শুরুতেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: মিয়ানমারের সঙ্গে সই করা চুক্তি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, প্রয়োজনীয় আয়োজন অসম্পূর্ণ থাকায় তা শুরু হচ্ছে না।

সোমবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, যাদেরকে ফেরত পাঠানো হবে সেই তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি। তাদের জন্য যাচাই-বাছাই ও ট্রানজিট ক্যাম্পও প্রস্তুত হয়নি। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে সে ব্যাপারেও কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলেনি। তাদের কথায় এটা বোঝা গেছে শিগগিরই শুরু হচ্ছে না রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশের শরণার্থী প্রত্যাবাসন বিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম আজাদ বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু হতে আরো সময় লাগবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত, কোন নীতির ভিত্তিতে প্রত্যাবাসন হবে তার রূপরেখা তৈরি করা; দ্বিতীয়ত, কাঠামোগত প্রস্তুতি এবং তৃতীয়ত, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত প্রত্যাবাসন শুরু করা।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেইপিডোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের মাধ্যমে রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ রূপরেখা বাস্তবায়নের জন্য ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় যৌথ কার্যকরী গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠন করা হয়। আর মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে ১৬ জানুয়ারি নেইপিডোতে ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট সই করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন আমরা দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রবেশ করেছি। প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে প্রকৃত প্রত্যাবাসন কাজে হাত দেয়া যাবে।

জেডব্লিউজি বৈঠকে প্রতি সপ্তাহে ১৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে মিয়ানমার তাদের সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনি ও রোববার ছাড়া প্রতিদিন ৩০০ করে সপ্তাহে সর্বোচ্চ দেড় হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে।

ফিজিক্যাল অ্যারেঞ্জমেন্ট অনুযায়ী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশ পাঁচটি ট্রানজিট ক্যাম্প স্থাপন করবে। রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করার জন্য মিয়ানমার প্রাথমিকভাবে দু’টি অভ্যর্থনা কেন্দ্র নির্মাণ করবে। উত্তর রাখাইনে হ্লা পো খাউং এলাকায় রোহিঙ্গাদের জন্য অস্থায়ী শিবির গড়ে তোলা হচ্ছে।

মিয়ানমার দ্রুততার সঙ্গে এই শিবির নির্মাণকাজ শেষ করবে। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে সীমান্তের জিরো লাইনে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পরিচয় যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাবাসনের জন্য দু’টি পৃথক কারিগরি কমিটি গঠন করা হবে।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »