‘বিপদ এড়াতে’ থানায় গরু জমা দিলেন মুসলিম নেতা

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আর্ন্তজাতিক  ডেস্ক:  ভারতে গরু মাংস ভক্ষণ, গরু পালন নিয়ে নানা ধরণের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন দেশটির মুসলমানরা। চলমান এই সমস্যার মধ্যে গরু নিয়ে সম্ভাব্য বিপদ এড়াতে পুলিশের সাহায্য চেয়েছেন বহুজন সমাজ পার্টির এক মুসলিম নেতা। এমনকি গরুটি থানায় জমা রাখতে গৃহপালিত পশুটি নিয়ে মীরঠের নৌচন্ডী থানায় হাজির হন তিনি।

আব্দুল গফ্ফর নামের ওই নেতার বক্তব্য, ‌‌’যেভাবে গরু পালন মুসলমানদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, তাই আমি গৃহপালিত এই জীবটিকে নিজের কাছে রাখতে অপারগ। সেজন্য থানায় জমা দিয়ে গেলাম।’

গফ্ফর বলেন, ‌’কয়েকদিন আগে কয়েকজন মুসলমান একজন হিন্দু পণ্ডিতের কাছ থেকে দুটো গরু কিনে ফিরছিল। রাস্তায় নিজেদের গোরক্ষক দলের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে কয়েকজন ওই মুসলমানদের পেটায়, তারপরে থানায় নিয়ে যায়। অনেক রাতে তারা ছাড়া পায়।’

তার মতে গোরক্ষকদের এ রকম হামলা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে নানা জায়গা থেকে। তাই একজন মুসলমান হয়ে গরু পালন করা বিপজ্জনক বলেই মনে হচ্ছে এখন তার কাছে।

দুবছর আগে নিজের দিদির কাছ থেকে ওই গরুটি তিনি উপহার হিসাবে পেয়েছিলেন। তিনি সেটিকে পালন করেছেন খাঁটি দুধ, ঘি পাওয়া যাবে বলে।

তিনি বলেন, ‘গরুটিকে আমি থানায় জমা করে এসেছি। এবার সেটা কোনও হিন্দু সংগঠন পালন করুক বা গোশালায় দিয়ে দেওয়া হোক, বদলে আমাকে একটা সার্টিফিকেট দিলেই হবে– যাতে মাঝে মাঝে আমি ওকে দেখতে যেতে পারি।’

মীরঠের পুলিশ অবশ্য বলছে, তারা গরুটিকে জমা নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটা আবার গফ্ফরকে ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ভারতের রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহারসহ ঝাড়খণ্ডের বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোকে বিগত তিন বছরে মুসলমানদের গরু নিয়ে যাওয়ার সময় বা গোমাংস খাওয়ার গুজব ছড়িয়ে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গোরক্ষকদের পিটুনিতে মারাও গেছে কয়েকজন মুসলমান।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »