সড়ক, নাকি মরণফাঁদ!

Feature Image

বর্ষা মৌসুমে প্যাক-কাদা আর শুকনো মৌসুমে ধুলায় ধূসরিত রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া, রাজবাড়ী-দৌলতদিয়া, রাজবাড়ী-ফরিদপুর সড়ক। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দেখে বোঝার উপায় নেই যে তা পাকা।
আবার কাঁচা সড়কও বলা যায় না। কারণ শত শত গর্ত সৃষ্টি হয়ে সড়কটিতে এখন চলাচলই মুশকিল হয়ে পড়েছে। সেটা হোক হেঁটে অথবা যানবাহনে। ধুলায় ধূসরিত এ সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনাও।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়কটির বেশির ভাগ স্থান খানাখন্দে উঁচু-নিচু হয়ে আছে। সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো রকমে ইট-বালু ফেলে সড়কটি সচল রাখা হয়েছে। তবে অসংখ্য গর্তের কারণে যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই পণ্যবোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের যন্ত্রাংশ ভেঙে বিকল হয়ে যায়। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড ধুলাবালির কারণে যাত্রীদের নিঃশ্বাস নিতেও অসুবিধায় পড়তে হয়।

রাজবাড়ী সদর উপজেলা পরিষদের সামনে থাকা ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম ও টোকন বলেন, এ সমস্যা আজকের নয়। টানা দুই বছর ধরে চলছে। দীর্ঘ টালবাহানা শেষে সড়কের কাজ শুরু করা হলেও তা চলছে ধীরগতিতে। ফলে সড়কের পাশে থাকা দোকান ও বাড়িগুলোর বাসিন্দাদের অবস্থা শোচনীয়। তারা দোকান বা ঘরে স্বস্তিতে রাখতে পারে না কোনো খাবার। অল্প সময়ের মধ্যেই তা ধুলাবালিতে পূর্ণ হয়ে যায়। সড়কের পাশের বেশির ভাগ বসতবাড়ির বাসিন্দাদের শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের অসুখ দেখা দিয়েছে। দোকানের মালামালের ওপরও ধুলার স্তূপ জমছে। কেউ কেউ মোটর লাগিয়ে পানি দিয়েও রেহাই পাচ্ছে না।

অল্প সময়ের মধ্যেই তা শুকিয়ে লেজে-গোবরে অবস্থা হয়ে যায়। সড়ক দিয়ে চলাচলকারী ট্রাকচালক আকতার হোসেন, মাইক্রোবাসচালক ফজলুর রহমান বলেন, এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অসুস্থ কোনো মানুষ এ সড়ক দিয়ে একবার গেলে গাড়ির ঝাঁকুনিতে সে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। সড়ক দিয়ে কোনো বাস-ট্রাক যাওয়ার সময় নিঃশ্বাস নেওয়াই কষ্টকর হয়ে যায়। প্রচুর গর্তের কারণে সেগুলোতে যানবাহনের চাকা আটকে তা বিকল হয়ে যায়। এতে গাড়ির মালিকদেরও বিশাল লোকসান গুনতে হয়।

রাজবাড়ী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার, ছাত্র আবু রায়হান জানায়, তারা বাসা থেকে গোসল করে বই-খাতা নিয়ে বের হলেও বিদ্যালয়ে যেতে যেতে তাদের চেহারা পরিবর্তন হয়ে যায়। পুরো সড়কে এত বেশি ধুলাবালি ওড়ে যে শরীরের ওপর লাল আবরণ পড়ে যায়। বিদ্যালয়ে গেলেও শান্তি নেই। জানালা ও দরজা দিয়ে ঢুকে বেঞ্চে ধুলার স্তর পড়ে থাকে। এতে জামাকাপড় নোংরা হয় এবং বাড়িতে গেলে বকুনিও খেতে হয়। অভিভাবক আকলিমা খাতুন বলেন, ‘শুধু আমার মেয়েরই নয়, ওই বিদ্যালয়ের বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই ধুলাবালিজনিত রোগে ভুগতে শুরু করেছে। ক্লাসগুলোতে উপস্থিতিও কমে গেছে। কবে যে এ সমস্যা থেকে আমরা মুক্তি পাব, তা কেউ বলতে পারি না। ’

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসিফ আকবর নিবির বলেন, ধুলাবালির কারণে ফুসফুসের বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। অ্যালার্জিজনিত ঠাণ্ডা, কাশি, চোখের সমস্যাও হয়ে থাকে। সেই সঙ্গে ধুলাবালির কারণে শিশুদের রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দেয়। তবে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে মাস্ক ও সানগ্লাস ব্যবহার করা প্রয়োজন। এতে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে। রাজবাড়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, রাজবাড়ী-ফরিদপুর সড়কের ৭.৭০ কিলোমিটার অংশের জন্য ৪৭ কোটি ১৩ লাখ আট হাজার টাকা, শহরের ৪.১ কিলোমিটার সড়কে ফোর লেন তৈরির জন্য ৫৪ কোটি টাকা এবং জেলা সদরের বাগমারা-জৌকুড়ার ৬.৫ কিলোমিটার সড়কের জন্য প্রায় ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বর্ষা মৌসুমের আগেই বেশির ভাগ কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরো খবর »