গায়ের রঙ নিয়ে খোঁটা, প্রতিশোধ নিতে গৃহবধূর ভয়ঙ্কর কাণ্ড!

Feature Image

গৃহবধূর গায়ের রঙ কালো৷ এজন্য প্রায়ই তাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা চলত। পাশাপাশি রান্না করতে না পারায় কপালে জুটতো গঞ্জনাও। প্রতিনিয়ত শ্বশুর বাড়ির লোকজনের এমন ঠাট্টা-মশকরা অসহ্য হয়ে উঠেছিল ওই গৃহবধূর। তাই তো প্রতিশোধ নিতে অনুষ্ঠান বাড়ির খাবারে বিষ মিশিয়ে দেয় ওই গৃহবধূ।

ভারতের মহারাষ্ট্রের রায়গড়ের গৃহবধূর এই কারসাজিতে এখনো পর্যন্ত ৪ শিশুসহ পাঁচজন মারা গেছে। এ ঘটনায় অন্তত অসুস্থ হয়েছেন শতাধিক।

দুই বছর আগে মহারাষ্ট্রের রায়গড়ের এক বাসিন্দার সঙ্গে বিয়ে হয় প্রজ্ঞা সারভেসের। গত সোমবার শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয়ের বাড়ির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাহাড় গ্রামে যায় ওই গৃহবধূ। সেখানে খাবারে বিষ মিশিয়ে দেন তিনি। রাতে সবাই সেই খাবার খাওয়া-দাওয়া শেষের পর সকলেই বমি শুরু করে দেন। এরপর তারা স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হন। জানা যায়, হাসপাতালেই চার শিশু-সহ ৫ জন মারা যান। মৃত শিশুদের প্রত্যেকেই ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সী। এ ঘটনায় এখনো অসুস্থ রয়েছেন ১২০ জন।

এ ঘটনার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আত্মীয়ের বাড়ির পাশ থেকে বিষের কৌটা উদ্ধার করে পুলিশ। খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক টেস্টে পাঠানো হয়েছে। এরপর প্রজ্ঞাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

পুলিশের দাবি, দীর্ঘক্ষণের জেরায় ভেঙে পড়ে আটককৃত প্রজ্ঞা। খাবারে বিষ মেশানোর কথা স্বীকার করে ওই গৃহবধূ।

তবে পুলিশি জেরায় সে জানায়, ‘বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়িতে তাকে মানসিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়। সম্বন্ধ করে বিয়ের পরেও গায়ের রং নিয়ে খোঁটা দেয়া হত তাকে। রান্না না পারায় অহরহ কথা শুনতে হত। সেই আক্রোশেই প্রতিশোধ নেয়ার ছক কষেছিল ওই গৃহবধূ। আত্মীয়ের বাড়ির অনুষ্ঠানেই সেই সুযোগ পেয়ে হাতছাড়া করেনি প্রজ্ঞা। রীতিমতো পরিকল্পনা করেই অনুষ্ঠান বাড়ির খাবারে বিষ মিশিয়ে বদলা নেয় সে।’

এ বিষয়ে রায়গড় থানার পুলিশ জানান, জেরায় অপরাধের কথা স্বীকার করার পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের বিরুদ্ধে খুন-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে৷

আরো খবর »