ইবির সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে কাঁদলেন স্ত্রী!

Feature Image

 

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ সমাবর্তনে আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ মজার কিছু কথায় সমাবর্তন স্থলে হাসির রোল পড়ে যায়।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘কুষ্টিয়ার প্রতি আমার একটা অন্য আকর্ষণও ছিল, যার জন্য আমাকে আসতে হয়েছে। সারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করছে, থাকছে।

আমারও এই কুষ্টিয়ায় চার মাসের কয়েক দিন বেশি থাকার সুযোগ এবং সৌভাগ্য হয়েছিল।’

কুষ্টিয়ার থাকার সময়কার স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘১৯৭৬ সাল। আমি ময়মনসিংহে সাত মাস জেল খাটার পরে আমাকে ট্রান্সফার করল এই কুষ্টিয়াতে। কুষ্টিয়াতে আসলাম।

এখানে আরেকটা মজার এবং তরতাজা খবর আছে। জাফর সাবতো (সমাবর্তন বক্তৃতা করেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল) সুন্দর কইরা বলতে পারে, আমি তো এত সুন্দর কইরা বলতে পারি না।

কারণ উনারা তো মাস্টোর মানুষ। লেখাপড়া ভালো জানে। আর আমি ছাত্র হিসাবে ছিলাম একেবারে রামছাত্র। এত সাজায়ে গুছায়ে বলার দক্ষতা আমার নাই।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘যাই হোক, ১৯৭৬ সালের ১৩ জানুয়ারি আমার একটা কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করেছিল। অবশ্য এর পূর্বেও তিনটা পুত্রসন্তান ছিল। কন্যাসন্তান জন্ম নেবার দুই মাস ৫–৭ দিন পরেই আমাকে গ্রেপ্তার করা হলো। এই বক্তব্যের সময় রাষ্ট্রপতির স্ত্রীকে বার বার চোখ মুছতে দেখা যায।

গ্রেপ্তার করার পর ময়মনসিংহ থেকে কুষ্টিয়া আসলাম। আমার স্ত্রী সাধারণত কোনো সমাবর্তনে যান না। এবারই তিনি প্রথম আসিয়াছেন (কুষ্টিয়া সমাবর্তনে)।’ তিনি বলেন, ‘অনেক সতর্কতার সঙ্গে জেলখানা থেকে চিঠি লিখতাম।

জেলখানা থেকে চিঠি লিখলে সেন্সর করে দেওয়া হয়। আসলে কেটেকুটে সেন্সর করে দিত। কন্যার নাম রাখার জন্য চিঠি লিখলো (স্ত্রী)। অনেক চিন্তাভাবনা করে কইলাম কী নাম রাখবো, কারও সঙ্গে পরামর্শ করারও সুযোগ নাই।

শেষ পর্যন্ত চিন্তা করলাম, এই কুষ্টিয়া ব্রিটিশ সময়ে ছিল নদীয়া জেলার। মেয়ের নাম নদীয়া করে দাও। সুতরাং যে জেলাতে বসে মেয়ের নাম রাখছি, সেই ইন্টারেস্টে মেয়েও এখানে আইসা পড়ছে।’

রোববার দুপুরে ক্যাম্পাসে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যের বাইরেও প্রায় দশ মিনিট কথা বলেন তিনি।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান, সমাবর্তন বক্তৃতা দেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুহম্মদ জাফর ইকবাল।

স্বাগত বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-উর-রশিদ আসকারী। বক্তব্য দেন সহ–উপাচার্য শাহিনুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ সেলিম তোহা।

আরো খবর »