জাতিসংঘ কমকর্তাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজস্ব দপ্তরে যৌন হয়রানি ও হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে জাতিসংঘ। একইসঙ্গে অভিযোগকারীদের এড়িয়ে যাওয়া এবং হামলাকারীদের দায়মুক্তির বিষয়টিও স্বীকার করেছে সংস্থাটি। শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জাতিসংঘের প্রায় অর্ধশত প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মী অভিযোগ করেছেন, সংস্থাটির মধ্যে যৌন হয়রানি ও হামলার অভিযোগের ব্যাপারে কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে নিশ্চুপ থাকার সংস্কৃতি রয়েছে। এছাড়া অভিযোগ ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে নির্যাতিতদের নিশ্চুপ থাকতে হয়।

সাক্ষাৎকার নেওয়াদের মধ্যে ১৫ জন জানিয়েছেন, তারা গত পাঁচ বছরের মধ্যে যৌন হয়রানি বা হামলার স্বীকার হয়েছেন অথবা এ বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তাদের এ অভিযোগের মধ্যে কটূক্তি থেকে শুরু করে ধর্ষণ পর্যন্ত রয়েছে। এদের মধ্যে সাত নারী তাদের সঙ্গে যা ঘটেছে সে ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে প্রচারণাকারীরা জানিয়েছেন, চাকরি হারানোর ভয় কিংবা অভিযোগ করে কিছুই হবে না সেই হতাশা থেকে অনেক নির্যাতিতাই এ ব্যাপারে অগ্রসর হতে চান না।

বিশ্ব স্বংস্থায় পরামর্শক হিসেবে কাজ করার সময় সুপারভাইজারে হাতে হয়রানির শিকার হয়েছেন এমন এক নারী বলেছেন, ‘আপনি যদি অভিযোগ করেন তাহলে আপনার ক্যারিয়ার একেবারেই শেষ, বিশেষ করে আপনি যদি পরামর্শক হন। এটা অনেকটা অব্যক্ত ব্যাপার।’

জাতিসংঘ অবশ্য অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, এ বিষয়গুলি উদ্বেগের। সংস্থার মহাসচিব অ্যান্টনিও গুতেরেস ‘যৌন হয়রানির অভিযোগের বিষয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছেন।’

১০টিরও বেশি দেশে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের কর্মীরা গার্ডিানের কাছে যৌন হয়রানির বিষয়ে কথা বলেছেন। ভিন্ন দপ্তরের তিন নারী জানিয়েছেন, তারা যৌন হয়রানি বা যৌন হামলার বিষয়ে অভিযোগ করেছিলেন। এরপর থেকে তাদেরকে অব্যহতি দিতে বাধ্য করা হয়েছে অথবা চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। হামলারীদের মধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও রয়েছেন। তারা সবাই এখনো স্বপদে বহাল রয়েছেন।

সংস্থার চার বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মী জানিয়েছেন, যৌন হামলার শিকার হওয়ার পর তারা চিকিৎসা সেবা অথবা পরামর্শ দেওয়া হয়নি। এদের মধ্যে একজন চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, হামলার পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে তিনি তিনিজন পৃথক গাইনি বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েছেন। কারণ হামলার পর জাতিসংঘের প্রথম মেডিক্যাল টিমটি এর আগে এ ধরণের বিষয় নিয়ে কাজই করেনি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »