ভর্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেম: জাবি শিক্ষার্থী বহিষ্কার

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

সাভার: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থী মোফসেনা ত্বাকিয়ার কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভর্তি চেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরেক শিক্ষার্থী মো. আল-আমিন হোসেন শাহেদকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিসিপ্লিন বোর্ডের মিটিংয়ের পর রাত ৯টার দিকে এক জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক।

মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের কাছে আল আমিনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে মোফসেনা ত্বাকিয়া বলেন, কলা ও মানবিক অনুষদের অপেক্ষমান তালিকা থেকে উপাচার্য কোটায় (মুক্তিযোদ্ধা) জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ভর্তি করানোর লোভ দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে আল-আমিন।

রেজিস্ট্রার আবু বকর সিদ্দিক জানান, জালিয়াতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থীর নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মামলা করবে।

বহিষ্কৃত ওই ছাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ৪২তম আবর্তনের ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

ভুয়া পরিচয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে এক বছর ক্লাস এবং পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ঘটনায় অভিযুক্ত মোফসেনা ত্বাকিয়াকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার অধিকতর অনুসন্ধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আক্তারকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বুধবারের সিন্ডিকেট সভা থেকে তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মোফসেনা ত্বাকিয়া ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সি ইউনিটে (কলা ও মানবিক অনুষদ) মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অপেক্ষমান ছিলেন। ভর্তি না হয়েও পরবর্তীতে ওই ছাত্রী জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে ৪৬ তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের সাথে এক বছর ক্লাস ও অনুশীলনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আসছিলেন। কিন্তু ক্লাসে তার কোন সঠিক রোল নম্বর ছিল না।

প্রথম বর্ষের পরীক্ষার ফরম পূরণ করতে গিয়ে কোন প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় তার জালিয়াতির বিষয়ে সন্দেহ হয় বিভাগ কর্তৃপক্ষের। তখন জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে পাঠান।

পরে প্রক্টর অফিসে জিজ্ঞাসাবাদে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি চেষ্টায় তার সাথে মো. আল-আমিনের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি উঠে আসে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »