্কারে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই। পরিকল্পিত উদ্যোগ না নিয়ে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে কোনো লাভ নেই। সম্প্রতি সড়কের বেহাল দশার কারণে মাঝে মধ্যেই ঘটছে প্রাণহানির মত ঘটনা। চলাচলের উপযোগী হলে দুর্ঘটনাও কমে আসবে।

আর সড়ক ও জনপথ অফিসের কর্মকর্তারও আপাতত কোন আশার কথা শোনাতে পারেননি।

সড়কের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, ছোট কাজ করলে সড়কের সমস্যা মিটবে না। তাই সদর উপজেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে ভেড়ামারা উপজেলার ১২ মাইল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের জন্য একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবনাটি মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেলে আগামি বছর কাজ করানো সম্ভব হবে।

আরো খবর »