কুরআনে বর্ণিত নারীর অধিকার

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ইসলাম: ইসলাম আসার পূর্বে নারীরা সমাজে অবহেলিত ছিল। তারা ছিল সকল প্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত। কিন্তু ইসলাম এসে নরীকে সকল প্রকার অধিকার দিয়েছে। সেই সাথে নারীকে দিয়েছে সম্মান। নিম্নে কুরআনের কয়েকটি আয়াত তুলে ধরা হলো যেগুলোতে উঠে এসেছে নারীর বিভিন্ন অধিকারের কথা।

১. স্ত্রীদের মোহরানা দিতে হবে: ইসলাম নারীদেরকে যৌতুকের অভিসাব থেকে রক্ষা করেছে। সাধারণত আমাদের সমাজের একটি প্রথা হচ্ছে বিয়ের সময় নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে পুরুষকে যৌতুক দেওয়া হবে। কিন্তু ইসলাম এই প্রথাকে সম্পূর্ণ রূপে হারাম সাব্যস্ত করেছে। এবং শুধু হারাম বলেই ক্ষ্যান্ত হয়নি। পুরুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছে মোহরানার বিধান। এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনে মাহন আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আর আনন্দের সাথে (ফরয মনে করে) স্ত্রীদের মোহরানা আদায় করে দাও। তবে যদি তারা নিজেরাই নিজেদের ইচ্ছায় মোহরানার কিছু অংশ মাফ করে দেয়, তাহলে তোমরা সানন্দে তা খেতে পার। (সূরা- নিসা, আয়াত- ৪)

২. নারীর সম্পদ সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়: আমরা উপরের আয়াত থেকে জানতে পেরেছি যে, একজন বিবাহিত পুরুষকে অবশ্যই স্ত্রীর মোহরনা আদায় করতে হবে। এই মোহরানা আদায় করার পরে তাতে স্বামীর আর কোনো হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। এই মোহরানার টাকা সম্পূর্ণ স্ত্রীর। একজন স্বামীর কখনো উচিত হবে না যে, স্ত্রীকে বাধ্য করে সেই টাকা তার থেকে নেয়া। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আর যদি তোমরা এক স্ত্রীর জায়গায় অন্য স্ত্রী আনার সংকল্প করেই থাকো, তাহলে তোমরা তাকে স্তুপীকৃত সম্পদ দিয়ে থাকলেও তা থেকে কিছুই ফিরিয়ে নিয় না। তোমরা কি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ও সুস্পষ্ট জুলুম করে তা ফিরিয়ে নেবে ? আর তোমরা তা নেবেই বা কেমন করে যখন তোমরা পরস্পরের স্বাদ গ্রহণ করেছ এবং তারা তোমাদের কাছ থেকে পাকাপোক্ত অঙ্গীকার নিয়েছে। (সূরা- নিসা, আয়াত- ২০-২১)

৩. স্বামীর উচিত স্ত্রীর সাথে ভালো ব্যবহার করা: কুরআন নারীদের প্রতি সদ্ব্যবহার ও মতবিরোধের সময় নারীদেরকে দয়া ও সম্মানের দেখানোর বিষয়ে অনুরোধ জানিয়েছে। এর মানেই হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর সাথে সকল কাজে ভালো ব্যবহার করবে। এই বিষয়ে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের জন্য জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হয়ে বসা মোটেই হালাল নয়ক। আর তোমরা যে মোহরানা তাদেরকে দিয়েছো তার কিছু অংশ তাদেরকে কষ্ট দিয়ে আত্মসাৎ করাও তোমাদের জন্য হালাল নয়। তবে তারা যদি কোন সুস্পষ্ট চরত্রহীনতার কাজে লিপ্ত হয় (তাহলে অবশ্যি তোমরা তাদেরকে কষ্ট দেবার অধিকারী হবে) তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো। যদি তারা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় হয়, তাহলে হতে পারে একটা জিনিস তোমরা পছন্দ করো না কিন্তু আল্লাহ তার মধ্যে অনেক কল্যাণ রেখেছেন। (সূরা- নিসা, আয়াত- ১৯)

৪. জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া প্রথার অবসান: ইসলামের আগে, একজন নারীর স্বামী মারা গেলে তাকে সারা জীবনই বিধবাই থাকতে হতো। তাছাড়া তখন নিজের স্বামী মনোনিত করার অধিকার একজন নারীর ছিল না। কিন্তু ইসলাম এসে নারীকে এই অধিকার দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাপাক ইরশাদ করেন, হে ঈমানদারগণ ! তোমাদের জন্য জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হয়ে বসা মোটেই হালাল নয়। আর তোমরা যে মোহরানা তাদেরকে দিয়েছ তার কিছু অংশ তাদেরকে কষ্ট দিয়ে আত্মসাৎ করাও তোমাদের জন্য হালাল নয়। তবে তারা যদি কোনো সুস্পষ্ট চরত্রহীনতার কাজে লিপ্ত হয় (তাহলে অবশ্যি তোমরা তাদেরকে কষ্ট দেবার অধিকারী হবে) তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবন যাপন করো। যদি তারা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় হয়, তাহলে হতে পারে একটা জিনিস তোমরা পছন্দ করো না কিন্তু আল্লাহ তার মধ্যে অনেক কল্যাণ রেখেছেন। (সূরা- নিসা, আয়াত- ১৯)

