‘গণতন্ত্র হত্যা দিবসে’ সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিনটিকে আজ যথারীতি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করছে বিএনপি। দিবসটি পালনে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কিংবা নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি পায়নি দলটি। এ পরিস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে বিএনপি। তবে সারাদেশে জেলা, মহানগর, উপজেলা পর্যায়ে ‘কালো পতাকা’ মিছিলের কর্মসূচি পালন করবে তারা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি। দিবসটি উপলক্ষে কয়েকদিন আগেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। তবে তাদের অনুমতি চাওয়ার আগেই ‘ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি’ নামে একটি দলকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেয় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অন্য একটি দলকে উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ায় দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। তবে ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উন্মুক্ত স্থানে নয়, কোনো মিলনায়তনে (ইনডোর) সমাবেশ করতে চাইলে অনুমতি দেবে তারা।

এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়নি। ওখানে একটি নাম না জানা সংগঠনকে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দিয়ে যে নাটক করেছে, সেই নাটকটি আসলে গণতন্ত্রের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে মশকরা করা।’ এ সময়ে তিনি বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অনুমতি দেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে সমাবেশের কর্মসূচি উপলক্ষে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলো ব্যাপক প্রস্তুতিও গ্রহণ করেছে।

 

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি পালন করে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল নির্বাচনে অংশ নেয়। নির্বাচনে ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সংসদ সদস্যরা। ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনটিতে দেশজুড়ে লাগাতার অবরোধ ও হরতালের ঘোষণা দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এরপর তিনি গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। ৯২ দিনের মাথায় তিনি আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য কার্যালয় থেকে বের হন। ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দল সমাবেশের অনুমতি চাইলে তা বাতিল করা হয়। পরে বিএনপি নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। আর আওয়ামী লীগ সমাবেশে করে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে। আবার গত বছর রাজধানীতে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »