রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

Feature Image

ঢাকা: রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ দেশ ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে রাষ্ট্রের তিন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিয়া আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে এ ক্ষেত্রে কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং সহযোগী। দায়িত্ব পালনকালে মনে রাখতে হবে, এক বিভাগের কর্মকান্ডে যাতে অন্য বিভাগের কর্মকান্ড কোনভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় বা জাতীয় স্বার্থ বিঘিœত না হয়।’
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক এমপি, এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও জাজেস কমিটির সভাপতি মির্জা হোসেইন হায়দার অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
বিচারক, জ্যেষ্ঠ আইনজীব এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, রাষ্ট্রের তিন বিভাগ অর্থাৎ নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগের মধ্যে সম্পর্ক ও সমন্বয় খুবই জরুরি। তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্যই এটা দরকার। তিনি মামলা ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা আনতে তথ্যপ্রযুক্তির (আইটি) সকল সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাতেও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশব্যাপী আদালতে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে অনলাইন কজ-লিস্ট চালু হয়েছে এবং অনলাইন বেল কনফারমেশন ব্যবস্থা কার্যকরভাবে চলছেÑ এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট যেহেতু কোর্ট অব রেকর্ড সেহেতু এর সকল নথিকে ডিজিটাল নথিতে পরিণত করতে হবে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলখানা থেকে আদালতে আসামীদের উপস্থিত করা এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এসব বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টকে ভবিষ্যতে ই-জুডিসিয়ারি বাস্তবায়নে উদ্যোগী হতে হবে। সরকার এসব বিষয়ে অত্যন্ত আন্তরিক।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে জুডিসিয়াল রিভিউ ক্ষমতা। এই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন যে, জ্ঞানের চর্চায় আইনজীবীগণ পূর্বের চেয়ে আরো এগিয়ে যাবেন এবং তাদের মেধা, প্রজ্ঞা, সততা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে দ্রুত ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে সহায়তা করবেন।

রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী বাতিল করে দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সুপ্রিম কোর্টের অনন্য ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট দিবসের আজকের এই অনুষ্ঠানে আমি সুপ্রিম কোর্টের সেসব অকুতোভয় বিচারপতি যাঁরা বন্দুকের নলের কাছে নতি স্বীকার না করে এবং নিজেদের বিবেককে বিকিয়ে না দিয়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন। আমি তাঁদের গভীর কৃতজ্ঞতাভরে স্মরণ করছি।’

ভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, বঙ্গবন্ধু ধনী-দরিদ্রের মাঝে বৈষম্য নিরসণের মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর জাতিকে একটি সংবিধান উপহার দেন।
এর আগে, রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে পৌঁছলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ও অন্যান্য বিচারকবৃন্দ তাঁকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রপতি সেখানে স্প্যানিশ চেরির একটি চারা রোপণ করেন।

আরো খবর »