লন্ডন শহরের নিচে প্রাচীন রোমান মন্দির

Feature Image

প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের অবসান ঘটেছে ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে, বর্বর জার্মান গোত্রগুলোর আক্রমণে। তবে ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে তৃতীয় শতক থেকে পঞ্চম শতক পর্যন্ত প্রসার ঘটেছিল রোমান দেবতা মিথ্রাসের মন্দির। এসব অঞ্চলে থাকা মিথ্রাসের ৪০০ মন্দিরের একটির সন্ধান মিলেছিল ৬৪ বছর আগে লন্ডন শহরের নিচে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত লন্ডনের ওই রাস্তার সাত মিটার নিচে ১৯৫৪ সালে মন্দিরটির সন্ধান পাওয়ার পর সেটি নিয়ে দারুণ কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছিল লন্ডনবাসীর মধ্যে।

ছয় দশক পরে সেই মন্দিরটিকে-ই সংস্কার করে দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। মিথ্রাসের প্রবর্তন করা প্রাচীন এই ধর্ম রহস্যে ঘেরা। রোমের সেই সময়ের সেনা, ব্যবসায়ী, এবং উচ্চ পদস্থ সরকারী পুরুষ কর্মচারীরাই মূলত এসব মন্দিরের দায়িত্বে থাকতো। ধারণা করা যায়, এসব মন্দিরে নারীদের প্রবেশে অনুমতি ছিল না। তবে এই মন্দিরে ঠিক কী হতো সে সম্পর্কে এখনো কারো কোনো জ্ঞান নেই।

মিথ্রাসের বেশিরভাগ মন্দিরে একটি মূর্তি দেখতে পাওয়া যায়, সেটি হলো মিথ্রাস দেবতা একটি ষাড়ের পিঠে চড়ে বড় ছোরা দিয়ে পেছন থেকে এক হাত দিয়ে টেনে ধরে এটির গলা কাটছেন। অনেকের বিশ্বাস, এইসব মন্দিরে নানা ধরনের উৎবের আয়োজন করা হতো যেখানে ধর্মীয় আচার প্রথার দীক্ষা, চর্চা, পশুবলি হতো এমনকি ভোজ, পানাহারের বিষয়ও থাকতো। মিথ্রাসের অন্যান্য মন্দিরের মতো লন্ডনের এই মন্দিরটিতে রোমান দেবতাদের বেশ কয়েকটি মূর্তি পাওয়া যায়, যার মধ্যে মিথ্রাসের একটি মাথার মূর্তি ছিল।

প্রায় দুই হাজার বছর আগের সেই মন্দিরটি আবারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে। তবে তা শুধু ঘুরে দেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। পুরনো মন্দিরের কাঠামো ঠিক রেখেই আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে সংস্কার করা হয়েছে মিথ্রাসের মন্দিরটি। মন্দিরে রয়েছে মিথ্রাসের ষাড়ের গলা কাটার সেই প্রতিমাসংক্রান্ত দৃশ্যও।

গত বছরের নভেম্বরে মন্দিরটি উদ্বোধনের পর থেকে প্রতিদিন ছয়শর মতো দর্শনার্থী সেখানে বেড়িয়েছে। কৃত্রিম আলোয় আলোকিত এই মন্দিরে ঢুকে আস্তে আস্তে কথা বললেও সেটি প্রতিধ্বনিত হয়ে গমগম করে ওঠে পুরো কক্ষটি। বিশ্বাস আর একটু মনোযোগ দিয়ে কান পাতলে রহস্যময় মিথ্রাসকে অনুভব করলেও করতে পারেন কেউ কেউ। সূত্র : বিবিসি

আরো খবর »