ফরিদপুরে হাঁরিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী “পালাগান” ও ‘কিচ্ছা-কাহিনী’

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ফরিদপুর থেকে হারুন-অর-রশীদ:  কালের বিবর্তনে ও সময়ের পরিক্রমায় ফরিদপুর থেকে হাঁরিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী “পালাগান” ও ‘কিচ্ছা-কাহিনী’। “সুর,তাল,লয় এই তিন মিলিয়ে মনের ভাব প্রকাশ করাকেই গান বলা হয়।” এগুলোর মধ্যে “পালাগান” ও ‘কিচ্ছা-কাহিনী’ বাংলার লোকসংগীতের জনপ্রিয় ধারা হিসেবে তার অস্তিত্ব দৃঢ়ভাবে বজায় রেখেছিল। ফরিদপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে এই কিচ্ছাপালা ছিল চোঁখে পড়ার মত। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এই কিচ্ছাপালা দিন দিন তার জৌলুস হারাচ্ছে জেলার সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল থেকে।

জানা যায়, গুরুশিষ্য,গুণাইবিবি, রহিম-রূপবাণ,মহুয়াসুন্দরী, নারী-পুরুষ, কমলার বনবাস প্রভৃত পালাগানের সৃষ্টি বাংলার ঐতিহ্যবাহী জেলা ফরিদপুরে। এ অঞ্চলের মানুষের ইরি-বোরো ফসল ঘরে তুলার পর সারা নদী-নালা,খাল-বিল ভরে যায় পানিতে। বর্ষায় কোন কাজ না থাকায় জেলার বিভিন্ন উপজেলাতে মানুষেরা হয়ে যায় আবেগপূর্ণ। সেই আবেগকে কেন্দ্র করেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিচ্ছা পালার জমজমাট আসর বসত। শুধু তাই নয় জারি, সারি, ঘাটু গানেরও বসত বিরাট আসর। আবাল-বৃদ্ধবণিতাসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ সকলে মিলে শ্রবণ করত এই কিচ্ছা পালা। কিন্তু কালের পরিক্রমায় এখন তা হারিয়ে যেতে বসেছে। ডিজিটাল যুগে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বিলুপ্তপ্রায় গ্রামাঞ্চলের লোকসংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার দাবী সাধারণ মানুষের।

এদিকে কিচ্ছাপালা আগের মত এখন আর অনুষ্ঠিত হয়না, কিন্তু এই লোকজ সংস্কৃতিকে ধরে রাখার কথা বলেন স্থানীয় বয়াতিরা। বর্তমানে ডিজিটাল সংস্কৃতির এই যুগে বিলুপ্তপ্রায় বাংলার লোকসংস্কৃতি তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে এগুলোকে ধরে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ফরিদপুরের বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীর বয়াতি ও বাউলগণ।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »