অনিয়ম দুর্নীতির সুপার হিরো ফুলতলা মাদ্রাসার অধ্যাক্ষ ও সভাপতি

Feature Image

বরগুনার বেতাগীতে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে ফুলতলা মাদ্রাসার অধ্যাক্ষ পদ দখলকারী মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান ও একই মাদ্রাসার সভাপতি পদ দখলকারী ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মানিক এর বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতি,ভ’য়া সনদ তৈরীসহ উপবৃত্তির টাকা আত্বসাত এর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানিয় বাসিন্ধা ও প্রতিষ্ঠানের নির্ভর যোগ্য সুত্রে জানা যায়, মরহুম জহুর উদ্দিন হাওলাদার জমিদান করার ফলে উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন সাবেক অধ্যাক্ষ মাওলানা মোঃ আব্দুস সত্তার মিয়া।সাবেক অধ্যাক্ষ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত খুব সুনামের সাথেই চালিয়ে আসছিলেন।কিন্তু ২০০৯ সালে ফুলতলা মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাক্ষ অবসরে যাওয়ার পরে তৎকালীন সভাপতি খলিল বিশ্বাস ও আব্দুর রাজ্জাক মানিক মিলে ৩ লাখ টাকা ঘুষ এর বিনিময়ে এই দুর্নীতিবাজ অধ্যাক্ষ মোস্তাফিজ মাওলানাকে নিয়োগ প্রদান করেন।তার নিয়োগ প্রক্রিয়া ২০০৯ এ ৪১/(২) (খ) ৪ প্রবিধানমালার সম্পুর্ন বিরোধী ও অবৈধ।

সুত্রে আরো জানা যায় , ফুলতলা মাদ্রাসার সাবেক ছাত্র হাবিবুর রহমান কে কম্পিউটারের মাধ্যমে তার সার্টিফিকেটের রেজাল্ট ১.৩৩ থেকে গ্রেড পরিবর্তন করে ২.৫৮ উত্তীর্ন ও প্রত্যায়নপত্র প্রদান করেন মোস্তাফিজুর রহমান ও ,সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মানিক।উক্ত সার্টিফিকেট ও অধ্যাক্ষ কর্তৃক প্রত্যায়নপত্র নিয়ে ছাত্র হাবিবুর রহমান ১৭ই এপ্রিল সকাল ৯টায় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল নিয়োগ কার্যক্রম এ অংশগ্রহন করেন।প্রাথমিক বাছাইয়ে মোঃ হাবিবুর রহমান মুক্তিযোদ্ধা কোঠায় উত্তীর্ন হওয়ায় তাহার অনুকূলে দাখিল পরীক্ষার পাসের মুল সনদ দাখিল করেন। পরবর্তী সময় হাবিবুর রহমান কর্তৃক দাখিলকৃত দাখিল পরীক্ষার পাশের মূল সনদ টি চলতি বছরের ৭ই মার্চে যাচাই-বাচাই এর জন্য প্রতি স্বাক্ষরিত এক কপি পরীক্ষানিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ঢাকা বরাবর প্রেরন করা হলে দাখিলকৃত দাখিল পরীক্ষার পাশের মুল সনদের ফটোকপি প্রতি স্বাক্ষরিত সনদটি যাহার নাম মোঃ হাবিবুর রহমান সনদটির সিরিয়াল নং ০০৪৬৯৮৬ রেজিঃ নং ৮৩৩৬০৫।১৯৯৯ দাখিল পরীক্ষা ২০০৪ রোল নং ২১৬৪৩৫ এর প্রাপ্তি পয়েন্ট জিপিএ ২.৫৮,সম্মিলিত সনদটি সহিদ বোর্ডের তথ্যের সাথে মিল না থাকায় প্রার্থীর পিতার নাম বোর্ডের সংরক্ষিত নথিতে মোঃদলিল উদ্দিন খলিফা এবং প্রাপ্ত পয়েন্ট জিপিএ ১.৩৩ লাল কালিতে লিপিবদ্দ করে ডেপুটি কন্ট্রোলার অফ এক্সামিনেশন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড ঢাকা।পুলিশ এই জালিয়াতির কপি হাতে পেয়ে বরগুনা জেলার আর ও-২ রিজার্ভ অফিস পুলিশ এ এস আই মোঃ সোহেল খান বাদী হয়ে মূল প্রতারক মোস্তাফিজুর রহমান এর সাথে মোটা অংকের ঘুষ বিনিময়ের মাধ্যমে তার নাম বাদ দিয়ে ছাত্র মোঃ হাবিবুর রহমান (৩১) কে এক নম্বর আসামী করে ২/৩ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা করে।মামলার ধারা ৪২০,৪৬৮,৪৭১,১০৯ পেনাল কোর্ট এ জালিয়াতি ও প্রতারনার মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সিল স্বাক্ষরযুক্ত দাখিল পরীক্ষা পাশের সনদপত্র তৈরি করে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগের সময় দাখিল করা ও সহায়তার অপরাধে নথিভুক্ত হয়।অথচ যার মাধ্যমে প্রতারনার পথে হাটলেন তার নাম নেই কোথায়ও।

অভিযোগে পাওয়া যায়,মাদ্রাসার বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মানিক একজন রাজনীতিবিদ এবং ৪নং ফুলতলা ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি।যা সর্বশেষ মেন্যুয়ালকে লঙ্ঘন করে। মোস্তাফিজ মাওলানা ও সভাপতি দু’জনে মিলে মাদ্রাসার সাধারণ তহবিলের টাকা,শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা আত্বসাত,সরকারের পক্ষ থেকে তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষার জন্য ল্যাপটপ আত্নসাত করা,শিক্ষকদের এফ ডি আর এর টাকা আত্নসাত করার অভিযোগ আছে।

এসব মহা অনিয়ম দুর্নীতি করেও অদৃশ্য শক্তি ও প্রশাসনিক কর্তাদের ম্যানেজ করে বার বার পাড় পেয়ে যান দুর্নীতিবাজ সভাপতি ও অধ্যাক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান ও সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মানিক,খলিল বিশ্বাস । কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে মামলার হুমকি দেন। ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। এই অনিয়মের এই অনিয়মের খবর নিয়ে বরিশালের ও জাতীয় পত্রিকায় একাধিকবার হয়েছেন আলোচিত শিরোনাম খলিল বিশ্বাস ও আব্দুর রাজ্জাক মানিক ও মোস্তাফিজুর রহমান।

এদিকে জানাযায়,মোস্তাফিজুর রহমান যখন অন্য একটি মাদ্রাসায় ছিল তখন সেই মাদ্রাসায় বসেও অনেক স্কুল পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীরা যখন স্কুলের পরীক্ষায় উত্তীর্ন হতে না পারত তখনি তারা এই প্রতারকের স্বরনাপন্য হত। তিনি তাদেরকে এনে সেই বছরই মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ করে দিতেন।অন্য নামে রেজিস্টেশন থাকা রেজিস্টেশন কার্ড দিয়ে সেখানে পরীক্ষার্থীর নামের মিল থাকলেও পিতার নাম ভুল থাকে,আবার পরিক্ষার্থীর নাম ভুল থাকলেও পিতার নাম সঠিক পাওয়া যায়,আবার নাম ঠিকানা ভুল থাকলে এপিট ডেপিট করে নাম সংশোধনীর মাধ্যমে পরে সঠিক নাম বসায়।

Loading...

আরো খবর »