আওয়ামী লীগ বিদেশী শক্তির মদদে নয়, জনগণের ওপর নির্ভরশীল : প্রধানমন্ত্রী

Feature Image

ঢাকা,  : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী নির্বাচনে জনগণ তাঁকে ভোট দিলেই তার সরকার ক্ষমতায় থাকবে, নচেৎ নয় বা বিদেশী কোন শক্তির মদদে নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের ওপর নির্ভরশীল, কারো মুখাপেক্ষী হয়ে আমরা রাজনীতি করি না। কে সমর্থন করবে বা কে করবে না, বাইরের মুখাপেক্ষী হয়ে আমার রাজনীতি না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে তাঁর জাতিসংঘ সফর উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে একথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি আমার জোর হচ্ছে আমার দেশের জনগণ। আমার জনগণের সমর্থন আছে কি না, জনগণ আমাদের চায় কি না, জনগণ আমাদের ভোট দেবে কি, দেবে না, সেটাই আমার কাছে বিচার্য বিষয়।’ এ সময় ২০০১ সালে বিএনপি বিদেশি প্রভুদের কাছে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রীর মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বলেও তাঁর অভিযোগ পুনরুত্থাপন করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে সদ্য পাশ হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা করে, তাঁদের এই আইন নিয়ে উদ্বেগের কোন কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যেসব সাংবাদিক মনে করেন তারা কোন অন্যায় করবেন না, কারো বিরুদ্ধে কোন ধরনের অপবাদ বা মিথ্যা তথ্য দেবেন না, জনগণকে বিভ্রান্ত করবেন না, তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’

তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধিকাংশ ধারাই ফৌজদারি দন্ডবিধিতে (সিআরপিসি) আছে। কেবলমাত্র ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার সংক্রান্ত ধারাগুলো নতুন ডিজিটাল আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী উদাহরণ দেন- জঙ্গি দমনের ক্ষেত্রে কাউকে মোবাইল ট্রাক করে সনাক্ত করা হলো এবং সে যেকোন সময় একটি বিপদজনক ঘটনা ঘটাতে পারে। সেখানেতো গ্রেফতারের জন্য কারো নির্দেশের অপেক্ষা করলে চলে না। তাকে আগে ধরতে হবে, পরে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সারাবিশ্বে এটাই নিয়ম।

তিনি বলেন, কাজেই এখানে উদ্বিগ্ন তারাই বেশী হবে, যারা এতদিন ধরে খুব তৈরী হয়ে রয়েছে যে, নির্বাচন আসলেই বা তফসিল ঘোষণা হলেই আমাদের বিরুদ্ধে তৈরী করা একের পর এক মিথ্যা খবর প্রচার করবে।
তিনি বলেন, এই আইনের একটি ধারা রয়েছে, কেউ কারো বিরুদ্ধে যদি কোন মিথ্যা তথ্য দেয় তাহলে সেই মিথ্যা তথ্যটা তাকে প্রমাণ করতে হবে যে, এটা সত্য। যদি সে প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে সেই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বা যে পত্রিকা বা ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা ডিজিটাল ডিভাইস এটা প্রকাশ বা ব্যবহার করবে, তাদের সবাইকে শাাস্তি পেতে হবে। যার বিরুদ্ধে লিখবে তার যে ক্ষতি হবে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কাকে জরিমানা করা হবে, যে বিধান বাংলাদেশের আইনে না থাকলেও ইংল্যান্ডে রয়েছে।

এ সময় বিবিসি’র একটি সংবাদ পরিবেশন নিয়ে সেটি ভুল প্রমাণিত হওয়ার পরে তাদের অনেক কর্তা ব্যক্তিদের পদত্যাগ করার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় কিছু মিডিয়ায় তাঁর চরিত্র হননের অপচেষ্টার সমালোচনা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার মিথ্যা প্রমাণিত হলেও যারা সেই অপপ্রচারে যুক্ত ছিলেন তারা এখনও বহাল তবিয়তে থাকায় তাদের বিরুদ্ধে তিনি এখনো কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ এমনকি মামলাও করতে পারেননি বলে উল্লেখ করেন।
মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে যাকে সমাজ এবং পরিবারের কাছে হেয় করা হলো তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া যাবেনা, প্রশ্ন উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে অনেক সাংবাদিক উদ্বিগ্ন তা না হয় বুঝলাম কিন্তু এখানে ভুক্তোভোগীদের কি হবে, তাদের কিভাবে কনপেনসেট করবেন?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করার আগে পৃথিবীর বিভিন্ন আইনগুলো পর্যালোচনা করে দেখেছে, এটা অনলাইনে দিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনাও করা হয়েছে, এরপরেও এত উদ্বেগ কিসের, জানতে চান তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘কারো যদি অপরাধী মন না থাকে বা ভবিষ্যতে অপরাধ করবে এরকম পরিকল্পনা না থাকে তবে, তার উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই।’
প্রধানমন্ত্রী আইনের ধারা বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, আগে এই আইনেও ছিল সরাসরি গ্রেফতারের বিধান, কোন সমনজারির বিধান ছিলনা। তিনি নিজেই সাংবাদিকদের স্বার্থে সেটি পরিবর্তন করে দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিএনপি আমলের নির্যাতিত সাংবাদিকদের কল্যাণে তাঁরা কি ভূমিকা রাখতে পেরেছেন সে প্রশ্ন তুলে বলেন, অন্তত আমি যতক্ষণ আছি ততক্ষণ আপনাদের উদ্বেগের কোন কারণ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে, সাইবার নিরাপত্তা, রোঙ্গিা প্রত্যাবাসন, আসন্ন নির্বাচন, নির্বাচন কেন্দ্রিক বিরোধী জোট গঠন প্রভৃতি বিষয় সাংবাদিকদের প্রশ্নে ঘুরে ফিরে আসে এবং প্রধানমন্ত্রী তা অনুপুঙ্খ জবাব দেন।

সম্প্রতি ফেসবুকে বাংলাদেশের এশিয়া কাপের ফাইনালে সেঞ্চুরি করা লিটন দাসের একটি পূজোর শুভেচ্ছা জানানোকে কেন্দ্র করে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এজন্যই সাইবার সিকিউরিটি সংক্রান্ত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি আমরা পাশ করেছি।
‘এটা আপনাদের জানা দরকার এ ধরনের নোংরামি যেন না হয় সেটা মাথায় রেখেই এই আইনটি করা হয়েছে’, বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্বের অনেক জায়গাতেই আজকাল সামাজিক ও পারিবারিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ড, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ সহ নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, সকলেই এই বিষয়টাতে আজ উদ্বিগ্ন।
তবে নিজে যে কারণে কোন সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফরম ব্যবহার করেন না বলেও এ সময় জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করে এবং আমরা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।
সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প সমাজে রয়েছে স্বীকার করেই প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টাকে বিকৃতমনা মানুষদের কারসাজী বলে মন্তব্য করেন।
তিনি এজন্য সকলের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এটা ঠেকাতে হলে গোটা সমাজকেই আরো বেশি সচেতন হতে হবে, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং আমি চাই আমাদের সাংবাদিকদের ভেতর থেকেও এ ব্যাপারে যেন ভূমিকা রাখা হয়।
নির্বাচনকে সামনে রখেখে বিএনপি’ন একটি প্রতিনিধি দল জাতিসংঘে গিয়ে সেখানে মহাসচিবের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার প্রেক্ষিতে তাঁকে কেউ কোন পরামর্শ বা অনুরোধ বা গাইডলাইন প্রদান করেছে কিনা এ প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি বিষয়টি নাকচ করে দেন।
তিনি বলেন, এরকম কোন পরামর্শ তো পাইনিই বরং যাদের সঙ্গে কথা বলেছি তারা আরো তাঁকে উৎসাহিত করেছেন, শুভেচ্ছা জানিয়েছেন যেন তিনি পুণরায় নির্বাচিত হয়ে আসতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি তখন বলেনি, আপনারা আসেন, আমাকে ক্ষমতায় বসিয়ে যান। বরং বলেছি, দেখেন দেশের মানুষ যদি ভোট দেয়, তাহলে আছি, না দিলে নাই। তাহলে এটাই আপনাদের সাথে আমার শেষ দেখা।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৩ তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব থেকে শুরু করে সকল রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান সকলেই যার সঙ্গে কথা বলেছি সকলেই তারা সকলেই এই আকাঙ্খাটার কথা জানিয়েছেন- যেন আমরা আবার নির্বাচিত হয়ে আসতে পারি এবং তাঁদের সঙ্গে যেন আবার সাক্ষাৎ হয়।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের নির্বাচন নিয়ে কারো তেমন কোন মাথা ব্যথা হয়নি বরং আমি নিজে থেকে বলেছি, আমাদের দেশে সামরিক সরকার থাকার সময়গুলোতে কেমন নির্বাচন হত। আর তাঁর সরকার নির্বাচন পদ্ধতির কেমন সংস্কার করেছে।
তিনি এক সময় আন্দোলন সংগ্রাম করে আজকের নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স এবং ছবিসহ ভোটার তালিকা এবং ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন পরিবেশ নিশ্চিত করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ‘অ্যা ব্রোকেন ড্রিম’ নামে বই প্রকাশ এবং সম্প্রতি নিউজ এজেন্সি পিটিআই’কে দেয়া সাক্ষাৎকার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি চিকিৎসার জন্য বাইরে গেলেন, বললেন, মেয়েদের দেখতে যাচ্ছি। তারপর সেখানে থেকে গেলেন। যে কথাগুলো উনি বলেছেন, এখানে আমার কমেন্ট করার কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত কী করেন, আমি দেখি। আমি অবজার্ভ করছি।’
‘ল উইল টেইক ইটস ওউন কোর্স (আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে),’যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অ্যাপিলেট ডিভিশনের কয়েকজন বিচারপতি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে দেখা করে তারাই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পেশ করেন। তারা এ কথাও বলেছিল, উনি কোর্টে থাকলে তারা কোর্টে বসবেন না। সমস্যাটা কিন্তু এখানেই সৃষ্টি। এখানে আমরা কিছু করিনি।’
আগামী জাতীয় নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা এটা মনে করি। হ্যাঁ, এবার সব দলই আসবে। এটা আমরা আশা করি। তবে যদি কেউ না আসে, সেটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। সেখানে আমাদের কোনো কিছু করণীয় নেই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন চায় এবং তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এখানে এত দল, সেখানে কোন দল আসবে আর কোন দল আসবে না, সেটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। তাদের সিদ্ধান্ত তো আর আমি নিতে পারি না। এটা তাদের নিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৮ এর নির্বাচনের পর ২০১৪-এর নির্বাচনের পূর্বে তখন আমার একটা চেষ্টা ছিল যে, তখনকার যারা প্রধান বিরোধীদল ছিল বা অন্যান্য বিরোধী দল, আমি তাদের একটা আস্থার জায়গা সৃষ্টি করার জন্য আহ্বান করেছিলাম, যে আসুন সকলে মিলে একটা সরকার গঠন করে নির্বাচন করি।’
তিনি বলেন, ‘তখন বিরোধী দল বলতে পার্লামেন্টে যারা ছিল, তারা কিন্তু সাড়া দেয়নি। অন্যান্য যেসব দল সাড়া দিয়েছিল, আমরা তাদেরকে নিয়েই একটা নির্বাচন করি। সেই নির্বাচন ঠেকানোর নামে পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ মারা হয়।’
‘সামান্য এতিমের টাকার লোভ যারা সামলাতে পারে না, আর মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, তাদের জন্য এত দরদ, এত সিমপ্যাথি, তাদের জন্য এত কেন মায়াকান্না ?’ এ প্রশ্নও তোলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষেও তাঁর নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করে বলেন, এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। আপনি যদি মোবাইলে টিপ দিয়ে টাকা পাঠাতে পারেন, ভোটটা আপনার প্রিয় জিনিস, ভোটটাই বা আপনি দিতে পারবেন না কেন। বরং এমন একটা ইয়ে তৈরি করা উচিত, আপনি মোবাইল থেকেও ভোটটা দিতে পারেন, কষ্ট করে আর যাওয়া লাগবে না।
ইভিএমে অনেক সুবিধা উল্লেখ শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ যাচ্ছে, টিপ দিচ্ছে, ভোট দিচ্ছে, সাথে সাথে গুনে রেজাল্ট পেয়ে যাচ্ছে।’
জিয়া এবং এরশাদের সেনা শাসনামলের ভোটের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে যেমন সিল মেরে বাক্স নিয়ে গেল বা একটা গাড়িতে করে যেয়ে ভোট দিল, ১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডা, নির্বাচন ঠান্ডা। অন্তত সে জায়গা থেকে তো মুক্ত।’
‘জাতীয় ঐক্য’ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জোট হচ্ছে, আমি খুব খুশি। তাদের জোট করার জন্য যা যা সহযোগিতা লাগবে, আমি তাও করতে রাজি। কারণ, আমি জানি বাংলাদেশের ভোট দুই ধরনের। একটা আওয়ামী লীগ, একটা এন্টি-আওয়ামী লীগ। এন্টি-আওয়ামী লীগ ভোট তো কোথাও যেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জোট হচ্ছে, সেটা বড় হচ্ছে, সেখানে কিন্তু বড় বড় মানুষও আছে। আমার কথা হচ্ছে, শত ফুল ফুটতে দেন। এটা নির্বাচনের জন্য ভালো।’
শেখ হাসিনা জাতিয় ঐক্য সম্পর্কে আরো বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তারা নির্বাচনে আসবেন কিনা, বা নির্বাচন করতে পারবেন কিনা বা সে সাহস তাদের আছে কিনা, সেটাও একটা প্রশ্ন। কিন্তু জোট যখন হচ্ছে আমি তাদের সাধুবাদ জানাচ্ছি।’

নিজের জোটের কলেবর বৃদ্ধির পরিকল্পনা আছে কিনা- এমন প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জোট যা আছে, আছে, আমরা যেভাবেই আছে। আর যদি কেউ আমাদের সাথে আসতে চায়, আমরা দেখব। আমাদের খুব বেশি কলেবর বৃদ্ধির দরকার নেই।’
নির্বাচনকালীন সরকারের রপরেখা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচন পরিচালনার জন্য সরকার গঠনে দুই একটা দলের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। অন্যদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি ঠিক করা হবে। তবে, এজন্য কোন নির্দিষ্ট ফর্মূলা নেই।
তিনি বলেন,‘কেবিনেট হয়ত ছোট করে নিয়ে আসতে পারি। কারণ, ফ্রিভাবে চলাচল করা ইলেকশনে আইন অনুযায়ী সমস্যা আছে।’
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদেরকে ফিরিয়ে নেবে বলে কথা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীও এ জন্য তাদেরকে চাপ দিচ্ছে।
কওমি শিক্ষার স্বীকৃতি প্রসঙ্গে সরকার প্রধান বলেন, কওমি মাদরাসার ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যৎ ছিল না। তারা কি করতো, কোথায় যেত কোনো ঠিকানা ছিল না। আমি তাদের জন্য ভবিষ্যৎ ঠিকানা করে দিয়েছি।
তিনি বলেন, ‘মাদরাসা শিক্ষার ব্যাপারে বলবো যে, ওখানে লাখ লাখ ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা করে। তাদের কোনো স্বীকৃতি ছিল না। তারা নিজেরা নিজেদের মতো করে জীবন যাপন করতো। আমি তাদের জন্য ভবিষ্যৎ ঠিকানা করে দিয়েছি।’
ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অন্য সকলের মত তিনিও অনুভূতি প্রবণ হলেও তিনি ধর্মের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘আমার কোনো শত্রু ছিল না। তবে হ্যাঁ ওই হেফাজতের ঘটনার রাতের আগে খালেদা জিয়া সবাইকে আহ্বান জানালেন আপনারা সবাই ঢাকা চলে আসেন। আমার মতো চেষ্টা করেছি পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য।’
তিনি বলেন, ওই রকম পরিস্থিতি যেন বাংলাদেশে না ঘটে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই তাঁর কাজ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই রাতে মতিঝিল, শাপলা চত্বরসহ মানুষ যে টেনশনে ছিল তাদের তো টেনশনমুক্ত করেছি। এজন্য আমি তো ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। সে সময় অনেকে বলেছে আমি তো ধর্মই বিশ্বাস করি না। এ রকম একটা ভাবনা অনেকের মধ্যে ছিল।
সরকারি চাকরিতে কোটা তুলে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যখন কোটা চায় না তখন কোটা তুলে দেওয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার।

শেখ হাসিনা কোটা আন্দোলনকারীদের বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, ‘মেয়েরাও কোটা চায় না। ভালো কথা। মুক্তিযোদ্ধারাও এখন চাকরি পাওয়ার মতো কেউ নেই। সবই তো মারা গেছে।’
তাও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের বংশ পরম্পরায় সরকার পরিচালনায় যেন একটা অংশীদারিত্ব থাকে সেজন্য তিনি কোটা রাখার স্বপক্ষে ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, ‘যারা আন্দোলন করলেন তাদের সঙ্গে আমাদের সেক্রেটারি জেনারেল যখন মিটিং করলেন সেখানে অনেকে বলে আমি মুক্তিযোদ্ধার নাতি- আমরা চাই না কোটা। মেয়েদের একজন বললো আমরা কোটা চাই না, আমরা প্রতিযোগিতা করেই আসবো। মেয়েদের মধ্যে যখন আমি আত্মবিশ্বাস দেখলাম তারা প্রতিযোগিতা করে আসবে তাহলে আর কোটা থাকার দরকার কি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার নাতিই বলে আমি কোটা চাই না। বলেন দরকার আছে আর কোটা রাখার। আর কোটা থাকলে আন্দোলন, কোটাই নাই আন্দোলনও নাই, সংস্কারও নাই।’

আরো খবর »