দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীর আর্থিক সাহায্য দিল ছাত্রকল্যাণ পরিষদ

Feature Image

 

খোকসা:  কুষ্টিয়ার খোকসায় মেধাবী স্বপ্না দারিদ্র্যকে দুরে ঠেলে এক বেলা খেয়ে অন্য বেলা না খেয়ে নিজের প্রাণপণ চেষ্টায় এস এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও এইচ এসসিতে ৪.৫০ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্ত্তি হলেও উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাওয়ার আসংখ্যা স্বপ্নার। প্রবল ইচ্ছা শক্তি এবং অদম্য সাহস থাকলে সব কিছু জয় করা সম্ভব তা আবারও প্রমান করেছে খোকসার আসহায় গরীব বাবার কন্যা স্বপ্না, এস এস সি পরীক্ষায় শোমসপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ এবং শোমসপুর আবুতালেব ডিগ্রী কলেজ থেকে এইচ এসসি পাশ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিইতে ভর্ত্তি হলেও উচ্চ শিক্ষা শেষ করতে পারবে কিনা এই নিয়ে তার ভাবনার শেষ নেই ।

গত ২৪ জুনুয়ারী খোকসা ছাত্রকল্যাণ পরিষদ ১০ হাজার টাকার আর্থিক সহয়োগিতা করেছেন এতে করে কিছুতা আসার আলো দেখলেও আগমী দিনগুলিতে তার পড়াশুনা চালিয়ে যেতে পারবে কিনা এই নিয়ে আসংখ্যা স্বপ্নার। দারিদ্র্যর কোষাঘাতে জর্জরিত হয়ে গ্রামে ছেলে মেয়েদেও প্রাইভেট পড়ায়ে পড়াশুনা চালিয়েছে এ পর্যন্ত। নিজের প্রবল ইচ্ছা শক্তি ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় ৫ম শ্রেণীতে সমাপনি পরীক্ষায় সাধারন গ্রেডে বৃত্তি পায়। এর পর থেকে কোন বাধায় তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি ৮ম শ্রেণী জেএসসি পরীক্ষায় বৃত্তি, ২০১৩ সালে এস এস সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও ২০১৬ সালে এইচ এসসি পাশ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বছর ভর্ত্তি হয়েছে। তার বাড়ী উপজেলার শোমসপুর ইউনিয়নের কদিরপুর গ্রামে। বাবা স্থানীয় গ্রামের মসজিদে মোয়াজ্জেম ৫ ভাই বোনের মধ্যে স্বপ্না সবার ছোট গরীব পরিবারে অন্য ৩ বোন পড়াশানা না জানলেও স্বপ্নার ইচ্ছা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনা শেষ করে শিক্ষকতা করা।

স্বপ্নার ইচ্ছা ছিল এস এস সি পাশ করে ভাল কোন কলেজে পড়াশুনা করবে কিন্তু গরীব বাবর পক্ষে সম্ভব হয়নি অন্য জায়গায় রেখে পড়াশুনা করাবে মেয়েকে। তাই শেষ মেশ তাকে ভর্ত্তি করেন শোমসপুর আবু তালেব ডিগ্রী কলেজে। বিঞ্জান বিভাগে পড়ে এস এসসিতে প্রাইভেট পড়ার সুযোগ হয়নি। তবে শিক্ষকদের সহযোগিতায় মাঝে মধ্যে বিনা টাকায় প্রাইভেট পড়েছেন। অর্থের অভাবে ভাল জামা কাপড় সে পরতে পারেনি এক কাপড়ে বেশির ভাগ সময় তাকে স্কুল কলেজ করতে হয়েছে। যাদের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের ইচ্ছা থাকলেও ভাগ্যে জোটেনা ভাল কাপড়।

তার পরও সকল বাধা কে জয় করে দারিদ্র্যকে দুরে ঠেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিই তে ভর্ত্তিও হয়ে এলাকা বাসীকে অবাক করে দিয়েছে। বিঞ্জান বিভাগ থেকে সদ্য পাশ করা আইসি ইতে ভর্ত্তি হওয়া স্বপ্না ভবিষ্যতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষক হতে চায়। কিন্তু তার বাবা মার পক্ষে অর্থের যোগান দেওয়া সম্ভব হবে কিনা এই। আসংখ্যা স্বপ্নার। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্ত্তি হলেও হয়ত অর্থের অভাবে পড়াশুনা বন্ধ হয়ে যেতে পরে বলে আসংখ্যা করছে স্বপ্না। তার পরিবারের পক্ষ থেকে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন। তা না হলে মেধাবী স্বপ্না উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।

আরো খবর »