ফুচকা পর্ব ১২

Feature Image

দেবশ্রী চক্রবর্তী ঃ  ফুচকার মন আজ ভালো নেই । নতুন ক্লাশে সে আর রিন্টু এক সেকশানে পড়েছে । ফুচকার মন খারাপের কারনটা কিন্তু বেশ মর্মান্তিক । কারন রিন্টু তার বন্ধুরা আজকাল সুযোগ পেলেই তাকে ল্যাঙ মেরে ফেলে দিচ্ছে । তবে ব্যাপারটা যদি ঐ টুকুর মধ্যে আবদ্ধ থাকত তাহলে ঠিক ছিল, কিন্তু ফুচকাকে বোকা বানিয়ে তার সব টিফিন তারা খেয়ে নিচ্ছে,  এটাই সে মন থেকে মেনে নিতে পারছে না । কারন ফুচকার জীবনের প্রধান দূর্বলতা হচ্ছে খাবার , তাই সে  বেশিক্ষন না খেয়েও  থাকতে পারে না । সেই কোন সকালে দুটো ভাত মুখে দিয়ে সে স্কুলে যায়, দুপুরে ঠাম্মার দেওয়া লুচি, আলুভাজা আর মিষ্টি যখন তাকে দেখিয়ে দেখিয়ে রিন্টু আর তার বন্ধুরা খায়, এ দৃশ্য দেখে তার চোখে জল এসে যায় । রিন্টু লুচি খেতে খেতে ফুচকাকে বলেছে, এরকম ভাবে ভেউ ভেউ করে কাঁদবি না , শান্তিতে খেতে দে । ফুচকা রিন্টুকে রিকোয়েস্ট করেছিল, বেশি না একটা লুচু আর একটু আলুভাজা দিলেই হবে । রিন্টু তার কোন কথার উত্তর না দিয়ে বা হাতটা ফুচকার দিকে আচমকা এগিয়ে দিয়ে তাকে ভয় দেখিয়ে দিয়েছিল । ফুচকা ভয়পেয়ে আরো জোড়ে যখন কাঁদতে শুরু করতেই   , রিন্টু বলেছিল  কান্না থামা, না হলে তোর ঐ ভোতা মুখ আরো ভোতা করে দেবো । বুঝেছিস ?

এসব দেখে রিন্টুর বন্ধু বুদোর মনে হয় মায়া হয়েছিল । বুদো এসে দুটো মিয়োন মেরি বিস্কুট ফুচকার হাতে দিয়ে বলেছিল, নে ফুচকা খা, আরো লাগলে বলিশ, লজ্জা পাস না । রোজ রোজ ঐ মেরি বিস্কুট খেইয়ে ফুচকার মুখে অরুচি হয়ে গেছে । মাঝে মাঝে ভাবে আর টিফিন আনবে না । কিন্তু রিন্টু তাকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, টিফিন না আনলে সে ফুচকার থোবড়া ফাটিয়ে দেবে । ফুচকা থোবড়া মানে প্রথমে বুঝতে পারে নি । সে বুদোকে প্রশ্ন করে জেনেছে থোবড়া মানে ফুচকার ঢাকাই পরটার মতন মুখখানাকে রিন্টু বুঝিয়েছে । ব্যাপারটা যে কতটা অসম্মানের তা সে নিজের স্বল্প বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে পেরেছে । বাড়ি ফিরে নিজেকে বহুবার আয়নায় দেখেও ঢাকাই পরোটার সাথে নিজের থোবড়ার কোন মিল সে আবিস্কার করে উঠতে পারে নি ।

ফুচকা বাসস্ট্যান্ডের বট গাছটার নিচে দাড়িয়ে বাসের অপেক্ষা করছে, তার সঙ্গে দাদু দাড়িয়ে আছেন । নাতিকে স্কুল বাসে তুলে তবে সে বাজারে যাবে । আজ বাস আসতে দেরি করছে, ফুচকা দাঁতে দাঁত দিয়ে দাড়িয়ে আছে আর রিন্টু তার পাশে দাড়িয়ে দাড়িয়ে হাসছে । দাদু সঙ্গে থাকায় ফুচকা একটু সাহস করে বলে ফেলল, কি রে রিন্টু আমাকে দেখে বোকার মতন হাসছিস যে ?

