প্রয়োজনে যে কোনো ভাষা ব্যবহার করতে হবে, তবে রাষ্ট্রভাষা হবে ‘বাংলা’ : বিএইচপি

Feature Image

মজিবুর রহমান চিশতী : বাংলা ভাষাকে সার্বজনীন করতে হলে অন্যের ভাষার মুখাপেক্ষিতা মুক্ত হতে হবে। আমরা যতদিন অন্যের ভাষার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকব ততদিন বাংলা ভাষা সার্বজনিন হবে না। যেমন, আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। খাদ্যের জন্য আমরা অন্যের মুখাপেক্ষী নই। একইভাবে আমাদেরকে প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। প্রযুক্তিতে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ না হলে, যারা প্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ তাদের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। অন্যের মুখাপেক্ষী মানে অন্যের ভাষার মুখাপেক্ষী। যারা গবেষণা করে নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিস্কার করেছেন তারা তো বাংলা ভাষায় তাদের প্রযুক্তি আবিস্কার করেননি। যেসব প্রযুক্তি ইংরেজী ভাষায় আবিস্কার করা হয়েছে, সেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গেলে অবশ্যই ইংরেজী ব্যবহার করতে হবে। একইভাবে আইন বিভাগ। আইন তো সৃষ্টি হয়েছে আমরা স্বাধীন হওয়ার বহু পূর্বে। আমাদের স্বাধীনতার পূর্বে কোনো আইনবিদ বাংলা ভাষায় কোনো আইন প্রনয়ণ করেননি। এজন্য সুপ্রীম কোর্টে এখনও ইংরেজী ভাষায় রায় লিখতে হয়। আইন বিষয়ে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। একইভাবে ধর্ম-সংস্কৃতি। আমাদের বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্ম হলো, ‘ইসলাম’। ইসলাম ধর্মের প্রধান গ্রন্থ নাজিল হয়েছে আরবী ভাষায়। আমাদের প্রধান ইবাদত নামাজ অনুশীলণ করতে হয় আরবী ভাষায়। এ করাণে আমাদের আরবী ভাষা ব্যবহার করতে হয়। সুতরাং আইন করে বাংলা ভাষা সার্বজনীন করা যাবে না। বাংলাদেশকে সর্ববিষয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। যাতে অন্যের মুখাপেক্ষী হতে না হয়। মূল কথা হলো, ভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে কোনো ভাষা প্রয়োজনে ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রভাষা হবে,‘বাংলা’। তাহলে দেশ একসময় একটি উন্নত ও ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হবে, তখন বাংলা ভাষার গুরুত্ব বেড়ে যাবে এবং স্বয়ংক্রীয়ভাবে বাংলা ভাষা সার্বজনিন হয়ে যাবে।

৬৬তম জাতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আজ বিকেলে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদীতে পুষ্পাঞ্জলী দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ মানবতাবাদী দল-বিএইচপির মহাসচিব ড. সুফি সাগর সামস্ উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

মানবতাবাদী দলের সঙ্গে একিভুত হয়ে ঢাকা জেলার দোহার থানাধীন নূরুল্লাপুর পাক দরবার শরীফের পক্ষ থেকে শহিদ মিনারের বেদীতে পুষ্পাঞ্জলী দিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে নেতৃত্ব প্রদান করেন নুরুল্লাপুর পাক দরবার শরীফের অন্যতম খাদেম মো. আমজাদ হোসেন এবং অন্যান্য খাদেমগণ।

মানবতাবাদী নেতা ড. সামস্ আরো বলেন, পৃথিবতে বিভিন্ন ভাষায় সাতশ কোটি মানুষ কথা বলে। এর মধ্যে ৩০ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। ৬৭০ কোটি মানুষ থেকে ৩০ কোটি মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে সেটা কেমন হবে? বর্তমান প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের যুগে আমাদেরকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকলে চলবে না। আমাদেরকে বিশ্বের সকল ভাষার মানুষের সাথে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হবে ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। ধর্ম,বর্ণ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে ভালোবাসতে হবে।

শহিদ মিনারের বেদীতে পুষ্পার্ঘ্যের সময় উপস্থিত ছিলেন, মানবতাবাদী দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. ওবায়েদ উল্লাহ, ভাইস চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান চিশতী, অধ্যাপক মো. মনির হোসেন, মো. আবদুল করিম, যুগ্ম-মহাসচিব (অর্থ) ফরিদ আহমেদ, দফতর সম্পাদক মেহেদী হাসান রনিসহ আরো কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীগণ।

আরো খবর »