আসছেন মুসল্লিরা : বিশ্ব ইজতেমা কাল থেকে শুরু

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

গাজীপুর: আগামীকাল থেকে ঢাকার উপকণ্ঠে টঙ্গীর কহর দরিয়া খ্যাত তুরাগ নদের তীরে শুরু হচ্ছে বিশ্ব তাবলিগ জামাতের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। ইজতেমাকে সামনে রেখে হাজার হাজার মুসল্লির পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে তুরাগ তীর। নেওয়া হয়েছে ৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দুই পর্বের আখেরি মোনাজাতে টহল দেবে হেলিকপ্টার। এরই মধ্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে তাবলিগ অনুসারী মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে জড়ো হচ্ছেন।

১২ জানুয়ারি ইজতেমা শুরু হলেও গতকাল থেকেই ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিরা আসতে শুরু করেছেন। তবে ভারতের শীর্ষ মুরব্বি মওলানা সাদকে নিয়ে কিছুটা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে সড়ক অবরোধের মতো ঘটনাও ঘটেছে। কাল আম-বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। আগামী ১৪ জানুয়ারি দুপুরে অর্থাৎ জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমার প্রথম পর্বের সমাপ্তি ঘটবে। এরপর চার দিন বিরতি দিয়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি শুরু হবে দ্বিতীয় পর্ব। আগামী ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দুই পর্বের আয়োজন। এরই মধ্যে ইজতেমার সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মুসল্লিদের অবাধ প্রবেশ নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা তুরাগ নদে ৯টি ভাসমান পন্টুন সেতু নির্মাণ করেছেন। ১৬০ একর জমির ওপর নির্মিত সুবিশাল প্যান্ডেলের কাজ, খুঁটিতে নম্বর প্লেট, খিত্তা নম্বর, জুড়নেওয়ালি জামাতের কামরা, তাশকিল কামরা, হালকা নম্বর বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। মুসল্লিদের সুষ্ঠুভাবে বয়ান শোনার জন্য পুরো মাঠে শব্দ প্রতিধ্বনি রোধক প্রায় ৩০০টি বিশেষ ছাতা মাইক স্থাপন করা হয়েছে। তবে যে সব দেশে জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে সেসব দেশের নাগরিকদের ইজতেমায় অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা জোরদার : গতকাল ভারতের মাওলানা সাদের আগমনকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ইজতেমার মাঠে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফলে টঙ্গীর ময়দানসহ আশপাশের এলাকার আইনশৃঙ্খলা জোরদার করা হয়েছে। ৫ সেক্টরে ভাগ করে ৪ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া ইজতেমার ময়দানসহ আশপাশের এলাকায় সাদা পোশাকেও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আজ থেকে প্রায় ১২ হাজার পুলিশসহ র‌্যাব, সাদা পোশাকধারী বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য মোতায়েন করা হবে। নিরাপত্তা জোরদার করতে র‌্যাবের কমিউনিকেশন উইংয়ের পক্ষ থেকে ১৮টি প্রবেশপথসহ চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা। এ ছাড়াও থাকছে মেটাল ডিটেক্টর, বাইনোকুলার ও নাইটভিশন গগল্স। প্রতিটি খিত্তায় বিশেষ টুপি পরিহিত ও সাদা পোশাকধারী দুজন করে গোয়েন্দা সদস্য অবস্থান করবেন। তারা ইজতেমা মাঠসহ আশপাশের কোথায় কী হচ্ছে না হচ্ছে প্রত্যক্ষ করার জন্য কম্পিউটারের স্ক্রিনে সার্বক্ষণিক নজর রাখবেন। বিভিন্ন স্থানে বসানো র‌্যাবের ৯টি ও পুলিশের ৫টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে পর্যবেক্ষক দল সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবে। দুই পর্বের আখেরি মোনাজাতে টহল দেবে র‌্যাবের হেলিকপ্টার।

যোগাযোগ ব্যবস্থা : এ বছর দুই পর্বেই বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা থাকবে। এর জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ইজতেমার আগের দিন থেকে ৪টি বিশেষ ট্রেন ছাড়াও ‘আখেরি মোনাজাতের দিন ঢাকা-টঙ্গী, টঙ্গী-ঢাকা-আখাউড়া-ময়মনসিংহ-ইশ্বরদীতে ১৫টি ট্রেন চলাচল করবে। ইজতেমার মুসল্লিদের জন্য ট্রেনে ওজু, নামাজ পড়াসহ সব ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপরদিকে বিআরটিসির পক্ষ থেকে প্রায় ১০০ বাস দেওয়া হয়েছে।

চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম : টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, টঙ্গী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালকে ইজতেমার জন্য অস্থায়ীভাবে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়েছে। মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, ১টি হৃদরোগ ইউনিট, ১টি বক্ষব্যাধি/অ্যাজমা ইউনিট, ১টি ট্রমা (অর্থোপেডিক) ইউনিট, ১টি বার্ন ইউনিট, ১২টি স্যানিটেশন টিম এবং ১২টি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা : ইজতেমার ময়দান ও আশপাশের এলাকায় সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সরবরাহের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। হঠাৎ কোনো কারণে ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বদল করা যায় এ জন্য ৫টি ট্রলি ট্রান্সফরমার রাখা হয়েছে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ব্যবস্থা হিসেবে চারটি জেনারেটর সব সময় প্রস্তুত থাকবে। ইজতেমা আয়োজক কমিটির শীর্ষ মুরব্বি প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইজতেমা ময়দানের প্রস্তুতির কাজ ১০০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারী ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ময়দানে স্ব-স্ব খিত্তায় এসে অবস্থান নিচ্ছেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »