কুমারখালী এমএন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের দাবীতে মানববন্ধন

Feature Image

ইতিহাসখ্যাত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত ১৮৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কুমারখালী এমএন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের দাবীতে মানববন্ধন পালিত

ফলাফল, সুনাম, সাফল্য শতভাগ সেকারণে সরকার কুমারখালী উপজেলার মধ্যে এই বিদ্যাপিঠকে মডেল স্কুল হিসেবে উন্নীত করেছে সরকার ২০০৮ সালেÑসে মোতাবেক বাংলাদেশের প্রত্যেক থানায় একটি করে মডেল স্কুল আছে। কুমারখালীর একমাত্র মডেল স্কুল হলো কুমারখালী এমএন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়।

মডেল স্কুল এ যাবৎ ৩ শতাধিকের উপরে সরকারী করণের ঘোষণ্ আসলেও ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর মীর মশাররফ হোসেন ও কিংবদন্তি সাংবাদিক কাঙাল হরিনাথ মজুমদারও এ বিদ্যালয়ের ছাত্র অথচ এই স্কুলটি এখনো সরকারীকরণের ঘোষণা হচ্ছেনা। সারাপৃথিবীজুড়ে যেখানে ইতিহাস এবং ঐতিহ্যকে ডকুমেন্টরি হিসেবে গ্রহণ করে স্বীকৃতি দিচ্ছে সেখানে বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীণ এ বিদ্যাপিঠ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (১৮৫৬) ১নম্বর অনুমোদিত স্কুলকে কেনইবা গতানুগতিক তালিকার মধ্যে রেখেও সরকারীকরণের ঘোষণা দিচ্ছেনা বা দেওয়া হচ্ছেনা। উল্লেখ্য যে ২০০৮ সালে প্রথম চালানে যে ৬০টি স্কুল সরকারীকরণের প্রাথমিক ঘোষণা আসে সে তালিকায় বৃহত্তর কুষ্টিয়ার ১নম্বর স্কুল হিসেবে কুমারখালী এম এন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদালয়ের নাম ছিল।

এতোকিছুর পরও কোন গন্থিজটিলতায় আটকে আছে সংষ্কৃতিনগরের অহংপ্রিয় এই বিদ্যাপিট তা সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মাথায় আসছেনা। সে লক্ষ্যে ঢাকাস্থ কুষ্টিয়া জেলা সমিতির আয়োজনে বিদালেয়ের প্রাক্তণ গুণি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা, সুধিবৃন্দ, লেখক, কবি, সাংবাদিকরা তথা কুমারখালীবাসীর একাংশ এই মানববন্ধনে উপস্থিত হয়েছে।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন কুষ্টিয়া জেলা সমিতির সভাপতি আক্তারুৃজ্জামান। বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের সাবেক সচিব ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র কাজী আখতার হোসেন, প্রাক্তন ছাত্র ও কুষ্টিয়া জেলা সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল্বলাহ, বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র বীরমুক্তিযোদ্ধা এড. পরিমল কুমার বিশ্বাস, সাবেক মহাসচিব মো. আব্দুর রউফ, ড. রকিবুল হাসান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম, প্রাক্তন ছাত্র সাংবাদিক সনজয় চাকী, প্রাক্তন ছাত্র ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, প্রাক্তন ছাত্র কবি ও নাট্যকার লিটন আব্বাস, প্রাক্তন ছাত্র রবীন্দ্র্র সংগীত শিল্পী রেফুল করিম, মৈত্রী অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান সমন্বয়ক আতিনুর রহমান মার্শাল প্রমুখ। বক্তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ইতিহাস ঐতিহ্য জাতিসত্তার শেকড় আর এ শেকড়কে স্মরণ করা আমাদের জাতীয় কর্তব্য। সম্প্রতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ইউনেষ্কো কর্তৃক বিশ্বপ্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

সেকারণে আমরা জাতি হিসেবে সম্মানিত ও গৌরব বোধ করি। একটা জাতির গৌরব তার শিক্ষা-সংষ্কৃতি-ইতিহাস-ঐতিহ্য। তেমনি এক ইতিহাসখ্যাত বিদ্যাপিট বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন যা ফলাফল, ভৌত অবকাঠামো এবং ২৫ বিঘা জমির উপর দাঁড়িয়ে বিদ্যালয়ের সাফল্যের কারণে পরপর দুবার জেলারও শ্রেষ্ঠ স্কুল ও প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছে। এ বিদ্যালয়ের অসংখ্য গুণি ছাত্র দেশে বিদেশে স্বনামে সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠিত। সবার একই দাবী অবিলম্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক শত ঐতিহ্যের এক সোনারী নাম কুমারখালীর এমএন পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে সরকারী করণ করা হোক।

আরো খবর »