কথাটা শেষ হতে না হতেই বাস এসে গেছে । বাসের ভেতর থেকে রীতেশ দাদা, সৌর্য্য দাদারা ফুচকাকে দেখে আওয়াজ দিলো হাফ প্যান্ট… হাফ প্যান্ট  । রিন্টু ফুচকার কানের কাছে এসে একটা বিটকেল হাসি দিয়ে বাসে উঠে পড়ল ।

এ বাসের সবাই শুধু না স্কুলেরও  সবাই তাকে হাফপ্যান্ট নামে ডাকে । বাড়িতে বাবাকে সে বহু বার বুঝিয়েছে যে এখন আর সে ছোট নেই, এবার একটা ফুল প্যান্ট তাকে কিনে দেওয়া দরকার । কিন্তু কেউ তার কোন কথা শোনে নি, বাবা তার বত্তিরিশ পাটি খিচিয়ে ফুচকার দিকে তেড়ে এসে বলেছে সখ হয়েছে ? সখ ?

বাবা মাকে বলেছে তোমার ছেলের আচার ব্যবহার আজকাল খুব সন্দেহ জনক লাগে ।

ফুচকা খুব দুঃখ পেয়েছে যখন মা “ হুম” বলে সম্মতি জানিয়েছে আর ঠাম্মা বলেছে এতটুকু একটা ছেলে তার আবার ফুল প্যান্টের সখ হল কেন । কিন্তু আজ যা হয়েছে  , তা দাদুর সামনে হওয়ায় দাদু কিছুটা হলেও বুঝতে পেরেছে যে ফুচকার ফুলপ্যান্ট পড়ার জন্য কাতর হওয়া কোন উন্মাদনা না । ফুচকা অসহায়ের মতন দাদুকে হাত নাড়িয়ে বাসে উঠে পড়ল ।

বাস চলে গেলে দাদু বাজার ব্যাগ হাতে নিয়ে বাজারের রাস্তায় ঢুকতে গিয়ে দ্যাখে বুদনের ঠাকুমার ষাড়টা চায়ের দোকানের সামনে দাড়িয়ে দাড়িয়ে বিস্কুট খাচ্ছে । আজ চায়ের দোকানে পাড়ার ছেলে বুড়োদের আলোচনা সভা বসেছে , আলোচ্য বিষয় চিনু আর ধনা স্যারের বিয়ে । আজ তাদের বৌভাত  , তাই আলোচনা আরো রসঘন হয়ে উঠেছে । দাদু একটু এগিয়ে গিয়ে দ্যাখে তিনটে হনু বিস্কুট আর চায়ের কাপ হাতে নিয়ে মন দিয়ে তাদের আলোচনা শুনছে । ষাড়টার জন্য হনু গুলোকে আগে চোখে পড়ে নি । আজ লক্ষ্মীবার তাই সকাল থেকে ফুচকার ঠাম্মা ঠাকুর ঘরে ব্যাস্ত, এই দিনটায় দাদুর কপালে সকাল সকাল চা জোটে না । সবাইকে চা খেতে দেখে দাদু চায়ের দোকানে গিয়ে ঢুকতেই পটলা দা দাদুকে নিজের জায়গাটা ছেড়ে দেয় ।

দাদু পটলাকে প্রশ্ন করে, বাবা পটলা পাড়ার খবর সব ভালো তো ?

পটলা বলে, দাদু, সে আর বলতে । জোড় খবর তো এখন ধনা স্যারের বিয়ে ।

দাদুকে চায়ের দোকানের বৌদি এক কাপ চা দিয়ে গেলো । দাদু চায়ে চুমুক দিয়ে বলল,

তো ভায়া, কিরকম হল সেই বিয়ে ?

চিন্টুদা একটু উত্তেজিত হয়ে বলল, পটলাদা , বলো এরকম প্রসেশান  এলোমেলো ক্লাবের বিজয়া দশমিতেও হয় নি ।

পটলা বলল, সে আর বলতে , ব্যান্টপার্টি বাজনার সাথে নাচতে নাচতে টুকটুকি চলেছে , তার পেছন পেছন কুকুরের দল । গাড়িতে ধনা স্যার আর চিনু দিদিমনি , তার পেছনে পাড়ার লোকজন ।

চিন্টু বলল, কুকুরগুলো আগে গিয়ে ভালোই হয়েছে, ওগুলো পেছনে থাকলে বিপদ হত ।

চায়ের দোকানের বৌদি অমলেট ভাজতে ভাজতে বলল, সে আর বলতে, টুকটুকির মুখে শুনেছি স্যারের ডেলো আর টমটম নামের দুটো কুকুরের মধ্যে সারাদিন ঝামেলা বেধেই আছে । ঐজন্যি বোধয় পটলাদারা বুদ্ধি করে ধনা স্যারের গাড়িটাকে মাঝে ঢুকিয়ে দিয়েছিল । তাই না ?

পটলা টুকটুকির নাম শুনে বলল, ঊফফ, টুকটুকিটা দাড়ুন নাচে কিন্তু । ওই তো সবার আগে ব্যান্ডপার্টির সাথে নাচতে নাচতে যাচ্ছিল ।

বিস্কুট শেষ হলে হনুমান গুলো বৌদির দিকে হাত বারিয়ে দেয় । দাদু লক্ষ্য করে, বৌদির দোকানের দেওয়ালে বিশাল বজরঙ্গবলীর ছবি , তার পাশে একটা তাক, সেখানে একটা কৌটো রাখা ।  বৌদি কৌটো থেকে আরো তিনটে বিস্কুট বারকরে ওদের হাতে দেয় । এ সব দেখে দাদু বলে, তুমিও তাহলে হনুমানে ভক্ত হয়ে গেলে । এলোমেলো ক্লাবের কয়েকটা ছেলে বসে চা খাচ্ছিল , ওরা বলল, দাদু, বৌদি একা না, আমরা সবাই বজরঙ্গবলির ভক্ত । এবার রামনবমীতে আমরা বাবাকে নিয়ে বিশাল মিছিল বার করবো ।

দাদু বলল, বাবা মানে ঠিক বুঝলাম না ।

ছেলে গুলো হনুমান গুলোর দিকে তাকিয়ে দুহাত তুলে প্রনাম করে বলল , এই যে আমাদের বাবা , রামভক্ত হনুমান জী ।

দাদুর চা খাওয়া হয়ে গেছে সে চায়ের কাপটা বৌদির দোকানে রাখা বালতিতে ফেলতে ফেলতে বলল, যাক, আজ তাহলে শুভ দিন তোমাদের বাবার সাথেও দেখা হয়ে গেলো ।

অন্যদিনের মত আজও ফুচকার টিফিন খাওয়া হয় নি , রিন্টু আর তার বন্ধুরা মিলে সব টিফিন খেয়ে নিয়েছে । বুদো তাকে মিয়ে যাওয়া মেরি বিস্কুট খাওয়াতে এসেছিল , সে আজ তাকে জবাব দিয়ে দিয়েছে যে গনেশ মুখুজ্জে ঘিয়ে ভাতে মানুষ, এসব কুত্তার খাবার তার পেটে সয় না । বাড়ি ফিরে সে অনেক বার ভেবেছে, সে সাহস করে এত গুলো কথা কি করে বলেছে ? তবে আজ বাংলা স্যারের কথা গুলো সত্যি মনে খুব দাগ কেটেছে । স্যার রামকৃষ্ণ পড়াতে গিয়ে বলেছেন, মাঝে মাঝে ফোঁস করতে হয়, না হলে সবাই পেয়ে বসে । এসব শুনে ফুচকা অনুভব করেছে  একবার ফোঁস সে করবেই, তার জন্য দশটা ল্যাঙ খেতে হলে সে খাবে, কিন্তু ফোঁস সে করবেই । ফেরার পথেও সে রিন্টু আর তার বন্ধুদের দিকে একবারও চেয়ে দ্যাখে নি ।

আজ ধনা স্যারের বৌভাত । রিন্টু আর ফুচকা দুজনের পরিবার গেছে স্যারের বাড়ি । রিন্টু ফুচকার দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে আইসক্রিম খাচ্ছে আর ফুচকা পকড়া খাচ্ছে । পকোড়া গুলো বেশ মুচ মুচে , ফুচকার খেতে খুব ভালো লাগছে , সে আরো দশটা চিকেন পকোড়া চেয়ে নিলো । রিন্টু আইসক্রিম খেতে খেতে ফুচকার পকোড়া খাওয়া দেখছে । দু একবার বিশম খাবার পর সে ভেবেছিল আর ঐ দিকে তাকাবে না । কিন্তু সব কিছু ঠিক ঠাক দেখে রীতেশ দাদাদের খবর দিলে, ফুচকার পেছনে সবাই মিলে লাগা যাবে ।

ধনা স্যারের বাড়িতে কুকুরদের জন্য আলাদা খাবারের স্টল দেওয়া হয়েছে । সেখানে এই পাড়ার সাথে সাথে পাশের পাড়ার কুকুর গুলো এসেও ভীড় জমিয়েছে । এসব দেখে পাড়ার লোকজন ছি ছি করছে । কিছু মানুষ গেট থেকে ফিরে গেছে, কারন গেটের সামনে হনুমানের দল ভীড় জমিয়েছে , তাদের সঙ্গে বুদনের ঠাকুমার ষাঁড় ভোলাও ভদ্রলোকের মতন দাড়িয়ে আছে । ডেলো গন্ধ শুকেই বুঝে গেছে ভোলা এসেছে , তাই বিপদ বুঝে সে পিসিমার খাটের তলায় গিয়ে লুকিয়েছে । ভোলা গেলে সে বেড়বে । ধনা স্যার এর স্ট্রিক্ট ইনস্ট্রাকশান , বাবা মায়েরা যেন কেউ না খেয়ে না যায়, এতে তার এবং তার স্ত্রীর অমঙ্গল হবে । তাছাড়া ক্যাটারিং পার্টিরও খুব লাভ, মানুষ আর পশু মিলিয়ে প্রায় দশ হাজারটা পাত পড়েছে । পশু গুলো তো আবার কম যায় না, হাবাতের মতন খেয়েই যাবে । তাই হিসেব মতন আরো দুহাজার জনের খাবার তারা নিয়ে এসেছে ।

এলোমেলো ক্লাবের ছেলেরা এখন বজরঙ্গবলিকে তাদের বাবা মেনেছে তাই সে হনুমান হোক কিংবা ষাঁড় কারুরকে তাড়াবার মতন কোন ইচ্ছা তাদের নেই, উল্টে কেউ কিছু বললে ক্লাবের ছেলেরা তাদের তাড়িয়ে দেবে ।

পাড়ায় কোথাও কোন অনুষ্ঠান হলে কেউ যাক আর না যাক নদাদু সেখানে যাবেই যাবে । মানে নারায়ন পুজা থেকে শ্রাদ্ধবাড়ি কোন খাওয়া সে আজন্ম বাদ দেয় নি । কিন্তু রাত ন’টা বেজে যাবার পরও যখন ন গাট্টুর দ্যাখা নেই, ধনা স্যারের মনে একটু খটকা লাগলো, তাহলে কি সেই কেশটা মানে চিনুর সাথে বিয়ে কেচে যাওয়ার জন্য দাদু লজ্জায় এলো না । ধনা স্যার পল্টুদার কাছে এসে বলল, বাবা পল্টু  ন দাদুর কি হয়েছে একটু দ্যাখ তো, এখনো এলেন না যে ।  পল্টুদা বলল, স্যার ওসব লোকের শুভ অনুষ্ঠানে না আসাই ভালো ।

ধনাস্যারের মন মানে না । সে বলে, বাবা পল্টু , আমি কারুর অভিশাপ নিয়ে জীবন শুরু করতে চাই না । তুমি একটু দ্যাখো ।

পল্টুদা স্যারের রিকোয়েস্ট ফেলতে পারলো না । সে যখন যাবে বলে মনস্থির করল, ঠিক তখন চোখ কাটা বাবলা এসে খবর দিলো ন দাদুর বাড়ি ভেঙ্গে পরে গেছে । দাদুর বাড়িতে একটা বড় সিন্দুক ছিল, তার মধ্যে গুপ্ত ধন আছে বলে গ্রামের ছেলে ছোকড়াদের ধারনা, তাই তারা দাদুর বাড়ি লুট করতে গেছে ।

পটলদা বলল, দাদু আর ঠাকুমা ঠিক আছে তো রে ?

