আজ কোকো’র তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

ঢাকা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ বুধবার। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। তার মরদেহ ২৭ জানুয়ারি দেশের আনার পর বায়তুল মোকাররম মসজিদে জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়। কোকোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দলীয় ও পারিবারিকভাবে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আরাফাত রহমান কোকোর জন্ম ১২ আগস্ট, ১৯৭০।

বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার জানান, এ দিনটি উপলক্ষে  বুধবার বাদ আসর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মাহফিল এবং কবর জিয়ারতের আয়োজন করা হয়েছে। আত্মীয়স্বজন ও দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ কর্মসূৃচিতে শরিক হবেন। বাদ মাগরিব বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের বাসভবনে ফাতেহা পাঠ, কোরআন খতম এবং বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। একই সময়ে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দিনটি উপলক্ষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাদ জোহর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে করস্থানের কাছে দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণ করবেন। লন্ডনে তারেক রহমানও প্রয়াত ছোট ভাই কোকোর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করবেন বলে জানা গেছে।

বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ দিনটি উপলক্ষে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় মরহুমের বিদেহি আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিএনপির উদ্যোগে নয়াপল্টনের প্রধান কার্যালয়ের নিচতলায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হলেও কোকো সেই পথ ধরেননি। তবে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর আকস্মিকভাবে আরাফাতকে করা হয় জাতীয় ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য।

অভিযোগ রয়েছে, বিসিবির নির্বাচিত কমিটিকে হটিয়ে আইনের মারপ্যাঁচে উপদেষ্টা কমিটি গঠন করে বিসিবিকে তখন ‘দখল’ করেছিলেন কোকো ও তার সঙ্গীরা। সাবের হোসেন চৌধুরীকে বিসিবি সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে তখন বিসিবির ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যানের পদ নিয়েছিলেন আরাফাত কোকো। ওই বছরের ২৩ জুন মুদ্রা পাচারের মামলার রায়ে আরাফাতকে ছয় বছরের কারাদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত; সেই‌ সঙ্গে ১৯ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়।

আরাফাত রহমান ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মানি লন্ডারিং মামলায় গ্রেফতার হন। তিনি ২০০৮ সালের ১৭ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ড যান এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে মালয়েশিয়ায় গিয়ে বসবাস ও চিকিৎসা করছিলেন। ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া জাতীয় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। এ সময় তার স্ত্রী সৈয়দ শর্মিলা রহমান সিঁথি, দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে নিয়ে কুয়ালালামপুরে একটি বাড়ি ভাড়া করে থাকতেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর কোকোর সাময়িক মুক্তির মেয়াদ আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর আদালতের ডাকে না ফিরলে তাকে পলাতক দেখিয়েই বিচার এবং সাজার রায় হয়; পলাতক থাকায় আপিলের সুযোগ পাননি তিনি।

২০০৯ সালের ১৭ মার্চ মহাজোট সরকার আমলে আরাফাত কোকোর বিরুদ্ধে মামলাটি করে দুর্নীতি দমন কমিশন। মামলার সোয়া দুই বছরের মধ্যে রায় হয়। এর আগে জরুরি অবস্থার সময় ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন আরাফাত। ওই সময় খালেদার বড় ছেলে তারেক রহমানও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তিনিও সেনা নিয়ন্ত্রিত ওই সরকারের সময় মুক্তি পেয়ে বিদেশ যান। সপরিবারে এখন লন্ডন রয়েছেন তারেক।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »