পেঁয়াজের দামেই ক্রেতাদের চোখে ঝাঁজ

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

লালমনিরহাট থেকে জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না: অনেকটা হাসি মুখেই সকাল সকাল বাজার করতে এসেছিলাম। আলু, বেগুন, মুলা, আঁদা, রসুন সব কিছুই হয়েছে। বাকী ছিলো শুধু পেঁয়াজ। পেঁয়াজের কথা মনে হতেই মনটা বেশ খারাপ হয়ে যায়। সব কিছু কিনেই যত টাকা লাগছে না, শুধু পেঁয়াজ কিনতেই খরচ করতে হচ্ছে তার থেকেই বেশী। দেশী পেঁয়াজ ১১০ দশ টাকা আর ভারতীয় ৯৫ টাকা। এতদিন জানতাম পেঁয়াজের ঝাঁজে চোখে জল আসতো, এখনা দেখি দাম শুনেই চোখে জল আসা শুরু করেছে।

এই প্রতিবেদককে এভাবেই কথা গুলো বলছিলেন লালমনিরহাটের গোশালা বাজারে কাঁচাবাজার করতে আসা দিপংকর রায় (৩০)। রবিবার সকালে বাজার করার সময় কাঁচা বাজারের পন্যের দাম নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি এসব কথা বলেন।

পাশে থাকা অপর এক ক্রেতা সোহেল রানা(২৫) বলেন, বাজারে আসলেই আগের তুলনায় শুধু পেঁয়াজের জন্যই আলাদা বাজেট নিয়ে আসতে হয়। অন্যান্য জিনিস নাগালের মধ্যে থাকলেও শুধু পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এমন অস্থিরতা কবে যে স্থির হবে কে জানে?

লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন বাজার গুলোতে শীত কালীন সবজি গুলোর দাম কম থাকলেও শুধু বেড়েই চলছে পেঁয়াজের দাম। জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশী পেঁয়াজ কেজি প্রতি ১ শত ১০ টাকায় আর ভারতীয় আমদানী করা পেঁয়াজ কেজি প্রতি ৯৫ টাকা বিক্রয় হচ্ছে।

এদিকে বেগুন প্রতি কেজি ১৫ টাকা, মুলা ৪ টাকা, মুলা শাক ২ টাকা, লাল শাক ৫ টাকা, সরিষা শাক ১০ টাকা, টেমশি শাক ১৫ টাকা, লাউ শাক ২০ টাকা,  ধনিয়াপাতা ২০ টাকা,  পটল ২০ টাকা, কাঁচাকলা ২০ টাকা, দুসকুশি ১৫ টাকা, গাজর ৮০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৯০ টাকা, রসুন ৭০ টাকা,  আলু ৭ টাকা, পেঁপে ১৫ টাকা, সিম ৪০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা, বাঁধাকপি ১৫ টাকা, ফুলকপি ৩০ টাকা ও বরবটি ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা বাজারে শাহজান আলী(৫০) নামে এক দিনমজুরের সাথে কথা হলে তিনি জানান, শাক-সবজির দাম কম। কিন্তু পেঁয়াজের দাম বেশী। আর সব কিছুর আগে দরকার পেঁয়াজ। যেটা সব ধরনের তরকারীতে ব্যবহার করা হয়। কিন্ত বাজার করতে এসে যদি পেঁয়াজ কিনতে এত টাকা খরচ করতে হয় তাহলে তো অন্যান্য খরচ কিনতে আমাদের মত দিনমজুরদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সেনামৈত্রী বাজারের কাঁচামাল আড়ৎদার মাসুম পারভেজ বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজে আমদানিগত কিছু সমস্যার কারনে এবং পাশাপাশি দেশী নতুন পেঁয়াজ ক্ষেত থেকে উঠতে আরো বিলম্ব হওয়ায় হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। এছাড়া নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসলেই দাম অনেক কমে যাবে বলে তিনি জানান।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক বিদু ভূষণ রায় বলেন, জেলায় ব্যাপক বন্যার কারনে চাষীরা অনেক দেরীতে জমিতে পেঁয়াজ চাষ শুরু করেছে। এছাড়া জেলায় চাষীরা এবার অনেক বেশী পেঁয়াজের চাষও করেছে। ওই পেঁয়াজ উঠলেই বাজারে দাম কবে আসবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

Loading...

আরো খবর »