চোখ কাটা বাবলা বলল,  সেটাই তো বলতে এসেছি, দাদু হাতে পাখা নিয়ে সিন্দুকের ওপর বসে হাওয়া খাচ্ছে আর ঠাকুমার কোন খোঁজ নেই ।

গোদা হনুমানটা আইসক্রিম খেতে ঢুকেছিল স্টলে, সে সব কিছু শুনে অন্য হনু গুলোকে নিয়ে রউনা হয় দাদুর বাড়ি । এদিকে রিন্টু আর ফুচকা পাশাপাশি দাড়িয়ে আইসিক্রিম খাচ্ছিল । গোদা হনুমানটা যাবার সময় তাড়াহুড়ো করে ফুচকাকে একটা গোতা দিয়ে যায় । ফুচকা পেছন ফিরে দ্যাখে রিন্টু তার দিকে তাকিয়ে হাসছে আর আইসক্রিম খাচ্ছে । রিন্টুর বিটকেল হাসি দেখে ফুচকার গা পিত্তি জ্বলে ওঠে । ও একখান ঘুশি ঝেড়ে দেয় রিন্টুর মুখে । রিন্টু আচমকা ঘুশি খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় । রিন্টুর মতন ফুচকা নিজেও কোন দিন ভাবতে পারে নি যে সে সাহস করে এত জোড়ে কারুকে ঘুশি মাড়তে পারবে । কয়েকটা কুকুর রিন্টুকে ঘুশি খেতে দেখে এক সাথে ডেকে ওঠে । তারা এক সাথে গন্ধ শুকে বুঝতে পারে যে ছেলেটা মাড় খেয়েছে সে আর কেউ না রিন্টু যে গত কালীপুজায় কেলো কুকুরের ল্যাজে কালীপটকা বেধে দিয়েছিল । কেলো কোনক্রমে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে প্রানে বেচে ছিল । রিন্টুর দিকে কুকুর গুলো গেউ গেউ করে আওয়াজ করে যখন এগিয়ে আসছিল, বিপদ বুঝে রিন্টু এক ছুট দেয়, সেই সঙ্গে কুকুর গুলোও ছুট দেয় ।

কুকুরের কামড় খেতে রিন্টুকে হয় নি, কারন ধনা স্যার গেটের সামনে দাড়িয়ে ছিলেন, রিন্টু বেড়িয়ে গেলে ধনা স্যারের গায়ে গন্ধে কুকুররা দাড়িয়ে পড়েছিল । তিনি গেট বন্ধ করে দিয়ে হাত জোড় করে বলেছিলেন, বাবা মায়েরা তোমরা মাথা গরম করলে যে তোমাদের এই অবোধ সন্তানের অমঙ্গল হবে । যাও সবাই খাওয়াদাওয়া করো , আজ বরং এসব থাক ।

কুকুর মানুষের ভাষা বোঝে নাকি ধনা স্যার জানে না । তবে তার বডি ল্যাঙ্গুয়েজ আর গায়ের গন্ধে কুকুররা অহিংস হয়ে যায় এবং তাকে সমিহ করে চলে এটুকু তিনি বোঝেন ।

সেদিনের ঘটনার পর থেকে রোজ দুটো কুকুর বডি গার্ডের মতন ফুচকার বাসে ওঠার সময় তার দু দিকে থাকে । বিকেলে যখন যে বাস থেকে নামে কুকুর দুটো তাকে বাড়ি পৌছে দেয় । ঠাম্মা একদিন ফুচকাকে প্রশ্ন করেছিল, দাদুভাই তোমার নতুন বন্ধু, বুঝি ?

ফুচকা সম্মতি জানিয়ে বলেছিল, হুম, আমার বেস্ট ফ্রেন্ড । ডেলো কুমার আর টমটম কুমার ।

কুকুরের ভয়ে রিন্টু বাসে আর যায় না, কুকুরের হাত থেকে বাচার জন্য সে ছোট বাচ্চাদের সাথে ঢাকা গাড়ি করে স্কুলে যায় । এত বড় ছেলে হয়ে সে কেন বাচ্চাদের সাথে যায় , এই নিয়ে তাকে বাচ্চাদের ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ আর কৌতুহল সহ্য করতে হয় । ফুচকা আজকাল পেট ভরে টিফিন খায় , সেই টিফিনের ভাগ সে বুদোকেও দেয় । একদিন সে রিন্টুকে শুনিয়ে বুদোকে বলেছে, বুদো, থোবড়া কি করে ফাটাতে হয় দেখবি ? বুদো বলেছিল দেখি । এই কথাটাই যথেষ্ট ছিল, রিন্টু আর কোন দিন ফুচকার মুখোমুখি হয় নি ।

ও আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছি, ফুচকা এখন স্কুলে ফুল প্যান্ট পড়ে যায় । কারন, দাদু তার জন্য দু সেট ফুল প্যান্ট এনে দিয়েছে । এতে বাড়ির কেউ আর কোন আপত্যি করে নি ।

আরো খবর »