কুষ্টিয়া জেলার পথে পথে চাঁদাবাজি

Feature Image

সিমন, করিমন, ব্যাটারি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, লেগুনা, পিকআপ ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন থেকে কুষ্টিয়া জেলার অনেকস্থানে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চালকরা নির্ধারিত হারে চাঁদা দিতে না চাইলে, যানবাহন থামিয়ে, মারধর করে, কেড়ে নেয়া হয় যানবাহনের চাবি। খুলে নেয়া হয় সিট কিংবা ব্যাটারি।

এছাড়া আটকে রাখা হয় যানবাহন। চালক ও হেলপারদের বকাঝকা ও মারধর করা হয়। ভয় দেখানো হয়। পৌরসভা ও মালিক সমিতির নাম দিয়ে ওই চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। অনেকস্থানে চাঁদা আদায়ের কারণে সড়কে লেগে যায় যানজট। ওইসব চাঁদা তোলার জন্য শিফট অনুয়ায়ী দুই-তিনজন করে শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র। যাদের পকেটে যাচ্ছে প্রতিদিনের তোলা লাখ লাখ টাকা। কোথাও যানবাহন স্ট্যান্ড ইজারা দেয়ার ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেই। এসব চাঁদার কারণে পণ্য ও যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধি পায়।

আর এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তা বন্ধ করতে প্রশাসনের শক্ত ভূমিকা আশা করছেন সবাই। যানবাহন চালকদের অভিযোগ, কুষ্টিয়া সদর ও প্রতিটি উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও বাসস্ট্যান্ডে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে রশিদ দিয়ে। চাঁদা আদায়কারীদের সামনেই একজন চালক জানান, চাঁদা না দিলে গ্লাস ভেঙে দেয়া হয়। গাড়ি আটকে নানাভাবে অপদস্ত করা হয়, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় চালক ও হেলপারদের। শুধু এখানেই নয়, পথে পথে বিভিন্ন অংকের টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িগুলোতেও দিতে হচ্ছে মাসোহারা। চাঁদা না দিয়ে কোনোভাবেই সড়কে যানবাহন চালোনো সম্ভব নয়। চাঁদা তোলার একজনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, ইজারা নিয়ে বৈধভাবেই তারা টাকা তুলছেন। এভাবেই একটি পয়েন্টে চাঁদা দিয়ে, চাঁদা তোলার অন্য পয়েন্টে গেলে সেখানে চাঁদা দিতে হচ্ছে।

আরো খবর »