৫. স্বামীদের উচিত স্ত্রীদের জন্য ব্যয় করা: ইসলামী বিধান অনুযায়ী একজন স্বামী তার স্ত্রীর জন্য অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য। স্বামী স্ত্রীর খাদ্য, পোশাক, আশ্রয়সহ তার সকল প্রকার চাহিদার জন্য অর্থ ব্যয় করবে। এমনকি একজন নারীকে যদি তালাক দেয়া হয় আর সেই নারীর পেটে যদি স্বামীর সন্তান থাকে তাহলে সন্তান জন্ম লাভ করা পযর্ন্ত স্ত্রীর জন্য স্বামী অর্থ ব্যয় করবে। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, তোমরা তোমাদের সামর্থ অনুযায়ী যে রকম বাসগৃহে থাক তাদেরকেও (ইদ্দতকালে) সেখানে থাকতে দাও। তাদেরকে বিপদগ্রস্ত করার জন্য উত্যক্ত করো না। আর তারা গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব না হওয়া পর্যন্ত তাদের জন্য খরচ করো। তারপর তারা যদি তোমাদের সন্তানদের বুকের দুধ পান করায় তাহলে তাদেরকে তার বিনিময় দাও এবং (বিনিময়দানের বিষয়টি) তোমাদের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তম পন্থায় ঠিক করে নাও। কিন্তু (বিনিময় ঠিক করতে গিয়ে) তোমরা যদি একে অপরকে কষ্টকর অবস্থার মধ্যে ফেলতে চেয়ে থাক তাহলে অন্য নারী বাচ্চাকে দুধ পান করাবে। সচ্ছল ব্যক্তি তার সচ্ছলতা অনুপাতে খরচ করবে। আর যাকে স্বল্প পরিমাণ রিযিক দেয়া হয়েছে সে আল্লাহ তাকে যা দিয়েছেন তা থেকে খরচ করবে। আল্লাহ যাকে যতটা সামর্থ দিয়েছেন। তার চেয়ে অধিক দায়িত্ব তিনি তার ওপর চাপান অসম্ভব নয় যে, অসচ্ছলতার পর আল্লাহ তাকে সচ্ছলতা দান করবেন। (সূরা- তালাক, আয়াত- ৬-৭)

৬. বিবাহবিচ্ছেদ ও দাম্পত্য তিক্ততা এড়িয়ে চলুন: কুরআনের অনেক দৃষ্টান্ত আছে। আল্লাহপাক মুসলমানদেরকে ধৈর্যের পরামর্শ দিয়েছেন এবং তালাক থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। তিনি প্রকৃতপক্ষে বলেন, যদি উভয় স্বামীই প্রকৃতপক্ষে তাদের সমস্যা সমাধান চেয়ে থাক, তাহলে উভয়ই একসাথে মিলিত হবে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, আর যদি কোথাও তোমাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক বিগড়ে যাবার আশংকা দেখা দেয় তাহলে পুরুষের আত্মীয়দের মধ্য থেকে একজন সালিশ এবং স্ত্রীর আত্মীয়দের মধ্য থেকে একজন সালিশ নির্ধারণ করে দাও। তারা দুজন সংশোধন করে নিতে চাইলে আল্লাহ তাদের মধ্যে মীমাংসা ও মিলমিশের পরিবেশ সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সবকিছু জানেন, তিনি সর্বজ্ঞ। (সূরা- নিসা, আয়াত- ৩৫)

আল্লাহপাক আরো বলেছেন, আর যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দাও এবং তাদের ইদ্দত পূর্ণ হবার পর্যায়ে পৌঁছে যায় তখন হয় সোজাসুজি তাদেরকে রেখে দাও আর নয়ত ভালোভাবে বিদায় করে দাও। নিছক কষ্ট দেবার জন্য তাদেরকে আটকে রেখো না। কারণ এটা হবে বাড়াবাড়ি। আর যে ব্যক্তি এমনটি করবে সে আসলে নিজের ওপর জুলুম করবে। আল্লাহর আয়াতকে খেলা-তামাসায় পরিণত করো না। ভুলে যেয়ো না আল্লাহ তোমাদের কত বড় নিয়ামত দান করেছেন। তিনি তোমাদের উপদেশ দান করছেন, যে কিতাব ও হিকমাত তিনি তোমাদের ওপর নাযিল করেছেন তাকে মর্যাদা দান করো। আল্লাহকে ভয় করো এবং ভালোভাবে জেনে রাখো, আল্লাহ সব কথা জানেন। (সূরা- বাকারাহ, আয়াত ২৩১)

৭. উত্তরাধিকারের অধিকার নিশ্চিত করা: ইসলামের পূর্বে নারীরা তাদের স্বামীর মৃত্যুর পর তাদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার পেত না। কিন্তু ইসলাম নারীকে এই অধিকার দিয়েছেন। পবিত্র কুরআনে মাহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, মা -বাপ ও আত্মীয়-স্বজনরা যে ধন-সম্পত্তি রেখে গেছে তাতে পুরুষদের অংশ রয়েছে। আর মেয়েদের অংশ রয়েছে সেই ধন-সম্পত্তিতে, যা মা-বাপ ও আত্মীয়-স্বজনরা রেখে গেছে, তা সামান্য হোক বা বেশী এবং এ অংশ (আল্লাহর পক্ষ থেকে ) নির্ধারিত (সূরা- নিসা, আয়াত- ৭)

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »