শত বছর বাঁচবেন যেভাবে

Feature Image

জীবনে সত্য এবং অবশ্যম্ভাবী বলে যা কিছু আছে, মৃত্যু তার মধ্যে অন্যতম। মৃত্যকে ভয় পাই বা এড়িয়ে চলি- মৃত্যুকে বরণ করতেই হবে। তবে চেষ্টা করি যত বেশিদিন বেঁচে থাকা যায়। এই কাজ এমন বেশি কঠিন কিছু নয়। চাইলেই এমন কিছু অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়া যায় যাতে আয়ু বেড়ে যেতেও পারে।

যুক্তরাজ্যে সুপরিচিত চিকিৎসক ড. ডন হারপার। মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর টেলিভিশনে অনুষ্ঠান করে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। তার চিকিৎসা সংক্রান্ত জ্ঞান দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। সম্প্রতি তিনি একটি বই লিখেছেন। বইটির নাম ১০১ বছর সুস্থ হয়ে বাঁচুন। বিবিসি প্রতিবেদন অনুযায়ী সেই ১০১ বছর বেঁচে থাকার মূলমন্ত্র গুলো দেখে নেওয়া যাক:

১. ঠিক মতো ঘুম
দিনে পর্যাপ্ত ও ভালো ঘুম হওয়া সুস্থভাবে বেঁচে থাকার পূর্বশর্ত। খুব বেশি ঘুম হওয়াও ভালো না, খুব কম ঘুম হওয়াও ভালো না। আর তাই একদম নির্বিঘ্নে ঠিকভাবে ঘুমাতে হবে। দিনের বেলার ঘুমকে ক্যাটন্যাপ বলে। এই ক্যাটন্যাপও ঠিকঠাক মতো হতে হবে। অল্পস্বল্প ঘুমিয়ে উঠে গেলে চলবে না।

২. হাঁটাচলা করুন
বর্তমানে আমাদের অনেকেই প্রচুর সময় বসে থেকে কাটাই। এটা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যে ভালো নয় একদমই। স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যে দৌড়াদৌড়ি করতে হবে তা নয়। শরীরকে নড়াচড়ার মধ্যে রাখা, মানে সাধারণ হাঁটাচলা করতে হবে। এবং তা অবশ্যই নিয়মিত।

৩. লিভারকে বিশ্রাম দিন
অনেকের কাছেই এক গ্লাস রেড ওয়াইন হয়তো খুব পছন্দের। কিন্তু ড. হারপার বলছেন, প্রতিদিন সন্ধ্যায় এটি পান থেকে বিরত থাকতে হবে। তিনি বলেন, প্রতি রাতে এটা না খেয়ে সপ্তাহে অন্তত দুইদিন লিভারকে বিশ্রাম দিতে হবে।।

৪. জানুন আপনার জিন সম্পর্কে
অনেকেরই দেখা যায় বিশেষ কোনো রোগ ঘন ঘন হওয়ার প্রবণতা থাকে। এটা জেনেটিক হতে পারে। কিন্তু ড. হারপার বলছেন, আপনার পরিবারের বা বংশের অন্যান্য সদস্যদের অসুখের ইতিহাস জানা থাকলে সেটা আমাদেরকে সুস্থ ও সুন্দর জীবনযাপন করতে সাহায্য করতে পারে। কোন কোন জিনের কারণে আমরা বিশেষ একটি রোগে আক্রান্ত হচ্ছি সেটা জানলে আমাদের সুবিধা হবে।

৫. কার্বোহাইড্রেটের ব্যাপারে সচেতনতা
ভাত ও রুটির মতো কার্ব হাইড্রেড পরিহার করা আজকালকার দিনে কিছুটা ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু ডা. হারপার বলছেন, ব্যালান্সড ডায়েটের জন্যে আমাদেরকে এসবও খেতে হবে। তবে খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছুটা নিয়ম মেনে সাবধান হয়ে খেতে হবে।

৬. প্রতিদিন হাসুন বেশি করে
সুস্থ হয়ে বেঁচে থাকার মতো সুখের আর কিছু নেই। এজন্য মন ভালো রাখতে হবে। সব কাজের মধ্যে আনন্দ খুঁজে নিতে হবে। আর সবসময় হাসিখুশি থাকতে হবে। ড. হারপার বলেন, এজন্য অবশ্যই ইতিবাচক মনোভাবের হতে হবে।

৭. চাপমুক্ত থাকুন
দৈনন্দিন জীবনে চাপ থাকবেই। মানসিক চাপ মনের বাইরে শরীরেও প্রভাব ফেলে। ফলে শরীরে একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই মন ভালো রাখার পাশাপাশি চাপগুলোকেও কাটিয়ে উঠে হাসতে হবে বেশি বেশি। এতে করে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়তেও পারে।

আরো খবর »