খাবার ছিল খরগোশের রোস্ট! সেই সঙ্গীকে হারিয়ে ভারাক্রান্ত রানি

Feature Image

সদ্য পোষ্যহারা হলেন ব্রিটেনের রাজপরিবারের দীর্ঘায়ু সম্রাজ্ঞী দ্বিতীয় এলিজাবেথ। রাজবাড়িতে শেষ হল পোষ্য কোর্গি কুকুরের প্রজন্ম। গত রবিবার রানির প্রিয় পোষ্য কুকুর উইলোর মৃত্যু হয়। দীর্ঘদিন ধরেই কুকুরটি ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল।

রানির রাজত্বকালে সর্বসময়ের সঙ্গী ছিল উইলো। রানির প্রায় সমস্ত ছবিতেই এই উইলোর উপস্থিতি দেখা যেত। এবার থেকে যা আর দেখা যাবে না। খুব ছোট থেকে সে রানির সঙ্গী। তবে রানির এই কোর্গি প্রজাতির একটি নয়, বহু কুকুর ছিল। এখন যাদের কেউই আর অবশিষ্ট রইল না।

রানির কোর্গি প্রজাতির মোট পোষ্যের সংখ্যা ছিল ৩৩। একে একে সকলেই রানিকে ছেড়ে চলে গেছে। ১৯৩৬, যখন এলিজাবেথের ৭ বছর বয়স, তাঁর বাবা রাজা ষষ্ঠ জর্জ প্রথম রাজপ্রাসাদে কোর্গি প্রজাতির ডুকি নামে একটি কুকুর নিয়ে এসেছিলেন। এলিজাবেথের ১৮ বছরের জন্মদিন উপলক্ষে তাঁর বাবা সুসান নামে একটি কোর্গি প্রজাতির কুকুর উপহার দেন।

এমনি রানির মধুচন্দ্রিমাতেও সঙ্গী হয় সুসান। সুসানই ছিল উইলোর পূর্বসূরি। একমাত্র এই কুকুরই রানিকে শৈশবের আঙিনায় ফিরিয়ে নিয়ে যেত। রানির সেই স্মৃতির চাবিকাঠি চিরকালের মত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল।

কিন্তু ব্রিটেনের রাজপরিবারের পক্ষ থেকে কোর্গি কুকুর কখনো বিক্রয় করা হয়নি। আত্মীয়দের উপহার স্বরূপ দিয়ে দেওয়া হত এই কুকুরের শাবক। পোষ্যদের দেখভালের দায়িত্ব এলিজাবেথ কখনো কারোর উপর ছাড়তেন না। বিশাল কক্ষের সোফায় তাদের ছিল অবাধ বিচরণ। আদর খেতে মাঝে মাঝে রানির পাশেই শুয়েও থাকত এরা। খাবার হিসেবে খরগোশের রোস্ট বা মুরগির রোস্ট রুপোর থালায় পরিবেশন করা হত। প্রত্যেক কুকুরের জন্য থাকত আলাদা আলাদা পদ।

২০১২-র অলিম্পিকেও রানির পাশে উইলো মন্টি হলিকে দেখা গেছিল। শোনা যায়, ডগ ফাইটে পাঠানোর আগে রানি কোর্গিদের পায়ে চুমুও খেতেন। পোষ্য হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন রানি। এর আগেও বহুবার পোষ্যহারা হয়েছেন। তবে কোর্গি প্রজাতি বিদায় নেওয়ায় এ যন্ত্রণা চিরস্থায়ী।

ইন্টারনেট থেকে

আরো খবর »