চরম নাটকীয়তার পর দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেন পর্তুগাল

Feature Image

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গ্রুপ পর্ব থেকেই ফেরা নিশ্চিত ছিল মরক্কোর, তবে তারা একেবারে খালি হাতে ফিরল না। বি গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে একবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনকে কাঁপিয়ে এবং হারিয়ে বিরাট এক অঘটনের জন্ম দিতে দিতেও তাদের রুখে দেওয়ার গৌরব নিয়েই অভিযান শেষ করল ‘দি অ্যাটলাস লায়ন’রা। বিদায়ের পরও তাই ২-২ গোলের ড্রয়ে বিশ্বকাপকে মহিমান্বিত করে গেল আফ্রিকার এই দল।

স্পেনের সমান ৪ পয়েন্ট নিয়েই ইরানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচ খেলতে নামা পর্তুগালেরও দিনটি ঠিকঠাক হলো না পুরোটা। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন লিওনেল মেসি। বিশ্ব সেরার লড়াইয়ে এই আর্জেন্টাইনের প্রধানতম প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও কাল তাই করলেন। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের সমান ৫ গোল করে ‘গোল্ডেন বুট’ জেতার দাবিটা আরো জোরালো করে রাখার সুযোগ ‘সিআর সেভেন’ হারালেও তাঁর দল পর্তুগাল জিতেই শেষ করতে চলেছিল। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে রিকার্দো কারেসমার করা গোলটি প্রায় শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা পর্তুগিজরা ইনজুরি সময়ে গোল খেল। তাও আবার সেই পেনাল্টি থেকেই। করিম আনসারিফার্দের লক্ষ্যভেদে ১-১ করার পর জয়সূচক গোলও পেতে যাচ্ছিল তারা। সেটি না পাওয়ায় সমতা নিয়েই ম্যাচ শেষ করা এশিয়ার দলটির কান্না তাই হয়ে উঠেছিল গৌরবের কালিও।

ইরান যে সময়ে সমতা ফেরাল, সেই ইনজুরি সময়ে স্পেনও। দানি কারভাহালের পাস থেকে বদলি খেলোয়াড় ইয়াগো আসপাসের লক্ষ্যভেদ নিয়েও কত নাটক। প্রথমে অফসাইডের জন্য গোল বাতিল হলেও ‘ভিএআর’-এর মাধ্যমে সেটি ফিরে পাওয়া স্পেন এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় অঘটনের শিকার হতে হতেও হয়নি। দুই ম্যাচের ড্রয়ে স্পেন আর পর্তুগালের সমান ৫ পয়েন্ট হলেও গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সের্হিয়ো রামোসের দলই। কারণ রোনালদোর পর্তুগালের (৫) চেয়ে তারা গোল করেছে একটি বেশি (৬)।

সুবাদে স্পেন দ্বিতীয় রাউন্ডে সামনে পাচ্ছে স্বাগতিক রাশিয়াকে। সৌদি আরবকে ৫ এবং মিসরকে ৩ গোলে ভাসিয়ে উড়তে থাকা দলকে কাল মাটিতে নামিয়েছে উরুগুয়ে। বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে ৮ গোল ও টানা জয়ে অন্য রকম বিশ্বকাপ পার করতে থাকা রুশদের জালে প্রথমার্ধেই ২ গোল তাদের। ৩৮ মিনিটে স্মলনিকভ লাল কার্ড দেখে স্বাগতিকদের বিপদ আরো বাড়িয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধে আরো ১ গোল করে শেষ পর্যন্ত ৩-০ ব্যবধানের জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ ষোলোতে নাম লিখিয়েছে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন (১৯৩০ ও ১৯৫০) উরুগুয়ে; যারা দ্বিতীয় রাউন্ডে সামনে পাচ্ছে কাল ইরানের সঙ্গে ড্র করা পর্তুগালকে।

স্পেনকে নাকাল করে ছাড়া মরক্কো শুরু থেকেই জমিয়ে তোলে লড়াই। ১৪ মিনিটে নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করতে গিয়ে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও সের্হিয়ো রামোসের পাকানো গোলমালে বল কেড়ে নেওয়া খালিদ বুতাইব এগিয়ে নেন মরক্কোকে। দুরন্ত গতিতে ছুটে ডি বক্সে ঢুকে স্প্যানিশ গোলরক্ষক দাভিদ দে গেয়ার পায়ের নিচ দিয়ে বল গন্তব্যে পাঠান এই স্ট্রাইকার। যদিও সমতায় ফিরতে সময় নেয়নি স্পেনও। ৫ মিনিট পরই দারুণ ক্ষিপ্রতায় বাঁ দিক দিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে বাইলাইন থেকে কাটব্যাক করেন ইনিয়েস্তা। তাতে ফাঁকায় দাঁড়ানো ইসকোর বল জালে জড়াতে সমস্যাই হয়নি কোনো। ৮১ মিনিটে কর্নার থেকে ইউসুফ এন-নেসারির হেডে লক্ষ্যভেদে আবার এগিয়ে যাওয়া মরক্কো ইনজুরি সময়ে লিড হারালেও গৌরব তাতে কমেনি একটুও।

অন্যদিকে মিসর-সৌদি আরবের মর্যাদার ম্যাচ ছিল কাল। বিশ্বকাপ থেকে একটি জয় নিয়ে ফিরতে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা বসিয়েছে। তাতে মোহামেদ সালাহ আসরে নিজের দ্বিতীয় গোল পেয়েছেন। সৌদি আরব দুটি পেনাল্টি পেয়ে তার একটি কাজে লাগিয়ে সমতায় ফেরার পর সালেম আল দোসারির শেষ মুহূর্তের গোলে ম্যাচ জিতেও গেছে ২-১ ব্যবধানে।

আগের দুই ম্যাচের ছন্দ ধরে রাখতে রাশিয়া এদিন আক্রমণাত্মক ছিল ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই। কিন্তু উরুগুয়ে প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামলে প্রতি আক্রমণে উঠতেই স্বাগতিকরা ভুল করে ফেলে। বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা ইউরি গাজিনস্কি বক্সের ওপর ফাউল করেন রোদ্রিগো বেনতানকুরকে। লুই সুয়ারেস অনেকটা পেনাল্টি নেওয়ার মতো করে সেখান থেকে বল জালে পাঠিয়েছেন নিচু শটে। সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম গোল পাওয়া সুয়ারেসের এটি দ্বিতীয় গোল টুর্নামেন্টে। সুয়ারেসের ওই গোলের পর পুরো প্রথমার্ধে রাশিয়া তো আর কোনো শটই নিতে পারেনি প্রতিপক্ষের পোস্টে। উল্টো বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া উরুগুইয়ান উইঙ্গার ডিয়েগো লাক্সল্টের শটে তারা দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়ে। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে সুয়ারেসের সঙ্গে গোলের খাতায় নাম তুলেছেন এদিনসন কাভানিও। কর্নারে ডিয়েগো গোদিনের হেড রাশিয়া গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে ফিরতি শট জালে জড়িয়ে দিয়েছেন পিএসজি তারকা।

আরো খবর »