আইএস’র প্রচার যন্ত্র কি হঠাৎ নিশ্চুপ হয়ে গেছে?

Feature Image

ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠী অনলাইনে যেভাবে শিরশ্ছেদের মতো ভয়াবহ সব ভিডিও দিয়ে প্রচারাভিযান চালাতো, তা আর কোনো জঙ্গী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কখনো করেনি। এসব ভিডিওর নির্মাণশৈলী ছিল অত্যন্ত উন্নত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল এগুলো।

আইএসের হাতে ছিল অত্যন্ত দক্ষ এক প্রচারযন্ত্র। কিন্তু গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে তা যেন থেমে গেছে। একসময় আইএসের ভিডিও ছড়াচ্ছিল যেন বানের জলের মতো। হঠাৎ করেই যেন তা পানির ফোঁটায় পরিণত হয়েছে।

এর কারণ কি?

অনুসন্ধানে জানা গেছে আইএসের প্রচারযন্ত্রের উত্থান এবং পতনের কাহিনি।

অক্টোবর ২০১৭-তে আইএসের স্বঘোষিত খিলাফতের রাজধানী রাক্কার পতন ঘটে। এখন আইএসে নিয়ন্ত্রণে সিরিয়ার খুব সামান্য এলাকাই রয়েছে। এরপর থেকেই অনলাইনে তাদের উপস্থিতি আগের চেয়ে বহুগুণ কমে যায়। তবে তাদের আদর্শ এখনো বহাল রয়েছে।

আইএস’র অনলাইন প্রচারাভিযান শুরু হয় ২০১৪ সালে। অন্তত পাঁচটি ভাষায় তাদের নানা রকম বিবৃতি, রেডিও বুলেটিন, গ্রাফিক্স এবং ভিডিও প্রচার হতো। এগুলোতে আইএস’র সক্ষমতাকে বড় করে দেখানো হতো, কোনো পরাজয়ের খবর কমিয়ে দেখানো হতো।

আইএস’র ছিল একাধিক নিজস্ব ম্যাগাজিন। এমনকি ছিল বাচ্চাদের জন্য নামাজের আহ্বান সম্বলিত অ্যাপ, আরবি শেখার অ্যাপ। আইএস অধিকৃত এলাকার বিভিন্ন প্রদেশ থেকে সুন্দর জীবনের চিত্র তুলে ধরা হতো কিছু ভিডিওতে। এর খুব কমই ছিল সঠিক।

কিন্তু অক্টোবর মাসে সব কিছু বদলে গেল।

প্রতিদিন প্রকাশিত জিনিসের সংখ্যা ২৯ থেকে ১০-এ নেমে এলো। তাদের নিজস্ব সংবাদ সংস্থা আমাকে সেপ্টেম্বর মাসে দিনে বেরুতো ৪২১টি খবর, নভেম্বর মাসে এটা কমে হলো ১২৮। তাদের ম্যাগাজিন রুমিয়া-ও সেপ্টেম্বর থেকে আর বেরুচ্ছে না।

এরপর এখন তাহলে কি হচ্ছে? এখন যদিও আইএস’র অনলাইনে বিবৃতি রিপোর্ট ইত্যাদির পরিমাণ কমে গেছে – তবে এখন যা প্রকাশ করা হচ্ছে তার মধ্যে খেলাফতের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রার পরিবর্তে বরং সামরিক তৎপরতার কথা আরো বেশি করে বলা হচ্ছে।

জানা যায়, আইএস এখনো তাদের মিডিয়া কার্যক্রমে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে।

আরো খবর »