ট্রাম্পকে নিয়ে তার পর্ন-স্টার প্রেমিকার ৮ তথ্য

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডােনাল্ড ট্রাম্প সাবেক এক পর্নো তারকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন ২০০৬ সালে। এমন অভিযোগ প্রেসিডেন্ট ও ওই পর্নো তারকা উভয়েই অস্বীকার করলেও, এখন জানা যাচ্ছে ওই পর্নো তারকাই ২০১১ সালে এ নিয়ে বিস্তারিত এক সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন একটি ম্যাগাজিনকে। কিন্তু তখন ওই সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেনি ‘ইন টাচ’ নামে ওই ম্যাগাজিনটি। এ ক্ষেত্রে কারণ হিসেবে ম্যাগাজিনটি জানায়, তখন ট্রাম্প অত প্রথিতযশা কেউ ছিলেন না। আর স্টর্মি ড্যানিয়েলস ছদ্মনামের (আসল নাম, স্টিফানি ক্লিফোর্ড) ওই পর্নো তারকার সাক্ষাৎকারটি ছাপলে মামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তাই তখন এ নিয়ে বাড়াবাড়িতে যায় নি ‘ইন টাচ’।

কিন্তু সম্প্রতি ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল পত্রিকা প্রকাশ করে যে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এক মাস আগে স্টর্মি ড্যানিয়েলসকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার দিয়েছিলেন, যাতে ড্যানিয়েলস তাদের সম্পর্কের কথা গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ না করেন। এরই প্রেক্ষিতে ‘ইন টাচ’ ২০১১ সালের ওই সাক্ষাৎকার এখন ছেপেছে।

এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সম্পর্কে চোখ ছানাবড়া করে দেওয়ার মতো অদ্ভুত সব তথ্য দিয়েছিলেন স্টর্মি ড্যানিয়েলস। এমন ৮টি তথ্য সংকলন করেছে মার্কিন রাজনীতি বিষয়ক ম্যাগাজিন পলিটিকো।

১. ড্যানিয়েলসকে ট্রাম্প আমন্ত্রণ জানান রিয়েলিটি শোতে জায়গা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে

ড্যানিয়েলস বলেন, নেভাদায় একটি হোটেল কক্ষে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাত হয় তার। তখন ট্রাম্প ছিলেন দ্য অ্যাপ্রিন্টিস নামে একটি রিয়েলিটি টিভি শো’র উপস্থাপক। ট্রাম্প ওই অনুষ্ঠানে ড্যানিয়েলসকে জায়গা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ড্যানিয়েলসকে ট্রাম্প বলেন, ‘মানুষ ভাববে তুমি বাদামি চুলের বোকাসোকা এক মহিলা। কিন্তু এই অনুষ্ঠানের জন্য তুমি হবে পারফেক্ট। কারণ, তুমি খুব ভালো বুদ্ধিমতী একজন ব্যবসায়ী।’ কিন্তু ওই কথায় পটেন নি ড্যানিয়েলস। কারণ, এনবিসি টিভি তাদের একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠানে সাবেক পর্নো তারকাকে অংশ নিতে দেবে, এমনটা বিশ্বাস করতে চান নি তিনি। এ কারণে ট্রাম্পকে তিনি বলেন, তুমি পারবে না। তোমাকে চ্যালেঞ্জ দিলাম।

ট্রাম্প এমনকি ড্যানিয়েলসকে তার নির্মিতব্য ট্রাম্প টাওয়ার টাম্পা নামে একটি ভবনের শেয়ার দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন। ওই ভবন পরে আর নির্মিত হয়নি। মিস ইউএসএ সুন্দরী প্রতিযোগিতার একটি পার্টিতেও ড্যানিয়েলসকে আমন্ত্রণ জানান ট্রাম্প। ড্যানিয়েলস বলেন, ট্রাম্প আমাকে বারবার বলেছে ফোনে, যদি তোমার কখনও কিছু প্রয়োজন হয়, আমাকে জানিও।

২. হাঙ্গর (শার্ক) ঘৃণা করেন ট্রাম্প

বেভারলি হিলস হোটেলের ব্যক্তিগত বাংলোতে একবার ড্যানিয়েলস ও ট্রাম্পের সাক্ষাত হয়। ড্যানিয়েলস বলেন, ট্রাম্প তখন ডিসকোভারি চ্যানেলের ‘শার্ক উইক’ নিয়ে নিবিষ্ট ছিলেন। তারা যখন রাতের খাবার খান, ওই অনুষ্ঠান চলছিল ডিসকোভারি চ্যানেলে। খাওয়া শেষ করেও দু’জন ওই অনুষ্ঠান দেখেছিলেন।

ড্যানিয়েলস ওই রাতের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘ট্রাম্প হাঙ্গর নিয়ে আবিষ্ট থাকেন। ভীত থাকেন। তার অবস্থা যেন অনেকটা এমন, আমি সব ধরণের দাতব্য সংস্থায় দান করেছি। কিন্তু এমন কোনো সংস্থায় করিনি, যারা হাঙ্গর বাঁচায়! সব হাঙ্গর মরলে ভালো হতো! তার এই ব্যাপার খুব আজব ঠেকেছে আমার কাছে।’

৩. ড্যানিয়েলসকে নিজ মেয়ের সঙ্গে তুলনা করেন ট্রাম্প

ট্রাম্প তার পরিবার সম্পর্কে তেমন কথা বলেননি ড্যানিয়েলসকে। তবে নিজের মেয়ের ব্যাপারে ট্রাম্প কথা বলেছেন। এমনকি তাকে নিয়ে গর্বও করেছেন। ওই সাক্ষাৎকারে অবশ্য স্টর্মি ড্যানিয়েলস ¯পষ্ট করে বলেননি, তার দুই মেয়ে, অর্থাৎ ইভাঙ্কা ও টিফানির মধ্যে কার কথা ট্রাম্প বলতেন। তবে ইভাঙ্কা যে প্রেসিডেন্টের প্রিয় কন্যা এ নিয়ে দ্বিমত নেই কারও। ড্যানিয়েলস বলেন, ‘নিজের মেয়েকে নিয়ে তিনি (ট্রাম্প) কিছুটা গর্ব করতো। মেয়েকে নিয়ে তার অনেক গর্ব। যেটা ভালোই। কিন্তু, তিনি একবার আমাকে বলেন, তার কাছে আমি নাকি তার মেয়ের মতোই সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী।’

এর আগেও ইভাঙ্কাকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করে অনেকের চোখ কপালে তুলেছিলেন ট্রাম্প। এবিসি চ্যানেলের দ্য ভিউ অনুষ্ঠানে ২০০৬ সালে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইভাঙ্কা যদি আমার মেয়ে না হতো, তাহলে আমি সম্ভবত তার সঙ্গে প্রেম করতাম।

৪. ট্রাম্পকে পছন্দ করতেন না ড্যানিয়েলস

সাক্ষাৎকারে এক পর্যায়ে ড্যানিয়েলসকে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি ট্রাম্পের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন কিনা। ড্যানিয়েলস জবাবে পালটা প্রশ্ন করে বলেন, ‘আপনি কি আকৃষ্ট হতেন?’ তবে ড্যানিয়েলস বলেছেন, ট্রাম্পকে নিয়ে তিনি এক ঘোরে থাকতেন। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম দিককার আলাপচারিতায় যৌনতা-সম্বন্ধীয় কিছু আসতো না। পেশাদারী বিভিন্ন বিষয় নিয়েই আলাপ হতো। কিন্তু ড্যানিয়েলস আগেই অনুমান করেছিলেন, তাদের এই আলাপচারিতা থেকে তাদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমি নিশ্চয়ই কিছুটা আগ্রহী ছিলাম। আমরা অনেক খুনসুটিও করেছি। কয়েক ঘন্টা আলাপ করেছি ভালোভাবে। আমি বলতে পারি যে, তিনি ওই আলাপে ভালো ও বুদ্ধিমান লোকের মতো আচরণ করছিলেন।’

৫. ট্রাম্পের সঙ্গে যৌনক্রিয়ার অভিজ্ঞতা ‘আহামরি নয়, তবে অত খারাপও নয়’

ট্রাম্পের সঙ্গে যৌনক্রিয়া সম্পর্কে ড্যানিয়েলস বলেন, ‘তাদের মধ্যকার যৌনক্রিয়া উন্মত্ত ছিল না। তবে আমি তার পুংজননেন্দ্রকে হলফ করে বর্ণনা করতে পারবো, যদি প্রয়োজন হয়। যৌনক্রিয়ার পর তাকে খুবই আবেগতাড়িত মনে হয়েছিল।’

তারা প্রথম এ কাজ করেন নেভাদায় অবস্থিত ট্রাম্পের হোটেল কক্ষে। এখানেই ট্রাম্প ড্যানিয়েলসকে দ্য অ্যাপ্রিন্টিস অনুষ্ঠানে সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে সাক্ষাৎকারে আর কোনো যৌনক্রিয়ার বিবরণ দেননি স্টর্মি ড্যানিয়েলস। অন্যান্য ঘটনার বিবরণ অবশ্য দিয়েছেন।
ড্যানিয়েলস ওই অভিজ্ঞতার ব্যাপারে আরও বলেন, ‘এটা গড়পড়তা অভিজ্ঞতা ছিল। এমন ছিল না যে, ভালোবেসে ফেলবো। তিনি কোনো আহামরি সুদর্শন কেউ ছিলেন না। তিনি আবার পর্নের মতো অতিরঞ্জিত যৌনক্রিয়াও করতে চাননি। খুব ভয়াবহ ভালো কিছু ছিল না। আবার খারাপও নয় অত। তার বয়সী কারও কাছ থেকে যেটা আশা করা যায় আরকি। আবার আমি বলছি না যে, সেটা খারাপ ছিল। আমাকে ভুল বুঝবেন না।’

৬. যৌনক্রিয়ার পর ড্যানিয়েলসের অটোগ্রাফ চান ট্রাম্প

নিজের কক্ষে আগে থেকেই ড্যানিয়েলসের একটি ভিডিও (ডিভিডি) রেখেছিলেন ট্রাম্প। যৌনক্রিয়া সারার পর ওই ডিভিডিতে ড্যানিয়েলসের অটোগ্রাফ নেন যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যত প্রেসিডেন্ট।

৭. মেলানিয়ার সন্তান হওয়ার মাস কয়েক পরই এই পরকীয়ায় জড়ান ট্রাম্প

ড্যানিয়েলস বলেন, তিনি তখন জানতেন যে ট্রাম্প বিবাহিত ছিলেন। তারা যখন যৌনতায় জড়ান, তখন তিনি এ ব্যাপারে অত ভাবেননি। তবে তিনি ট্রাম্পকে তার স্ত্রী মেলানিয়ার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলেন। মাস কয়েক আগে তাদের পুত্রসন্তান ব্যারন ট্রাম্পের জন্ম হয়েছে। আর তখনই ট্রাম্প এক সাবেক পর্নস্টারের সঙ্গে যৌনতায় জড়ান। ড্যানিয়েলস বলেন, ‘আমি মেলানিয়ার কথা তুলেছি। আমি বললাম, তোমার স্ত্রীর কী খবর? তিনি বলেন, আরে তার কথা ভেবো না। এরপর দ্রুতই বিষয়বস্তু পাল্টান তিনি।’ ড্যানিয়েলস বলেন, মেলানিয়াকে ব্যক্তিগতভাবে কখনই দেখেননি তিনি।

৮. ড্যানিয়েলসকে নিয়মিত কল দিতেন ট্রাম্প

প্রথম সাক্ষাতের পর ট্রাম্প প্রতি ১০ দিন অন্তর অন্তর ড্যানিয়েলসকে কল দিতেন। তাকে আদর করে ‘হানিবাঞ্চ’ বলে ডাকতেন। ড্যানিয়েলস বলেন, তার কাছে ট্রাম্পের অফিসের সরাসরি নম্বর ছিল। ওই নম্বরে ফোন দিলে ধরতেন ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সেক্রেটারি রোনা গ্রাফ ও তার বয়ফ্রেন্ড কেইথ শিলার। কেইথ ছিলেন ট্রাম্পের শরীররক্ষী। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর কেইথ হয়ে যান ওভাল অফিস অপারেশন্সের প্রধান। তবে গত সেপ্টেম্বরে বিদায় নেন কেইথ।

ড্যানিয়েলস বলেন, ট্রাম্প সঙ্গে সঙ্গেই তার ফোন নিতেন। অন্য কলে থাকলেও, কিছুক্ষণ পর তাকে কল দিতেন।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »