পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সন্মেলন

Feature Image

খোকসা:  কুষ্টিয়ার খোকসায় আজ বৃহষ্পতিবার দুপুরে সাফিন হত্যা মামলায় মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার পরিবারের উপর পুলিশি হয়রানির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ধোকড়াকোল কলেজ মোড়ে এক সংবাদ সন্মেলন করা হয় ।
সংবাদ সন্মেলনে ভুক্ত ভোগী পরিবারের পক্ষে মো কবিরুল ইসলাম সুমনের সহধর্মীনি ফারহানা ইয়াসমিন লিখিত স্ক্রিপ্ট পড়ে সাংবাদিক বৃন্দের শুনায়, আপনারা অবগত হয়েছেন যে, কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলাধীন আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত আমবাড়ীয়া গ্রামের সাঁফিন খান গত ১৬ ই ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে সন্ধ্যায় নিখোঁজ হন এবং পরের দিন ১৭ ডিসেম্বর রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার হাবাশপুর ইউনিয়নের পদ্মার চরে তার লাশ পা্ওয়া যায় । আমরা এই হত্যা কান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই ।

প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা,
কুষ্টিয়ার সময়, বাংলা ৫২ নিউজ এবং নিহতের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সাফিন খান একজন বালু ব্যবসায়ী ছিলেন। আপনারা সকলেই জানেন, এ ধরনের ব্যবসার সাথে নদী-চর, পেশী শক্তি, অবৈধ অস্ত্র –শস্ত্র সন্ত্রাসী তৎপরতা ইত্যাদি বিষয়ের যেমন প্রত্যক্ষ- পরোক্ষ সম্পর্ক থাকে তেমনি থাকে নানান ধরনের স্বার্থ সংশ্রিষ্ট পক্ষ-বিপক্ষ । দেশের যেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে সেখানেই দেখা গেছে আধিপত্য ও অন্তর্কলহের জেরে এ জাতীয় খুনোখুনি হয়ে থাকে । আমরা বিশ্বাস করি, এ হত্যা কান্ডের পেছনেও কারন হিসাবে রয়েছে তেমনি কোন অন্তর্কলহ বা প্রতিপক্ষের আধিপত্যের বিষয় যা সময়ে ঠিকই বেড়িয়ে আসবে। আমরা জোরালোভাবে চাই , এ হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হোক এবং প্রকৃত খুনীরা চিহৃত হোক।

কিন্তু এ হত্যাকান্ডের প্রেক্ষিতে আমবাড়ীয়া ও জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়নের কিছু সুযোগ- সন্ধানী স্বার্থন্বেষী চিহিৃত খারাপ লোকের প্ররোচনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে গত ১৮/১২/২০১৭ ই্ং তারিখে পাংশা থানায় একটি এজাহার করা হয় (নং-পাংশা৬)।এজাহারে বলা হয়েছে-এ হত্যাকান্ডের পেছনে আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আব্দুস সা্ত্তার মোল্লা, তার ছেলে রাজীব, ভাতিজা আরিফ এবং ভাগনে নয়ন ও সুমন হাত থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন । অথচ এরা কেউই বালু ব্যবসাসহ এ ধরনের অবেধ কর্মকান্ডের সাথে জরিত নন, েএটা এলাকার জনগনসহ খোকসা- পাংশার প্রশাশাসনও অবগত । উক্ত এজাহারের প্রেক্ষিতে , পাংশা থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে একটি মামলা করেন (০৬,তারিখ১৮১২/২০১৭, সেখানে আসামী হিসাবে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের কথা বলা হয়েছে, রাজীব, আরিফ, সবুজ, সাগর,সুমন- এদের কারোই নাম নেই ।

সাংবাদিক ভাইয়েরা,
আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসাবে আব্দুস সাত্তার মোল্লা আমবাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। একইসময়ে পাশ্ববর্তী জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়নের ভবানীগজ্ঞ ওয়ার্ড থেকে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন তার ভাগনে আরিফুল ইসলাম নয়ন। উক্ত নির্বাচনে উভয় ইউুনয়নের কতিপয় চিহিৃত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও নানা ধরনের অসামাজিক কাযকলাপের সাথে যুক্ত ব্যাক্তিদেরকে এলাকার জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখান করেন। কিন্তু, নির্বােচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই এ সকল ব্যাক্তি সাত্তার মোল্লা ও নয়ন এবং তাদের নির্বাচনী কর্মী ও আত্নীয়- স্বজনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়ষন্ত্র অব্যাহত রেখেছে যা এই দুই ইউনিয়নের জনগনসহ স্থানীয পুলিশ প্রশাসন অবগত ।এমতাবস্থায়, সাফিন হত্যা কান্ডের সুযোগে এই চক্রটি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে বলেই এলাকার সাধারন জনগন মনে করেন । আর তাদের অপচেষ্টার অংশ হিসাবে সাফিনের পরিবার ও পুলিশের একটি অংশের বিভ্রান্তিকর আচরনের ফলে একদিক যেমন খুনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও প্রকৃত খুনীদের আড়াল করার সুযোগ তেরী হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সাত্তার মোল্লা ও নয়ন এবং তাদের পরিবারও পরিজন ও আত্নীয়-স্বজনকে হয়রানি ও সুনামহানির শিকার হতে হচ্ছে ।

আপনাকে আর অবগত করা চাই যে, সাফিনের পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাত ৮ টার পর থেকে সাফিনকে খোঁজাখুজিঁ শুরু হয় । কিন্তু ঐ দিন চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার মোল্লা, রাজীব, আরিফ, নয়ন ও সুমন- সকলেই রাত ১২ টা পযন্ত বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সেন গ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত কর্মসুচীতে উপস্থিত ছিলেন যার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আমবাড়ীয়া , জয়ন্তীহাজরা ও পাশ্ববর্তী বাহাদুর পুর ইউনিয়নের কয়েকশত লোক । অথচ এ ঘটনায় প্রেক্ষিতে অজ্ঞাত কারনে প্রভাবিত হয়ে পাংশা থানার পুলিশ এলাকার নিরহ সাধারন জনগনকে গ্রেফতারও হয়রানি অব্যহত রেখেছে। পুলিশের ভয়ে এলাকার অনেক মানুষ ঘরে থাকতে পারছেন না, করতে পারছেন না তাদের স্বাভাবিক পেশাগত ও পারিবারিক কাজকর্ম। ফলে একদিকে যেমন তাদের সন্মানহানি ঘটছে অন্যদিকে তাদের পরিবার –পরিজনকে আর্থিক –মানসিক- সামাজিক সমস্যার সন্মুকিন হতে হচ্ছে ।
সাংবাদিকগন
সত্য অনুসন্ধান ও প্রকাশে আপনাদের ভূমিকা সকল পযায়েই স্বীকৃত । তাই সাফিন হত্যাকান্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, প্রকৃত খুনীদের চিহিৃতকরণসহ নিরপরাধ রাজীব, সবুজ, সাগর, আরিফ, সুমন এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রও হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়েরের অপতৎপরতা বন্ধে আপনাদের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করছি ।
এ সময় সাংবদিক সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আব্দুস সাত্তার মোল্লা চেযারম্যান আমবাড়ীয়া ইউপি, রহমত আলী জোয়াদ্দার জয়ন্তীহাজরা ইউপি সদস্য, জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়ন আওয়া’মী সাধারণ সম্পাদক, আব্দুস শাকিব খান টিপু জয়ন্তীহাজরা ইউপি সদস্য, লুৎফুল কবীর বাবুল মেম্বর , মুক্তার হোসেন, হিরন মেম্বর আলাউদ্দিন মেম্বর, আয়ুব মেম্বর প্রমুখ ।

আরো খবর »