টাঙ্গাইলে কলম ভাস্কর্য ও কলম জাদুঘর উদ্বোধন হবে ২০২১ সালে

Feature Image

টাঙ্গাইল, মধুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে
রুমি আক্তার পলি
২৫ অক্টোবর ২০১৮

২০২১ সালে জাতীয় স্বাধীনতা দিবসের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জাঙ্গালিয়া নামক গ্রামীণ ভূদৃশ্যে আলোর ভুবন আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে কলম ভাস্কর্য এবং কলম জাদুঘর নির্মিত হবে।

এ ভাস্কর্য ও জাদুঘর নির্মাণ করতে স্থানীয় যুবক ও আলোর ভুবন আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর কবির ইয়ুথ ইউনিয়ন ফর সাস্টেইনেবল হিউম্যান আক্টিভিটিজ নামক একটি সংস্থা প্রণয়ন করেছেন।

উক্ত সংস্থাটির মাধ্যমে সমস্ত কলম ভাস্কর্য ও কলম জাদুঘর প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে এবং উক্ত সংস্থাটির নাম পূর্বে ভাস্কর্য ২০২১ ছিল।

এ প্রকল্পটির নকশা তৈরি করেছেন শান্তা মরিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী শাকিলা শুক্লা এবং নকশাটি উক্ত সংস্থার কাছে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে হস্তান্তর করা হবে।

জাহাঙ্গীর কবির বলেছেন ভাস্কর্যটি নির্মাণের জন্য সংস্থাটির সদস্যগণ ২০১৩ সাল থেকে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কলম সংগ্রহ করছেন।

কবির তার সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে ভাস্কর্যটি নির্মিত হবে ৫০ হাজার শিক্ষার্থী, ৫০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫০টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৫০টি কলেজ এবং ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ লক্ষ বাতিলকৃত কলম দ্বারা।

কলম জাদুঘরে সংগীতশিল্পী, শিক্ষক, সাংবাদিক, লেখকসহ ৫০ জন বিখ্যাত মানুষদের কলম থাকবে।

কবির আরো বলেন, কলম সংগ্রহের ৫০ মাস পর থেকে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ জন ছাত্রছাত্রীরা মিলে ভাস্কর্যের কাজ শুরু করবে।

বঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা প্রদানের জন্য জাহাঙ্গীর কবির আলোর ভুবন আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন।

প্রায় ৭-৮ কিলোমিটার উপজেলা কেন্দ্রস্থলে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।আলোর ভুবনই একমাত্র ভরসা যা ৬০ ডেসিমাল জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত।জাঙ্গালিয়া গ্রামের আব্দুস সাত্তার নামক একজন কৃষক ওই জমি প্রদান করেছেন।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দ্যমী ছাত্রছাত্রীরা তাদের হাতখরচ দ্বারা বিদ্যালয়টি পরিচালনা করে। কবির বলেছেন, তাদের কলম সংগ্রহের প্রচারণা ১৬টি জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রতি বছর হাজারো পর্যটক মধুপুরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন তাই এ স্থানকে আরোও আকর্ষণীয় করতে এখানে কলম ভাস্কর্য ও কলম জাদুঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।

ভাস্কর্যটির উচ্চতা হবে ৫০ ফুট এবং কলম জাদুঘরটি কলম ভাস্কর্যের সংলগ্নে নির্মাণ করা হবে যেখানে বিশ্ব বরেণ্য ব্যক্তিদের কলম ও হাতের লেখা রাখা হবে।

২০২১ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দিন এ কলম জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে।

রফিকুজ্জামান ও মইনুল ইসলাম খানের রচনায় রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, মাকসুদ ও ৪৮ জন শিল্পীদের গাওয়া একটি সংগীত এ প্রকল্পের প্রচারণার অংশ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

আরো খবর »