শিবালয়ে নির্বাহী অফিসারের এডিসি পদোন্নতি ৩ দফা বদলীর আদেশ হলেও বহাল তবিয়তে !

Feature Image

মানিকগঞ্জ  থেকে জালাল উদ্দিন ভিকু  : চাকুরীজীবীদের ক্ষেত্রে পদোন্নতি কে না চায়। তাও আবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) বলে কথা। মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাসেদ(১৫৯৪১) অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(এডিসি) হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে পরপর ২ দফা বদলীর আদেশ হওয়ার পরের স্বপদে বহাল তবিয়তে আছেন তিনি। এখানে কি এতো মধু আছে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এডিসি পদোন্নতি পেয়েও শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার থাকতেও তার কোন আপত্তি নেই ।

তিন বারের মধ্যে প্রথম দফায় বদলী হয়েছিলেন ২০১৭ সালের ২ জুলাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলায়। এরপর ২০১৭ সালে ১৪ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদে পদোন্নতি দিয়ে তাকে বদলী করা হয় মেহেরপুরে।সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি আবারো বদলী করা হয় ব্রাক্ষণবাড়িয়া’র অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে। কিন্তু বদলীকৃত স্থানে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার পদে বহাল আছেন। এদিকে সর্বশেষ ওই নির্বাহী অফিসার বদলীকৃতস্থানে কেন যোগদান করেননি এমর্মে গত ৮ ফ্রেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জনপ্রশাসন শাখা-২ স্মারক নং-০৫.০০.০০০০.১৩৯.১৯.০১৪.১৮-৮০ সুত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব দেওয়ান মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারী করে। জারীকৃত সতর্কমুলক ওই প্রজ্ঞাপনে উলে­খ্য করা হয় ওই কর্মকর্তা ১৪ ফেব্রুয়ারি অপরাহ্নের মধ্যে বদলীকৃত স্থানে যোগদান না করলে তা ষ্ঠ্যান্ড রিলিজ হিসেবে গন্য হবে। এদিকে সরকারী দলের স্থানীয় নেতারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাসেদ এর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে ২০১৬ সালের ২৩ আগষ্ট শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে কামাল মোহাম্মদ রাসেদ যোগদান করেন। যোগদানের ১১ মাসের কয়েক দিন যেতে না যেতেই ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের মাঠ প্রশাসন শাখার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার( সার্বিক) মোহাম্মদ মুনির হোসেন ২০১৭ সালের ২ জুলাই কামাল মোহাম্মদ রাসেদ(১৫৯৪১)কে বদলী করেন রাজবাড়ী জেলার কালুখালি উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে। এরপর তিনি তদবির করে তার বদলির আদেশ স্থগিত করেন। এরপর তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বও মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব দেওয়ান মাহবুবুর রহমান মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার স্মারক নম্বর ০৫.০০.০০০০.১৩৯.১৯.০৩৩.১৭-৫৪৪ শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাসেদকে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মেহেরপুরে বদলীর প্রজ্ঞাপন জারী করেন। পরে ওই নির্বাহী অফিসার উচ্চ মহলে তদবির করে বদলীর আদেশটি স্থগিত করান। পরবর্তীতে ৪৫ দিনের মাথায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একই শাখার ওই সিনিয়র সহকারী সচিব দেওয়ান মাহবুবুর রহমান পুনরায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ সালে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ০৫.০০.০০০.১৩৯.১৯.০১৪.১৮-৫৮ স্মারকে তাকে পুনরায় ব্রাক্ষণবাড়িয়া’র অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে বদলীর আদেশ জারী করেন। তিনি উপর মহলে তদবির করে পদোন্নতি না নিয়ে সে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে বহাল তবিয়তে আছেন।

এবিষয়ে শিবালয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আকবর জানালেন,ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ হয়েছে। তার দুর্নীতির খবর বিভিন্ন পত্র পত্রিকায়ও এসেছে। এডিসি হিসাবে পদোন্নতি দিয়ে বদলী করা হয়েছে এখান থেকে তার চলে ডাওয়া উচিত ।
এদিকে শিবালয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার রেজাউর রহমান খান জানু জানান-উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাসেদের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংস্থাপন মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর বরাবর পৃথকভাবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যানসহ তিনি লিখিত অভিযোগ করেন। কয়েক বার তার বদলী আদেশ জারী হলেও তিনি কোন খুটির জোরে এখনো পদোন্নতি না নিয়ে ইউএনও হিসেবে আছেন এটা বোধগম্য নয়।তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর একজন বিশেষ সহকারীর আত্বীয় পরিচয় দিয়ে তিনি নানান অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি আরো জানান- শিবালয় উপজেলায় চরা লে চলছে বেশ কয়েক কোটি টাকার গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পের কাজ। কাজের শুরুতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঐ প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলে মোটা অংকের কমিশন পাবে । অপর দিকে শিবালয় উপজেলায় হতে যাচ্ছে ৩শ একর জমির ওপর একটি অর্থনৈতিক অ ল। সেই জমি অধিগ্রহন বাণিজ্যের টার্গেটও রয়েছে ।এছাড়া পদ্মা-যমুনা নদী থেকে অবৈধ বালু ব্যবসার মোটা অংকের কমিশন তিনি ছাড়তে নারাজ। তিনি অভিযোগ করে জানান, শিবালয় উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভুমি) না থাকায় ভুমি সংক্রান্ত খারিজ বাণিজ্যও করছেন এক হাতে। টাকা ছাড়া কোন কিছুই বোঝেন না তিনি। এছাড়া ওই উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্ব মেটাতে মধ্যস্থ্যতাকারী হিসেবে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামাল মোহাম্মদ রাসেদের সাথে মুটো ফোনে কথা হলে তিনি জানান- আমার অফিসের বেশ কিছু কাজ ও ফাইলপত্র রয়েছে গোছাতে ১৫/২০ দিন সময় লাগবে । আমার বদলীর আদেশ হয়েছে কর্তৃপক্ষ আবার আমাকে রেখেছেন। একবার ইউএনও হিসেবে বদলী আর দুবার এডিসি পদোন্নতির বদলীর পরেও এখানে এমন কি মধু আছে কেন যাচ্ছেন না এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন- সেটা কর্তৃপক্ষই ভাল জানেন এর বেশী কিছু বলতে পারবো না ।

আরো খবর »