বানিজ্য মন্ত্রণালয় বৈধতা দিল

Feature Image

মানিকগঞ্জ :  মানিকগঞ্জের পরিবহন খাতের কর্তৃত্ব নিয়ে ক্ষমতাসিন দলের বিবাদমান দুটি গ্রæপের মধ্যে ৬ মাস ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি দীর্ঘ দিন তদন্ত শেষে সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন টিপু ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম নজুকে নিয়ে গঠিত মানিকগঞ্জ জেলা বাস ,মিনিবাস,মাইক্রোবস, অটোট্যাম্পু ওনার্স গ্রæপের কমিটিকে বৈধ বলে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের উপসচিব মিরাজুল ইসলাম । ওই চিঠিতে জাহিদুর রহমান জাহিদকে সভাপতি ও মাহিদুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত অপর একটি কমিটিকে অবৈধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৩ অক্টোবর জাহিদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন কমিটি মানিকগঞ্জ কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে অবস্থিত অফিস নিয়ন্ত্রন নেওয়ার পাশাপাশি জেলা পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করছে।

মানিকগঞ্জ জেলা বাস ,মিনিবাস,মাইক্রোবস, অটোট্যাম্পু ওনার্স গ্রæপের কমিটি সভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন টিপু জানান তাদের বৈধ কমিটি থাকা অবস্থায় ক্ষমতার জোড়ে জাহিদুর রহমান অবৈধ কমিটি করে তাদের মালিক সমিতির অফিস দখল করে নেন। এর পর পরিবহন থেকে জোড় করে চাঁদাবাজি করছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্তে প্রমানিত হয়েছে আমাদের কমিটি বৈধ। দুই একদিনের মধ্যে মালিক সমিতির অফিসে গিয়ে কার্যক্রম শুরু করবেন বলেও তিনি জানান। এক্ষেত্রে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন বলে জানান।

জাহিদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান তদন্তের নামে কারচুপি করে কাজী এনায়েত হোসেন টিপুর কমিটিকে বৈধতা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তারা আইনের আশ্রয় নেবেন বলেও জানান । তিনি বলেন কাজী এনায়েত হোসেন টিপুর অবৈধ কমিটি যখন পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রন করতো তখন তারা মালিক , শ্রমিকদের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করতো। অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মালিক শ্রমীকরা তাদের টার্মিনাল থেকে বিতারিত করেছে। বর্তমানে কোন ধরণের চাঁদা ছাড়াই মানিকগঞ্জের পরিবহন খাত চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুস সাদাত সেলিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ,তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী বানিজ্য মন্ত্রণালয় কাজী এনায়েত হোসেন টিপুর কমিটিকে বৈধতা দিয়েছে। সে অনুযায়ী তারা এখন কার্যক্রম শুরু করতে পারেন। এব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগীতার দরকার হলে তা দেয়া হবে।
প্রসঙ্গত মানিকগঞ্জ পরিবহন খাত নিয়ে জড়িয়ে পরা দুই গ্রæপেই আছে আওয়ামীলীগ, শ্রমীক লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ জেলা কমিটির বিভিন্ন পদে থাকা অনেক নেতা কর্মীরা। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্যরাও যার যার পছন্দের গ্রæপকে বৈধ কমিটি বলে দাবি করেছেন। দুই গ্রæপের পরস্পরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কর্মসুচীতেও এরা উপস্থিত থেকে কিম্বা লিখিত ভাবে পছন্দের গ্রæপকে সমর্থন দিয়েছেন। যে কারনে পরিবহন খাত নিয়ে সংকটকে জেলা আওয়ামীলীগে দুই গ্রæপের দ্ব›দ্ব হিসাবেও দেখা হচ্ছে।

আরো খবর »