রাখাইনের উন্নয়নে ভারত-মিয়ানমারের চুক্তি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক: জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিমের মধ্য থেকে কতজনকে ফেরত নেবে মিয়ানমার তা স্পষ্ট নয়। রোহিঙ্গারা ফেরত যাওয়ার পর সেখানে তাদেরকে কি অবস্থায় রাখা হবে সে বিষয়েও কোনো স্বচ্ছ ধারণা দেয়া হয় নি। এমন অবস্থায় রাখাইন রাজ্য পুনর্গঠনের জন্য মিয়ানমারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে ভারত।

বুধবার ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর ও মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক উপমন্ত্রী সোয়ে অং-এর মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মিয়ানমার ও ভারতের সরকার-টু-সরকারের মধ্যে এমন চুক্তি এটাই প্রথম। রাখাইন রাজ্যের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সেখানে জীবনজীবিকার সুযোগ সৃষ্টির জন্য এ চুক্তি হয়েছে।

এ খবর দিয়েছে ভারতের অনলাইন টেলিগ্রাফ। এতে বলা হয়, রাখাইনে নৃশংসতায় জাতিনিধনের শিকার হয়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদেরকে ফেরত নেয়ার বিষয়ে ২৩ শে নভেম্বর একটি চুক্তি হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে। সেই চুক্তি অনুযায়ী আগামী মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি শেষ হওয়ার আগেই রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক এজেন্সিগুলো বলছে, রাখাইনের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয় নি এখনও। ওদিকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখার কারণে দেশের ভিতরে ও দেশের বাইরে ভারত ব্যাপকভাবে সমালোচিত। এখন তারা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া মিয়ানমারের ওই প্রদেশটিতে বেশ কিছু অবকাঠামোগত প্রকল্পের মাধ্যমে তা পুনর্গঠনে যুক্ত হচ্ছে। যেসব রোহিঙ্গা ফিরে যাবেন তাদের জন্য তাৎক্ষণিক আশ্রয়ের চাহিদা মেটাতে ক্ষণস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত ওই চুক্তির অধীনে। এসব আবাসন ক্ষণস্থায়ী হলেও তা কি আশ্রয় শিবিরের মতো হবে কিনা তা স্পষ্ট করে বলা হয় নি রিপোর্টে।

এটা পরিষ্কার করে কোথাও বলা হয় নি যে, ফিরে গিয়ে রোহিঙ্গারা তাদের আদি বসতভিটায় উঠতে পারবেন কিনা। তবে ভারতের প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেহেতু ক্ষণস্থায়ী আবাসনের কথা বলা হয়েছে, তাই ধরে নেয়া যায় যে, রোহিঙ্গারা ফিরে গিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আদি বসতভিটায় উঠতে পারবেন না। তাদেরকে উঠতে হবে এসব আবাসনে।

টেলিগ্রাফ লিখেছে, সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফরে যান। সে সময়ে উভয়পক্ষ রাখাইনে অবকাঠামো, আর্থ সামাজিক প্রকল্পের সার্বিক উন্নয়নে একমত হয়। যেসব অবকাঠামোতে হাত দেয়ার কথা বলা হয় তার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়, সম্প্রদায়ের মধ্যে উন্নতি সাধন, ছোট সেতুগুলো নির্মাণ, সড়কের আধুনিকায়ন, ছোট ছোট বিদ্যুত প্রকল্প, জীবন মানের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকা-, হস্তশিল্পের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। বুধবার এ সংক্রান্ত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্কর মিয়ানমারে ভারতের বন্ধুত্বমুলক প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা করেন।

এর মধ্যে রয়েছে রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিতওয়ে বন্দরের অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ, পালেতওয়া-কোরিনপুই সড়ক, রি-টিদিম সড়কের উন্নয়ন এবং কালেওয়া থেকে ইয়ারগি পর্যন্ত ত্রিদেশীয় মহাসড়ক প্রকল্প।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »