কনস্টেবলে সাহসে বাঁচল ৮ প্রাণ

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  চার দিকে দাউদাউ আগুন। গোটা রেস্তোরাঁ ঢেকে গিয়েছে ধোঁয়ায়। আতঙ্কে দিশাহারা রেস্তোরাঁয় উপস্থিত ২০০ জন। আর্তনাদ, হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি। তিলতিল করে এগিয়ে আসছে মৃত্যু। তখনই হাজির হলেন তিনি। বহু মৃত্যুপথযাত্রীকে তিনি পৌঁছে দিলেন জীবনের ঠিকানায়।

গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে ভারতের মুম্বাইয়ে লোয়ার প্যারেল এলাকার কমলা মিলস কম্পাউডের রুফটপ রেস্তোরাঁ ‘ওয়ান অ্যাবাভ’-এ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গিয়েছে ১৪ জনের। আহত ২১ জন। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারত আরও। কিন্তু তা আটকে দিয়েছিলেন ওরলি থানার কনস্টেবল সুদর্শন শিবাজি শিন্দে। নিজের জীবনের পরোয়া না করে সাহসী মানুষটি ঝাঁপিয়ে পড়েন রেস্তোরাঁর আগুনে। বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছেন বহু মানুষকে। কাঁধে-পিঠে করে বের করে এনেছেন আহতদের। কমপক্ষে আটজনের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। সুদর্শনের এই উদ্ধারকাজের ছবি ‘ভাইরাল’ হয়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর তার পর থেকেই তিনি মুম্বাইয়ের নয়া ‘হিরো’।সাহসিকতার জন্য সোমবার সন্ধ্যায় সুদর্শনকে সম্মানিত করেন মুম্বাইয়ের মেয়র।

কনস্টেবল সুদর্শন বলেন, ‘বছরের শুরুতে কাজের স্বীকৃতি পাওয়ায় ভালো লাগছে কিন্তু আমার কষ্ট হচ্ছে, আগুন থেকে ১৪ জনকে বাঁচাতে পারলাম না।’

ভয়ঙ্কর সেই রাতের কথা বলতে গিয়ে সুদর্শন বলেন, ‘আমি দমকলের কাজে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। কীভাবে ভিতরে আটকে পড়া মানুষগুলোকে বাঁচানো যায়, সেটাই মাথায় ঘুরছিল।আমি দৌড়ে রেস্তোরাঁর সিঁড়ি দিয়ে উঠে পড়ি। সিঁড়ি দিয়ে তখন স্ট্রেচার নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। কাঁধে করেই নামিয়ে আনি।’

গতকাল সোমবার রেস্তোরাঁ-পাবটির ব্যবস্থাপক গিবসন লোপেজ ও কেভিন বাওয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পানশালার তিন মালিক জিগর সিংবি, হিতেশ সিংবি এবং অভিজিৎ মনকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। তিনজনেই পলাতক। জিগর ও হিতেশকে আশ্রয় দেয়ার অভিযোগে রবিবার তাদের দুই আত্মীয় রাকেশ সিংবি ও আদিত্য সিংবিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে দুজনেই জামিনে মুক্ত।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »