একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সংখ্যালঘু প্রার্থী বাড়ছে

Feature Image

বিশেষ প্রতিবেদক, স্বাধীনবাংলা২৪.কম : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন তালিকায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থী বাড়বে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই এসকল প্রার্থীদের অনেকেই এলাকায় কাজ শুরু করার ইঙ্গিত পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য বর্তমান জাতীয় সংসদে একটি সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ মোট ১৮ জন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংসদ সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এমপি/মন্ত্রী এলাকায় তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। আবার কয়েকটি আসনে নতুন প্রার্থী রয়েছেন যারা তৃনমুলে ব্যাপক জনপ্রিয় । ভোটের রাজনীতিতে যেটা শেখ হাসিনার ট্রাম্প কার্ড হিসেবে কাজ করবে। আওয়ামী লীগের বাইরেও সরকারদলীয় জোটের অংশীদার হিসাবেও কয়েকজন সংখ্যালঘু প্রার্থী রয়েছেন আলোচনায়। সেক্ষেত্রে ১৪ দলের টিকেটে অনেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রার্থীর কপালে নৌকার মনোনয়ন জুটতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে আগামী নির্বাচনে ২৪/২৫ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় ও মহাজোটের মনোনয়ন পেতে পারেন বলে জানিয়েছে আওয়ামী লীগ ও জোটের শরিক সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে সংখ্যালঘু সাংসদ আছেন এমন বেশ কয়েকটি আসনে এবার বর্তমান সংসদ সদস্যদের পরিবর্তে নতুন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা প্রার্থী হতে পারেন। আর দল সরকার গঠন করলে এবার অন্তত ২/৩ জন সংরক্ষিত মহিলা এমপি হবেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। এরমধ্যে যশোর ও খুলনার কয়েকটা আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংসদ সদস্য মনোনয়ন পচ্ছেন না এটা মোটামুটি নিশ্চিত। এরমধ্যে ঠাকুরগাঁও ১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন। এখানে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে এ্যাড. ইন্দ্রনাথ রায় এবং অরুনাংশ দত্ত টিটো বিবেচনায় রয়েছেন।

বর্তমান সংসদের এমপি/মন্ত্রীদের মধ্যে দিনাজপুর ১ আসনে মনোরঞ্জন শীল গোপাল, নওগাঁ ১ আসনে সাধন চন্দ্র মজুমদার, যশোর ৪ আসনে রনজিত কুমার রায়, মাগুরা ২ আসনে বীরেন শিকদার, রবগুনা ১ আসনে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভ, বরিশাল ৪ আসনে পংকজ নাথ, ময়মনসিংহ ১ আসনে জুয়েল আরেং, সুনামগঞ্জ ২ আসনে জয়া সেন গুপ্ত, মুন্সিগঞ্জ ১ আসনে সুকুমার রঞ্জন ঘোষ, মুন্সিগঞ্জ ৩ আসনে মৃনাল কান্তি দাসের দলীয় মনোনয়ন মোটামুটিভাবে নিশ্চিত বলা যায়। এছাড়া পার্বত্য খাগড়াছড়ি এবং পার্বত্য রাংগামাটি আসনও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য অলিখিত বরাদ্ধ।

খুলানা ১ ও ৫ আসনটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রিজার্ভ আসন হিসেবে বিবেচিত। এখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য পঞ্চানন বিশ্বাস ও মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ। খুলনা ১ আসন থেকে পঞ্চানন বিশ্বাস ৩ বার নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে বয়সের ভারে কিছুটা বিপর্যস্ত। এ আসনে ২০০৮ সালে নির্বাচিত হয়েছিলেন ননী গোপাল মন্ডল। বর্তমানে পঞ্চানন বিশ্বাস ও তার ছেলে নানান বিতর্কিত কাজে জড়িত থাকায় এলাকায় অবস্থান হারিয়েছেন। সেকারণেই সাবেক এমপি ননীগোপাল মন্ডলের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভবনা প্রবল । যদি কোন কারনে পঞ্চানন বিশ্বাস ও ননীগোপাল মন্ডলের বনিবনা না হয় তাহলে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রাহুল অধিকারীর নামও বিবেচনা করতে পারে আওয়ামী লীগ । পাশাপাশি জাতীয় পার্টিও এই আসনটি চাইতে পারে । জাপা চেয়ারম্যান এরশাদের ঘনিষ্ট সহযোগী সুনীল শুভ রায়ের জন্য তারা আওয়ামী লীগের কাছে আসনটি দাবী করবেন বলে জাপার দায়িত্বশীল সুত্র জানিয়েছে।

খুলনা ৫ (ডুমুরিয়া -ফুলতলা ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য রয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনবার নির্বাচিত সাংসদ নারায়ন চন্দ্র চন্দ। বর্তমান সরকারের তিনি মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের মোটামুটি নিশ্চিত এই আসনে এবার তাঁকে ধাক্কা দিতে পারেন তরুণ নেতা অজয় সরকার। উল্লেখ্য মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ ও তার পরিবারের সদস্যরা নানান কাজে এলাকায় খুবই বিতর্কিত । আওয়ামীলীগকে বাদ দিয়ে এলাকায় তিনি পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছেন। মন্ত্রী ও তার ঘনিষ্টজনদের কাছে আওয়ামীলীগের অনেক দলীয় নেতাকর্মী নির্যাতিত হয়েছেন। এছাড়া নারায়ন চন্দ্র ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতি ও নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ সকলের মুখে মুখে। নিয়োগের টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রী আবাসনে তার মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে। এই আসনে নারায়ন চন্দ্রের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একমাত্র প্রার্থী আওয়ামী যুবলীগের জনপ্রিয়নেতা অজয় সরকার। শুধু খুলনা ৫ আসন নয় বৃহত্তর খুলনার সংখ্যালঘুসহ সকল মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় যুবনেতা অজয় সরকার । সেই বিবেচনায় এবারের জাতীয় নির্বাচনে খুলনা ৫ আসনে মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্রের বিপরীতে যুবলীগনেতা অজয় সরকারের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভবনা প্রবল।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে যশোর ৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন স্বপন ভট্টাচার্য্য। যে কারনে তাকে আওয়ামীলীগ দল থেক বহিস্কারও করা হয় । নির্বাচনে জয়লাভের পর তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের উপর ব্যাপক নির্যাতন চালান। গত ৫ বছরে তিনি এলাকায় বিএনপি-জামাতকে তোষন করেছেন। তার উপর দলীয় নেতা-কর্মীরা ব্যাপক অসন্তুষ্ট। তাদের জোর দাবী এ আসনে স্বপন বাবু বাদে অন্য কোন দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে। অনুসন্ধানে জানা গেছে স্বপন ভট্টাচার্য্য স্থানীয় সর্বসাধারনের কাছে ব্যাপক বিতর্কিত। এখান থেকে বর্তমান সাংসদ স্বপন ভট্টাচার্যর বিপরীতে এবার দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন তারই বড়ভাই আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য পিযুস ভট্টাচার্য । এছাড়াও এই আসনে সাংবাদিকনেতা মধুসুধন মন্ডলের নামও রয়েছে বিবেচনায়।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে প্রতি নির্বাচনেই নৌকার মনোনয়ন আলোচনায় থাকেন কানাডা প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) সুরঞ্জন দাশ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়ন পাননা। তবে এবার তাকে নৌকা সরাসরি দিতে না পারলেও জোটের প্রার্থী করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

আরো খবর »