ফুচকা পর্ব ১১- দেবশ্রী চক্রবর্তী

Feature Image

 

 

ধনা স্যারের বাড়ীতে বিয়ের সানাই বেজেছে , আজকাল এই পাড়ায় সবার মুখে মুখে ঘুরপাক খাচ্ছে ধনা স্যার আর চিনু দিদিমনির বিয়ের কথা । রঙ্গ রসিকতা থেকে আরম্ভ করে সহানুভূতি তথা সমবেদনারো অভাব নেই মানুষের মুখে । মধ্যাকথা আজকাল পাড়ার সবার মুখে মুখে মুখসুদ্দির মতন মুখোরচক এই খবর । বিয়ের সাত দিন আগের থেকে কুকুরদের পাত পেরে খাওয়ানো হচ্ছে স্যারের বাড়ীর সামনের রাস্তায় । এলোমেলো এভিনিউতে আজকাল সকাল থেকে কুকুরদের উপদ্রোপে সাধারন মানুষের অস্থির অবস্থা । এক একদিন এক এক রকম খাবার দেওয়া হচ্ছে তাদের । কুকুরদের মুখে মুখে খবর পেয়ে ভিন পাড়ার কুকুররাও হাজির হয়েছে স্যারের বিয়ের ভোজ খেতে । ধনা স্যার রাস্তায় দাঁড়িয়ে কুকুরদের খাওয়া দেখে আর দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভাবে , বাবা মায়েরা , তোমরা আমাদের আশীর্বাদ করো আমরা যেন সুখী হই । এলোমেলো এভিনিউয়ের এ প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত কুকুরদের ভোজ পরিচালনা করছে কালু আর তার বৌ টুকটুকি । টুকটুকি হাতায় করে খাবার পাতে ঢালে আর পলকের মধ্যে সেই খাবার শেষ করে কুকুর গুলো মুখ তুলে আওয়াজ দেয় উউউউউউউ । ব্যাস , ধনা স্যারও আওয়াজদেন, ওরে টুকটুকি আরো দে, যতক্ষন না ওদের আশ মিটছে দিয়ে যা । টুকটুকি মনে মনে ভাবে, মানুষ খেতে পারছে না, কুকুরদের খাওয়ানোর ঠেলা দেখো । টুকটুকি মনের কথা মনে রেখে হাসি মুখ করে পরিবেশন করতে করতে বলে , আর কত গিলবি , এবার আমায় রেহাই দে ।

বাড়ির সবাই বিয়ের আনন্দে মেতে থাকলেও ডেলোর মনে আজকাল শান্তি নেই । কারুর পৌষ মাস তো কারুর সর্বোনাশ । গত তিন দিন ধরে সে প্যান্ডেলের কাপড় সারা শরীরে জড়িয়ে বাঁশের স্তুপের মধ্যে বসে আছে ।ডেলোর ভেতরটা জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে , টমটম এই বাড়িতে আসার পর থেকে তার জীবনটাই বদলে গেছে , কেলতো, ঘেয়ো , কঞ্চি যাদের একসময় পথ দেখিয়ে এ বাড়ীতে নিয়ে এসেছিল সে , ডেলোর এক ঘেউতে যাদের মাথা শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যেত, তারা আজকাল তাকে নিয়ে তামাশা করে । কিন্তু ঝিলিক , সে কি করে এরকম ব্যাবহার করে ডেলোর সাথে । কথা গুলো ভাবতে ভাবতে ডেলোর চোখে জল এসে গেলো । সন্ধ্যা ঘনিয়ে রাত নামে বাগানে । রোজরাতে এই বাগান মায়াবী আর ধোয়াময় হয়ে ওঠে । আজও ডেলোর শরীরটা কেমন যেন ঝিম ঝিম করছে । ধনা স্যারের ড্রাইভার পাচু এই সময় কলা গাছের নীচে বসে একটা মাটির টোপরের মতন জিনিসে টান দেয় আর তার থেকে ধোয়া সারা বাগানে ছড়িয়ে পরে । কিছুক্ষন টান দেবার পর সে জিনিসটা কলা গাছের নীচে লুকিয়ে আবার চলে যায় । এক হাত দূরে কলা গাছের নীচ থেকে ধোয়াটা বাঁশের গাদার মধ্যে এসে ডেলোর চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে । ডেলোর মনে অদ্ভুত এক শিহরন জেগে উঠছে । হঠাৎ একটা ডিগবাজি খেয়ে ডেলো উঠে দাড়িয়ে এক লাফে পৌছে গেলো কলা গাছের নীচে । কল্কে থেকে ধোয়া বের হয়ে সোজা ঢুকছে ডেলোর নাকে । আহা, কি সুন্দর গন্ধ, ডেলো চোখ বন্ধ করে একবার গন্ধটা নিয়ে, কান দুটো খাড়া করে কিছু একটা শোনার চেষ্টা করল । তারপর বীরের মতন ছুটে গিয়ে কলকেটা মুখে তুলে নিলো । ডেলোর এসবে অভ্যেস নেই , তাই প্রথমে এমন বিশম খেলো যে ডেলোর দুটো চোখ মাথায় উঠে যাবার মতন অবস্থা হল । । বিশমের ঠ্যালায় কিছুক্ষন বাগানে ছোটাছুটি শুরু করল সে । ছুটতে ছুটতে নিজেকে বেশ ফূর্তীবাজ বলে মনে হল তার । কিছুক্ষন নিজের লেজ ধরবে বলে লেজের পেছনে ঘুরপাক খেতে লাগল, তারপর পটলদার ব্যাম সমিতির ঘন্টার আওয়াজ শুনে সে কিছুক্ষন থেমে দাড়িয়ে কি সব ভাবতে থাকল । তারপর মাথা নীচু করে বুকে হেটে কলা গাছের নীচে এসে মাটিতে মুখ লাগিয়ে কল্কেতে আবার টান দিলো সে । ডেলোর এই সব কীর্তী কলাপ দেখলে যেকোন মানুষ তাকে কমান্ডো ট্রেনিং প্রাপ্ত কুকুর ভাববে । ডেলো নিজেও জানে যে তার মধ্যে অনেক রকম প্রতিভা থাকলেও ধনা স্যারের বাড়িতে এসে তার সর্বোনাশ হয়ে গেলো । ডেলো নিজেকে সুপার ডগ ভাবতে শুরু করল ।

রাত আটটা নাগাদ পটলা দার ব্যামসমিতিতে সমাপ্তির ঘন্টা বাজে ওঠে । ডেলো কান খাড়া করে ঘন্টার শব্দ শুনে ছুটে যায় গেটের সামনে । এই সময় পাড়ার পঞ্চু দা, বাচ্চু দা, ছোটন দারা চকচকে শরীর নিয়ে দল বেধে ব্যাম সমিতির সামনে কিছুক্ষন আড্ডা দেয় । আজও তার ব্যাতিক্রম হল না । বাচ্চুদা পঞ্চা দাকে বলল ,

পঞ্চা একটু ফুক দিতে ইচ্ছা করছে, বার করো গুরু ।

পঞ্চুদা তার কানের ওপর থেকে একটা বিড়ি বারকরে জ্বালিয়ে দেয় বাচ্চুকে । বাচ্চুদা বিড়িতে টান দিচ্ছে । বাচ্চু দাকে বিড়িতে টান দিতে দেখে ডেলো আনন্দে চার পায়ে লাফাতে থাকে । বাচ্চুদার বিড়ি মাঝে মাঝে টুনি লাইটের মতন জ্বলে উঠছে আর তার থেকে ধোয়া বের হচ্ছে । ডেলোর মনে হল বিড়ির গন্ধটা তার কল্কের গন্ধের চেয়েও বেশ কড়া । ডেলো মাথাটা একবার ঝাকিয়ে নিয়ে বু…… করে একবার ডাক ছাড়ল ।

কালুদারা ডেলোকে ধনা স্যারের গেটের সামনে দেখে বলল, ডেলোটা বেশ মিশুকে আছে তাই না । আমাদের সাথে মিশতে চায় ।

বাচ্চুদা বিড়িতে টান দিয়ে বলল, চু চু …। ডেলো বাবাজি এদিকে এসো দেখি । তোমার থোবড়াটা অনেক দিন দেখি না ।

ডেলো ভাবলো বাচ্চুদা বোধয় তাকে বিড়ি খাওয়াবে বলে ডাক দিলো । দোষটা ডেলোকে দেওয়া যায়না । কারন ধনা স্যারের বাড়িতে কুকুরদের খেতে দেওয়ার আগে চু চু করে মুখে আওয়াজ করে আমন্ত্রন জানানো হয় । ডেলো এক লাফে রাস্তা পারকরে পৌঁছে গেলো ব্যাম সমিতির সামনে । তারপর বাচ্চুদার সামনে দাঁড়িয়ে লেজ নাড়াতে লাগল । বাচ্চু বিড়ির ধোয়া ছাড়ছে, আর ডেলো আলহ্বাদে আধখানা হয়ে লেজ নাড়িয়েই চলেছে । মাঝে মাঝে জিভ দিয়ে মুখটা চেটে নিচ্চে ।

গাজাতে বেশ কয়েকবার টান দেওয়ার ফলে ডেলোর মাথার ঠিক নেই আজ । বাচ্চুদা তাকে চু চু করে ডেকেও বিড়ি খাওয়ালো না দেখে ডেলোর খুব রাগ হলো । সে লেজ নাড়ানো থামিয়ে বু… বু… করে গর্জে উঠে দাত খিচিয়ে উঠল । ডেলোর এই রূপ দেখে বাচ্চুর মুখ থেকে বিড়িটা পরে গেলো রাস্তায় । সঙ্গে সঙ্গে ডেলো পাক খেয়ে এক লাফে বিড়িটা মুখে তুলে টান দিতে থাকল । কুকুরকে এভাবে বিড়ি খেতে দেখে রাস্তায় লোক জড়ো হয়ে গেলো ।

এমন সময় বুদনের ঠাকুমা তার ষাড় ভোলাকে খুঁজতে ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল, সে ডেলোকে এক দেখাতেই চিন্তে পেরে বলল,

ম্যা গো , কি দিন কালই না পড়েছে আধবুড়োর বিয়ে হচ্ছে, কুকুর নেশা করছে । ঘোর কোলি … ঘোর কোলি ।

এলোমেলো ক্লাবের ভাই প্রেসিডেন্ট ফটকা দা ঠাকুমা কথা শুনে আওয়াজ দিলো , ঠাকুমা… এই বয়েসে হবে নাকি আরেক বার ?

ঠাকুমা মুখ বেকিয়ে বিড়বিড় করে কি বলে আবার চলল ভোলাকে খুঁজতে ।

এলোমেলো ক্লাবের পুকুর ধারে বোম ফাটিয়ে কেল্টো দাদের বাড়ী শুরু হল কালি পূজা । কেল্টোদের গাভী বকুলী সাত সাতটা এড়ে বাছুরের পর গত মাসে একটা বকনা বাছুরের জন্মদিয়েছে । চাঁদমুখ বকনাকে দেখে কেল্টো দার মা বলেছিল, মা এত দিন পর মুখ তুলে তাকিয়েছেন । ওরে কেল্টো যা বাবা জোড়া পাঠা নিয়ে আয় , মায়ের ভোগে দেবো । দাত ভায়ের পর বোনের নাম রাখা হল চম্পা ।

ব্যাস, যেই কথা, সেই কাজ । মায়ের কথা মতন এলাহি পুজোর ব্যাবস্থা করেছে কেল্টো দা ।

পুকুর ধারে বসে সেই সকাল থেকে ঝিলিক আর টমটম পাহারা দিয়ে চলেছে পাঠা দুটোকে । কেল্টো দা আর যাই হোক বেইমান না । পাঠা মাংসের ভাগ ঠিক পাবে তারা । পাঠার মাংসের ঝোলের কথা ভাবছে আর টমটম গা চেটেই চলেছে । মাঝে মাঝে পাঠা দুটো ম্যা ম্যা করে উঠলে টমটম দাত খেচিয়ে তেড়ে যাচ্ছে ওদের দিকে । আর ঝিলিক বসে বসে মশা তাড়াচ্ছে । এত কষ্ট করার অভ্যেস ওর নেই । পিসিমার খাটের নীচে ঝিলিকের বিছানা । কাশীর বিশ্বনাথের মন্দিরের বাইরে ঝিলিককে খুজে পেয়েছিল পিসিমা । সাদা রঙের ঝিলিকের মধ্যে নন্দীর প্রতিচ্ছবি দেখতে পেয়েছিলেন তিনি ।নিজের ঝোলার মধ্যে ঢুকিয়ে নিয়ে এসেছিলেন এ বাড়ীতে । এই বাড়ীর মহিলা সদস্য বলতে পিসিমা আর ঝিলিক । বাড়ির পুরুষ সদস্যরা ওদের বেশ সমিহ করে চলে । পিসিমা খাটের নীচে বস্তা দিয়ে বিছানা করে দেয় ঝিলিককে । ঘরে মশার ধূপ জ্বলে তাই মশা মাছির কোন উপদ্রোপ নেই ।

এই টমটমের সাথে বন্ধুত্ব হওয়ার পর থেকে বেশ বেহিসেবি জীবন জাপন করে চলেছে ঝিলিক । কিন্তু তার মতন একজন ঘরোয়া মেয়ের বেশি দিন এরকম জীবন ভালো লাগে না । একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে পুকুরের জলের দিকে তাকালো ঝিলিক । পিসিমা কত সাধ করে লক্ষ্মী পূর্নীমার দিন ডেলোর সাথে মালা বদল করিয়েছিল ঝিলিকের । ডেলোর ডান হাত তুলে পিসিমা সিঁদুরে ডুবিয়ে ঝিলিকের সীঁথিতে পরিয়ে দিয়েছিল । তারপর ডেলোকে বলেছিল ,

বাবা ডেলো , ঝিলিকের সব দায়িত্ব আজ থেকে তোমার হাতে তুলে দিলাম । ডেলো মাথা নত করে তা গ্রহন করেছিল । সিঁড়ির তলায় পিসিমা ছেড়া কাঁথা পেতে বাগানের ধুতরো ফুল ছিটিয়ে ফুলসয্যার ব্যাবস্থা করেছিল ওদের । কিন্তু এই টমটমের জন্য সব কিছু কেমন যেন হয়ে গেলো । কথা গুলো ভাবতে ভাবতে ঝিলিক খুব ভাবুক হয়ে উঠছিল ।

কেল্টো দাদের বাড়ীতে ঢাক বেজে উঠতেই টমটম বু… করে চিল্লে উঠলো ।

কেল্টো দাদের বাড়ীর পুজোতে সারা পাড়ার নিমন্ত্রন । পূজো আরম্ভ হয়ে গেলেও কেউ পুজো বাড়ীতে পৌঁছতে পারছে না । সবাই ধনা স্যারের বাড়ীর সামনে এসে দাঁড়িয়ে পরছে ডেলোর সার্কাস দেখে ।

পাড়ার দাদারা পয়সা দিয়ে নন্দর দোকান থেকে বিড়ি কিনে ডেলোর মুখে এনে ধরছে । একটা শেষ হচ্ছে আরেকটা ধরিয়ে দিচ্ছে । ধনা স্যারের ছাত্ররা আওয়াজ দিচ্ছে , আরে ধনা দা কুকুরকে সার্কাস শিখিয়েছে দ্যাখো ।

আরেক জন প্রাক্তন ছাত্র বলল, সংসার বাড়ছে, তাই চালাকি করে রোজগারও বাড়িয়ে ফেলছে । গাটুর বুদ্ধি আচে ।

একদিকে যখন কেল্টো দাদের বাড়ীতে পুজোর বাদ্যি বেজে উঠেছে, আরেকদিকে ডেলো সার্কাস দেখাচ্ছে ঠিক তখন ন দাদু কেল্টোদের পুজোতে আসবে বলে বাড়ী থেকে বেরিয়েছে । ভেলোর মেয়ে বুজির বিয়েতে নমস্কারী সিহেবে সে পেয়েছে একটা লাল ধূতি আর পাঞ্জাবী । সেই লাল ধূতী আর পাঞ্জাবী পরে সে এগিয়ে চলেছে পুজো বাড়ীর দিকে । পাঞ্জাবীটা ন দাদুর থেকে প্রায় দুই সাইজ বড় । দাদু অভ্যেস মতন হাটুর ওপর পর্যন্ত ধূতীটা পরেছে । দূর থেকে মনে হচ্ছে যেন একটা লাল রঙের পর্দা কাঁপতে কাঁপতে পথ দিয়ে এগিয়ে চলেছে ।

পুজোর বাজনা কানে আসতেই দাদু পরি কি মরি হয়ে ছুটতে লাগলো, কারন দাদুকে কেল্টো বলেছে জোড়া পাঠা দিয়ে মায়ের ভোগ হচ্ছে আর যা হাবাতে প্রতিবাশী সব , সাত সকালে গিয়ে সব পাত পেরে বসে পরবে ।

এলোমেলো এভিনিউ এর মুখে শম্ভুর সবজীর দোকান । শম্ভু মহাদেবের ভক্ত, ষাঁড়

দেখলে সে ভালো ভালো সবজী তুলে দেয় তার মুখে । বুদনের ঠাকুমার ষাঁড়

ভোলা আজ মনের সুখে সেখানে দাড়িয়ে সবজী খাচ্ছে । শম্ভুর দোকানের বাল্বের আলো চোখে এসে পরায় খুব বিরক্ত হয়ে দু বার ফোস ফোস করে আওয়াজ ছাড়লো সে । এমন সময় সে তার ডান চোখ দিয়ে দেখতে পেলো একটা লাল পর্দা এগিয়ে চলেছে । একে বাল্বের আলো তার ওপর লাল রঙ দেখে ভোলার মাথা গরম হয়ে গেলো । সে খাওয়া থামিয়ে ডান দিকে ঘুরে দাড়িয়ে সামনের পা দুটো মাটিতে ঘসে দু বার ফোস ফোস করে ছুট দিলো ।

ধুপধাপ শব্দ পেয়ে ন দাদু পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখে তার আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেলো । সেও ছুট দিলো । ষাঁড়

আর ন দাদুকে ছুটে আসতে দেখে ধনা স্যারের বাড়ীর সামনের রাস্তা ফাকা হয়ে গেলো । এলো মেলো ক্লাবের পুকুর ধার দিয়ে একটা লাল পর্দা ছুটে চলেছে , তার পেছনে ভোলা ষাঁড় আর ষাঁড়ের

পেছনে ডেলো ছুটে চলেছে । ডেলোকে আর দোষ দিয়ে কি হবে । সবাইকে ছুটতে দেখে সেও ছুট দিয়েছে । এর পেছনে অন্য কোন কারন আর না খোজাই ভালো । বুদনের ঠাকুমা পুজো বাড়ির সামনে একটি ছেলেকে দাড় করিয়ে শুধু উচ্চারন করেছে, খোকা আমার ভোলাকে… । কথাটা শেষ হবার আগেই একটা লাল পর্দার মতন কি ঢুকে পরল পুজো বাড়ীতে, আর তার পেছনে ভোলা তীরের মতন ছুটে গেলো আর তার পেছনে সেই কুকুরটা । ঠাকুমার মুখ দিয়ে আর কথা বের হল না । সে হা হয়ে গেলো । ঠাকুর মশাই ভয় পেয়ে জয় মা বলে মায়ের মূর্তীর পেছনে লুকিয়ে পড়ল । উঠন থেকে সবাই সরে গিয়ে বাড়ির ভেতর ছুট দিলো । সবাই সরে গেলেও রাতকানা ঢাকি সরলো না, সে বাজিয়েই চলল । ঢাক বাজছে ন দাদু দৌড় বীরের মতন ছুটে চলেছে আর তার পেছনে ষাঁড় আর ডেলো । এ এক অদ্ভূত দৃশ্য । বাড়ীর ভেতর থেকে একটা ছেলে বলল, কেল্টো দাদের বাড়ীতে প্রতিবার এসে নতুন কিছু দেখি , এবার যে স্পেনের বুল ফাইট দেখতে পাবো তা সত্যি ভাবতে পারি নি । এদিকে গন্ডো গোলের গন্ধ পেয়ে টমটম ঝিলিককে রেখে কেটে পরলো । ঝিলিক যেন ডেলোর গলার আওয়াজ পেলো মনে হল । এই গন্ডোগোলের মধ্যে ডেলোর আওয়াজ পেয়ে ঝিলিক ছুটে গেলো মন্ডপে । এদিকে দৌড়তে দৌড়তে মন্ডপের সামনে ঝিলিককে দেখতে পেয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল । ন দাদু বুঝতে পারে নি সামনে একটা কুকুর দাঁড়িয়ে আছে, সে কুকুরের সাথে ধাক্কা খেয়ে এক ঢিগবাজি মেরে উঠে গেলো দোতলার সানসেটে । নদাদুর ধাক্কায় ডেলো ছিটকে গিয়ে পড়ল পুকুর ধারে । ভোলা একা একা কিছুক্ষন দৌড়ে হাফাতে হাফাতে বসে পরল উঠানের মাঝে । সব কিছু শান্ত হবার পর ঠাকুমা এসে ভোলাবে বাবা বাছা করে বুঝিয়ে চলল । কিন্তু সে তো বোঝার পাত্র নয় । সে ফোস ফোস করে বিরক্তি প্রকাশ করে চলল । এদিকে পুজোর সময় পার হয়ে যাচ্ছে দেখে ঠাকুর মশাইয়ের খোঁজ শুরু হল । কেল্টোদার ছেলে রুমাল লুকিয়ে ছিলো ঠাকুরের শেয়ালটার পেছনে । রুমাল বেরিয়ে এসে বলল,

জল নিয়ে এসো , ঠাকুর মশাই মূর্ছা গেছে দেখো ।

পূজোর বাড়ীর দিকে এগিয়ে আসছে পাড়া প্রতিবেশীরা । টমটম পুকুর এর এপাড়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখছিল । এমন সময় সে দেখল পুকুর জলে সাতার কেটে ডেলো আর ঝিলিক এগিয়ে আসছে এ পাড়ে । টমটম লুকিয়ে ছিলো কচু বনের আড়ালে । ঝিলিককে আসতে দেখে সে হিরোর মতন ছুটে গেলো ঘাটে । ঝিলিক আর ডেলো পাড়ে উঠে পাশাপাশি এগিয়ে চলল ধনা স্যারের বাড়ীর দিকে । টমটম বো… বো … করে দুবার ডাক ছাড়লেও ঝিলিক ফিরেও দেখল না তার দিকে । তারা এগিয়ে চলেছে বাড়ীর দিকে । স্যারের বাড়ী থেকে সানাইয়ের আওয়াজ ভেসে আসছে । কাল যে চিনু আর ধনার বিয়ে ।

আরো খবর »