গাড়িতে হামলা, জঙ্গলে পালিয়ে রক্ষা পেলেন ইবি ভিসি

Feature Image

স্বাধীনবাংলা২৪.কম

কুষ্টিয়া:  গভীর রাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন উর রশিদ আসকারীর গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। জীবন মরণের সন্ধিক্ষণ থেকে বেঁচে ফিরেছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন উপাচার্য।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা থেকে ফেরার পথে ক্যাম্পাস অদূরবর্তী শৈলকূপা থানার গাড়াগঞ্জ বাজারের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে উপাচার্য ও তার গাড়িচালকের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে। হামলার ধরন দেখে ডাকাতি মনে হলেও উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।

উপাচার্য ও তার গাড়িচালকের ভাষ্যমতে, জরুরি মিটিং শেষে রাত সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। গোয়ালন্দ ফেরিঘাট পার হয়ে তার নিয়মিত যাতায়াতের কুষ্টিয়া রুট ছেড়ে ঝিনাইদহ রুট দিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন। পথে তার ব্যক্তিগত সচিব রেজাউল করিম রেজাকে ঝিনাইদহে তার বাসার সামনে নামিয়ে ক্যাম্পাসে আসার পথে গাড়াগঞ্জ বাজার পার হলে রাস্তায় গাছ ফেলে ব্যারিকেড তৈরি দেখতে পান গাড়িচালক।

বিপদ আঁচ করতে পেরে তিনি গাড়ি পেছনের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেন কিন্তু ততক্ষণে কয়েকটি ট্রাক জমা হয়ে যাওয়ায় গাড়ি পেছনে নিতে ব্যর্থ হয়। এসময় হঠাৎ করেই তিনজন মুখোশধারী বড় আকৃতির রামদা হাতে গাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে গাড়ির বাম পাশে সামনের গ্লাস ভেঙে সেখানে কাউকে না পেয়ে পিছনের গ্লাসে উপুর্যপুরি আঘাতে ভেঙে ফেলে। আর সেখানেই বসে ছিলেন উপাচার্য। কিন্তু এসময় অন্য ট্রাক কিংবা গাড়িতে কোনো প্রকার হামলার ঘটনা ঘটেনি।

এসময় গাড়িচালক সামনের দিকে গাড়ি চালিয়ে ব্যারিকেডের কাছে থামালে উপাচার্য এবং গাড়িচালক আত্মরক্ষার্থে গাড়ি থেকে নেমে রাস্তার পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নেন।

পরে হামলাকারীরা টর্চ লাইট দিয়ে উপাচর্যকে খুঁজে বের করে। তখন তারা বলে ‘এইতো পেয়েছি’। উপাচার্য বলেন, ‘ঠিক এসময় আমার মনে হচ্ছিল এটিই জীবনের শেষ মুহূর্ত। পরে তারা আমাকে ধরে নিয়ে গাড়ির কাছে এসে টাকা চায়। কিন্তু আমার কাছে কোনো টাকা ছিল না। তারা আগেই মানিব্যাগ নিয়ে যায়। আমি তাদের ল্যাপটপ দিতে চাইলেও তারা নেয়নি। তখন অনেকগুলো ট্রাক জমে যায় রাস্তার দুই পাশে। তারা হর্ণ বাজাতে থাকে। এসময় তারা আমাকে গাড়ির নিকট দাঁড় করিয়ে ‘একটুও নড়বি না’ বলে চলে যায়। তখন ট্রাকের লাইটের আলোয় আমি প্রাণভয়ে রাস্তা দিয়ে সামনের দিকে দৌড়াতে থাকি। প্রায় মিনিট খানেক দৌড়ানোর পর একটি বাড়ি পেয়ে সেখানে আশ্রয় নিই। পরে সেখান থেকে একজন স্থানীয়র ফোন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন দিলে বিশ্ববিদ্যালয় থানা ও শৈলকূপা থানার পুলিশ গিয়ে আমাকে উদ্ধার করে। ভোর ৫টার দিকে আমি ক্যাম্পাসে পৌঁছাই।

এ ঘটনায় সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা তার বাসভবনে গিয়ে সমবেদনা জানান ও খোঁজ খবর নেন। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে ইবি প্রেসক্লাব, ছাত্রলীগ, শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, শাপলা ফেরাম, জিয়া পরিষদ ও বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, বিসয়টি খুবই স্পর্শকাতর ও দুঃখজনক। এ নিয়ে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা বাহিনী ঘটনার পর থেকেই কাজ করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সরকারের কাছে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে কঠোর ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহের শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনা শোনামাত্র ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ভিসি স্যারকে উদ্ধার করে তার গাড়িসহ ক্যাম্পাসে পৌঁছে দিই। এ ঘটনায় অপরাধীদের গ্রেফতারে তখন থেকেই চিরুনী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।

স্বাধীনবাংলা২৪.কম/এমআর

আরো খবর »