সমাবেশের অনুমতি দিতে গড়িমসি করেছে সরকার

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: বিএনপির অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের ‘মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে’র অনুমতি দেওয়া নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ তুলেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুর ১২টার কিছু সময় পর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্য যে, মুক্তিযোদ্ধা দল এই অনুষ্ঠানের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে যখন অনুমতি চেয়েছে, তখন তাদের সঙ্গে অনেক রকম গড়িমসি করা হয়েছে।

‘এই কিছুক্ষণ আগে মাত্র, বোধহয় আধ ঘণ্টা আগে তাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মাইক ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হয় না। হল ভাড়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। শেষ পর্যন্ত আমাদের এন্টারফাই (হস্তক্ষেপ) করতে হয়েছে তাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’

ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধা দলের কোনো অনুষ্ঠানে সরকার বা সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো বাধার সৃষ্টি করবে না বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিএনপির মহাসচিব।

মুক্তিযোদ্ধা দলের দ্বি-বার্ষিক কাউন্সিল ও মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের সমাপনী পর্বে বিকেলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এবং বক্তব্য রাখবেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলকে বিএনপির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন অভিহিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের আহ্বানের মধ্য দিয়ে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল সেই সংগঠন। দীর্ঘকাল ধরে এই সংগঠন তাদের কাজ করে আসছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা যুক্তিযুদ্ধ করেছিলেন তারাই এই সংগঠনের সদস্য। যারা দীর্ঘকাল ধরে আন্তরিকতার সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা বা আদর্শ এবং যার ওপর ভিত্তি করে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল; সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরছেন। মানুষের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্বকে সুসংঠিত করাই হচ্ছে তাদের প্রধান কাজ।’

মুক্তিযুদ্ধ দল তাদের নেতৃত্বের মাধ্যমে জনগণকে সঠিক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শগুলো পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছে উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘সারা দেশে এই সংগঠনের শাখা আছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের কথা, চেতনা এবং যে মূল লক্ষ্য, সে সম্পর্কে অবহিত করবে। সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌমত্ব এবং স্বনির্ভর দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য তারা কাজ করে চলেছে।’

অনুষ্ঠানের মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইসতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালামসহ মুক্তিযোদ্ধা দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী উপস্থিত রয়েছেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »