দ্বিতীয় ধাপের জুমার নামাজেও লাখো মুসল্লি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

টঙ্গী: বাংলাদেশের মাওলানা ফারুক হোসেনের বয়ানের মধ্য দিয়ে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে শুক্রবার বাদ ফজর থেকে শুরু হয়েছে তাবলিগ জামাতের তিন দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় তথা শেষ পর্ব। দুপুরে ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় জুমার জামাত। এতে লাখ লাখ দেশি-বিদেশি মুসল্লি অংশ নেন।

দুপুর ১টা ৩৮ মিনিটের দিকে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে শুরু হয় জুমার নামাজের জামাত। নামাজের ইমামতি করেন তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি বাংলাদেশের কাকরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ জোবায়ের।

ঢাকার একাংশসহ দেশের ১৩ জেলার র্ধমপ্রাণ মুসল্লিরা ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন বিদেশি মুসল্লিরাও। তাবলিগ জামাতের মুসল্লিদের পাশাপাশি ঢাকা, টঙ্গী, গাজীপুরসহ আশপাশ জেলার মুসল্লিরা জুমার নামাজে শরিক হতে ভোর থেকে সড়ক, রেল ও নৌপথে এমনকি হেঁটে ময়দানে এসেছেন। অনেকে আবার বৃহস্পতিবার রাতেই ময়দানে এসেছেন। অনেক মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে গিয়ে তাবলিগ জামাতের সাথীদের সঙ্গে খিত্তায় অবস্থান নেন। অনেকে পলিথিন, খবরের কাগজ, হোগলা পাতার পাটি বা জায়নামাজ বিছিয়ে কামারপাড়া সড়ক, বাটা সড়ক ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে জুমার নামাজে শরিক হন।

মুসল্লিদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আ ক ম মোজাম্মেল হক, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক, অতিরিক্ত আইজি জাবেদ পাটোয়ারি, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আবু কালাম সিদ্দিক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মো. হুমায়ুন কবীর, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ইজতেমাস্থলে জুমার নামাজে অংশ নেন।

জুমার নামাজের আগে গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দীন আহমেদ স্টেডিয়ামে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। বহু পূর্ব থেকেই ইজতেমা দুই পর্বে সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় পর্ব চলছে। আমরা মনে করি প্রথম পর্ব যেমন সুন্দরভাবে শেষ হয়েছে, বয়ানের মধ্যে শুরু হয়ে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এটা ঠিক সে রকমই হবে। পৃথিবীর বহু দেশ থেকে গত ইজতেমায় প্রায় ৪ হাজারের অধিক বিদেশি মেহমান (মুসল্লি) অংশ নিয়েছেন। এবারো সমসংখ্যক বিদেশি মুসল্লি এসে পৌঁছেছেন। আরো হয়ত আসবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এটাই মনে করি যে, ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বও প্রথম পর্বের মতো সুন্দরভাবে সুসম্পন্ন হবে। মানুষ যারা এসেছেন তারা স্বাভাবিকভাবেই তাদের গন্তব্য স্থানে ফিরে যেতে পারবেন। প্রস্তুতি খুব সুন্দর। সিকিউরিটির ব্যাপারটা আমরা দেখছি। সর্ব ধরনের সিকিউরিটি, গোয়েন্দা তৎপরতা সবই আছে, যাতে এটা নিবির্ঘ্ন হয়।’

 

 

এর আগে একই ময়দানে গত ১২ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। প্রথম পর্বে ঢাকার একাংশসহ ১৪ জেলার মুল্লিরা অংশ নেন। ১৪ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছিল প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য শেষ হবে এবারের ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমা।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »