১৬১ বছরের ঐতিহ্যবাহী স্কুল (এমএন) পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়

Feature Image

১৬১ বছরের ঐতিহ্যবাহী কুমারখালী মথুরানাথ (এমএন) পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়(১৮৫৬)

কুমারখালী পৌর এলাকার এলঙ্গীপাড়ায় স্থাপিত প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুমারখালী এম. এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় । সিপাহী বিদ্রোহের এক বছর পূর্বে ১৭ জানুয়ারী ১৮৫৬ সালে নীলকুঠিতে ইহার পত্তন। শ্রীযুক্ত বাবু মথুরানাথ কুন্ডু মহাশয়ের সক্রিয় প্রচেষ্টায় নীলকর সাহেবদের পরিত্যক্ত নীলকুঠিতে ইংরাজী শিক্ষার প্রসার ঘটাতে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে এটি উচ্চ ইংরেজী বিদ্যালয়ে উন্নীত হয় এবং মথুরানাথ হাই স্কুল নামে খ্যাতি লাভ করে। প্রাচীনত্বের দিক দিয়ে এটি শুধু কুষ্টিয়া জেলাতেই নয় সমগ্র নদীয়া জেলাতেও খ্যাত। অনেক গুণী ও কীর্তিমান পুরোধা ব্যক্তি এস্কুলের ছাত্র ছিলেন যাঁরা কালজয়ী হয়েছেন পরবর্তীতে অথচ এতো প্রাচীন প্রতিষ্ঠান আজও সরকারি করণের আওতায় আসে নাই।

১৮৫৬ সালে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যানিকেতন প্রতিষ্ঠা লাভের পর ১৮৫৮ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতিসহ আর্থিক বরাদ্দ পায়।
অল্পদিনেই বিদ্যালয়টি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিতে থাকে। দেশের অনেক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অল্পদিনের মধ্যে সরকারি করণ হলেও এই অতি প্রাচীন বিদ্যালয়টি অদ্যাবধি সরকারিকরণ হয়নি।

কুমারখালী পৌরসভাধীন ঐতিহ্যবাহী কুমারখালী এম এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি তৎকালীন নীলকরদের পরিত্যক্ত নীল কুঠিতে ১৮৫৬ সালে স্থাপিত হয় তৎকালীন লর্ড হার্ডিঞ্জ সাহেব পরিদর্শনে আসেন এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রম দেখে খুব খুশি হন এবং বলেন কোন বিদ্যালয়ের যদি স্বীকৃতি দিতে হয় তাহলে প্রথমেই এই বিদ্যালয়কে দেওয়া উচিৎ। বিদ্যালয়টি ১৮৫৯ সালে প্রথম কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে তার যাত্রা শুরু করে। বিদ্যালয়টি (১৮৫৯ – ১৯৪৭) সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীন, (১৯৪৮-১৯৫৫) সাল পর্যন্ত পূর্ববাংলা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, (১৯৫৬-১৯৬২) পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা, ১৯৬৩ সাল থেকে অদ্যাবধি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড , যশোর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৮৫৯ সালে প্রথম এন্ট্রান্স (পাবলিক) পরীক্ষার মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু করে অদ্যাবধি প্রায় ১৬১ বছর সকল পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে সুনাম অক্ষুন্ন রেখেছে।

সাহিত্যক্ষেত্রে এই বিদ্যালয়ের অবদান। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বাউল স¤্রাট ফকির লালন সাঁই, “বিষাদসিন্ধু” খ্যাত মীর মশাররফ হোসেন, বাংলার প্রথম সংবাদপত্র সাপ্তাহিক ‘গ্রামবার্তার’ অকুতোভয় সম্পাদক ও সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদার, সাহিত্যিক জলধর সেন, বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা কাজী মিয়াজান ও বিপ্লবী বাঘা যতীনের স্মৃতিধন্য ঐতিহ্যবাহী কুমারখালী অঞ্চলের আপামর জনসাধারণের প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান এটি। উল্লেখ্য যে, সাহিত্যিক মীর মশাররফ হোসেন, ভারতবর্ষ পত্রিকার সম্পাদক জলধর সেন, কলকাতা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ হেরম্ব মিত্র, ঐতিহাসিক অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় সহ অসংখ্য মনীষী এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন-এছাড়াও বিদ্যালয়ের অসংখ্য ছাত্র দেশে-বিদেশে সুনাম ও সাফল্যের সাথে সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠানটি আজ ১৬১ বছর ধরে শিক্ষার আলোক বর্তিকা হাতে নিয়ে অত্র এলাকার শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে।

স্বাধীনতার পূর্বে ১৯৬২ সালে বিদ্যালয়টি বহুমুখী স্কীমে যায়। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর বিদ্যালয়টি পাইলট স্কীমের আওতাভূক্ত হওয়ায় তখন এর নামকরণ হয়“ কুমারখালী এম, এন, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়” পরবর্তীতে আপনি যখন সমগ্র বাংলাদেশে ৩১৫ টি উপজেলায় ৩১৫ টি মাধ্যমিক
বিদ্যালয়কে মডেল বিদ্যালয় প্রকল্পভূক্ত করেন তখন বৃহত্তর কৃষ্টিয়ায় এই বিদ্যালয়টি ১ নম্বরে থাকা সত্ত্বেও আজও বিদ্যালয়টি সরকারিকরনের আওতায় আসে নাই।

১৬১ বছরের পুরাতন এ বিদ্যালয় থেকে বহু কৃতি ছাত্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ এর মুখ উজ্জ্বল করেছে। গ্রাম সংবাদের জনক বাংলার ইতিহাসের সুপ্রাচীন পত্রিকা ’’গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকার সম্পাদক কাঙাল হরিনাথ মজুমদার, কালজয়ী লেখক ও উনিশ শতকের আলোকিত গদ্যশিল্পী মীর মশাররফ হোসেন, লেখক, শিক্ষাবিদ কলকাতা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ হেরন্ব মিত্র , ভারতবর্ষ পত্রিকার সম্পাদক ও কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের জীবনীকার সাহিত্যিক রায় বাহাদুর জলধর সেন, প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও রাজশাহী বরেন্দ্র মিউজিয়ামের প্রতিষ্ঠাতা অক্ষয় কুমার মৈত্রেয়, কলিকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি গোপালচন্দ্র সাহা, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিট অফিসার নীল রতন মজুমদার, কলিকাতা হাইকোর্টের উকিল বসন্ত কুমার চট্টোপাধ্যায়।

 

বিখ্যাত সাহিত্যিক এবং ‘আনন্দ বাজার পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রফুল্ল কুমার সরকার, বিদ্যাবিনোদ কবি ভোলানাথ মজুমদার, বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের প্রথম জীবনীকার বসন্ত কুমার পাল,তান্ত্রিক সাধু ও লেখক শিব চন্দ্র বিদ্যার্নব, প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ কুঞ্জুলাল সান্যাল, কবি ভোলানাথ মজুমদার, অধ্যাপক রবীন্দ্রনাথ সাহা চার্টাড একাউন্টন্টেট, প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ রেবতী মোহন সাহা- এম বি গোল্ড মেডেলিষ্ট তিনি এই বিদ্যালয়ের পরবর্তীতে শিক্ষক এবং তৎপরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিরও অন্যতম সদস্য ছিলেন, কলকাতা বেতারের গীতিকার ও সংগীত শিল্পী বামা চরণ কর্মকার, বিখ্যাত কবিরাজ খোন্দকার গোলাম সরওয়ার, অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রমেশ চন্দ্র দত্ত- আই, সি, এস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আরসি মজুমদার (রমেশ চন্দ্র মজুমদার),বিখ্যাত মোহিনী মিলসের প্রতিষ্ঠাতা মোহিনী মোহন চক্রবর্তী, প্রবন্ধকার ডাঃ প্রতাপ চন্দ্র মজুমদার, সংস্কৃত ও আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের অসাধারণ প-িত রামচন্দ্র বিদ্যা বিনোদ, লেখক, শিক্ষাবিদ ও পরবতীতে অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খোন্দকার আজহারুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শহীদ গোলাম কিবরিয়া- এমপি, রাজনীতিবিদ এম এস আলী, চিকিৎসক ডাঃ নজর আলী, বাংলাদেশ রেডিও-টেলিভিশনের গীতিকার মাসুদ করিম, নাট্যকার নাজমুল আলম, সদ্য অবসর প্রাপ্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব কাজী আখতার হোসেন প্রমুখ মনীষীগণ এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তাছাড়া বর্তমান সময়েও এ বিদ্যালয়ের বহু কৃতি ও গুণি ছাত্র আছেন যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহু সুন

আরো খবর »