শৈত্য প্রবাহে কাহিল নীলফামারীর জনজীবন

Feature Image

জেলা প্রতিনিধি, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

নীলফামারী  থেকে আব্দুর রাজ্জাক:  শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে নীলফামারীতে। গত মঙ্গবার রাত হতে শুরু হওয়া ঘন কুয়াশার সাথে উত্তরের হিমেল বাতাস আর কনকনে শীতে জবুথুবু হয়ে পড়েছে এখানকার লোকজন। আর এই কনকনে শীতে চরম দূর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া দরিদ্র মানুষ। তীব্র শীতের কারণে খেটে খাওয়া মানুষজন কাজে যেতে না পেরে নিদারুন কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। শৈত্য প্রবাহ আর ঘন কুয়াশার কারনে আজ শনিবার সারা দিনে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি।

দিনের বেলাতেও কুয়াশার কারনে ভারী যানবাহনগুলো হেড লাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। রাস্তা-ঘাটে লোকজন চলাচল কমে গেছে। প্রয়োজন ছাড়া লোকজন ঘরের বাহিরে বের হচ্ছে না। গ্রামে ও হাট-বাজার গুলোতে দেখা দেছে লোকজন খড়-কুটে জ্বালিয়ে শীত নিবারনের চেষ্টা করছেন। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান ও ট্রেন চলাচলের সিডিউলের বিপর্যয় ঘটছে। ঘন কুয়াশার কারনে সৈয়দপুরে বিমান চালকদের নির্দিষ্ট দৃষ্টিসীমা দুই হাজার মিটারের মধ্যে না থাকায় ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে বিমান চলাচলে প্রায়ই বিঘœ ঘটছে।

রাতের বেলায় চলাচলকারী ট্রেনগুলো কুয়াশার কারনে গন্তব্য পৌছাতে ২ থেকে ৬ ঘন্টা দেরী হচ্ছে। গত দু’দিনে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ট্রেন সীমান্ত এক্সপ্রেস নীলফামারী স্টেশনে ৬ ঘন্টা দেরীতে পৌছে। ঢাকা-চিলাহাটি রেলপথের নীলসাগরসহ অন্যান্য ট্রেনগুলো ২ ঘন্টা দেরীতে চলাচল করছে। সৈয়দপুর স্টেশন মাস্টার রেজাউল করিম জানান, ঘন কুয়াশার কারনে ট্রেনের গতি প্রতি ঘন্টায় ১০০ কিলোমিটার থেকে নেমে ৬০ কিলোমিটারে চালাতে গিয়ে সময়ক্ষেপন হচ্ছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে সড়ক পথেও। একে তো রাস্তার বেহাল দশা, তার ওপর ঘন কুয়াশা। ৭ ঘন্টার পথ এখন ১৪ ঘন্টাতে পৌছাতে পারছে না। শীতের তীব্রতায় বেড়েছে শীতজনিত রোগের।

গত ৫ দিনে নীলফামারীর ছয়টি উপজেলা হাসপাতালে তিন শতাধিক ডায়রিয়া রোগী ভতি হয়েছে। এদের মধ্যে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশী। শীত নিবারন করতে গরম কাপড় সংগ্রহে নিম্ন আয়ের মানুষরা পৌরসভা মাঠের পুরানো কাপড়ের বাজারে ভীড় করছেন। এদিকে শীতের তীব্রতার কারণে শীতজনিত রোগের প্রার্দুভাব বেড়েছে। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশী আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »