লিচুর কুঁড়ি থেকে মধু সংগ্রহ লাভজনক ব্যবসা হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে

Feature Image

রুমি আক্তার পলি
২ এপ্রিল ২০১৮

মৌমাছিদের মাধ্যমে লিচু বাগান থেকে মধু সংগ্রহ বর্তমানে একটি লাভজনক পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে যা বাংলাদেশের উত্তর জেলা দিনাজপুরের অর্থনীতিকে ক্রমশ সক্রিয় করে তুলছে।

যে সকল মানুষ ওই জেলায় মৌমাছি সংরক্ষণ কার্যের সাথে যুক্ত তাদের মাঝে বর্তমানে লিচুর কুঁড়ি থেকে মধু সংরক্ষণ করা সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অবদান রাখছে উল্লেখযোগ্য হরে রসালো গ্রীষ্মকালীন ফল উৎপাদনে।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মৌমাছি পালকদের একটি বড় সংখ্যা প্রতি গ্রীষ্মে উত্তর দিনাজপুরের লিচু বাগান থেকে মধু সংগ্রহ করে যখন লিচুর পূর্ণ ফলন হয়।মৌচাকে মৌমাছির উপনিবেশ প্রতিপালন করার সুযোগ প্রদান করে বিধায় তারা লিচু গাছের মালিকদের বিবেচনাযোগ্য পরিমানে অর্থ প্রদান করেন।

মধু, মোম, পরাগ, মোরব্বা ইত্যাদি পণ্যদ্রব্য মৌমাছি থেকে পাওয়া যায়।এসকল দ্রব্য লোকালয় বাজারে ও জেলার বাইরে বিক্রি করে মৌমাছি পালনকারীরা যেমন অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে তেমনি উত্তর দিনাজপুর জেলাও অর্থনৈতিকভাবে সক্রিয় হচ্ছে।সুতরাং, এ মৌমাছি সংরক্ষন কার্য যেমন দেশে মধুর চাহিদা মেয়েই তেমনি বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়তা করে।

কিন্তূ, সেক্টরের কিছু কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানান যে, জেলায় উৎপাদিত মধু রপ্তানি করা যেতে পারে যদি ঋণসহ সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া যায়।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিএসসিআইসি) দিনাজপুর, শিল্প সহায়তা কেন্দ্রের সূত্র জানায়, জেলায় প্রায় তিনশো মধুচক্র রয়েছে।

প্রতি বছর জেলার মধুচক্র গঠন করে প্রায় দেড় কোটি টাকার ৪৫ টন মধু সংগ্রহ করা হয়।

বীরাল উপজেলার মাধব্বতি এবং সদর উপজেলার মাসিমপুর লিচু উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত।

সিরাজগঞ্জের মধু সংগ্রাহক জীবন চন্দ্র জানান, গ্রীষ্মকালে মধু সংগ্রহের জন্য তারা দিনাজপুর জেলায় আসেন যখন লিচু গাছে কুঁড়ি হতে শুরু হয়।লিচু বাগান থেকে মধু সংগ্রহের জন্য তাঁর ৭৮ টি বাক্স রয়েছে।

বাগানের মালিকরা তাদের মধু সংগ্রহ করতে দেয় কারণ এটি লিচুর ভাল উৎপাদনে সহায়তা করে।

একই এলাকার মধু সংগ্রাহক আব্দুর রহমান বলেন, যারা মধু সংগ্রহ করতে আসে তাদের তিন থেকে চার জন লোকের দল থাকে এবং প্রতিটি দল ৩০-৪০ ঢিবি মধু সংগ্রহ করে।

প্রতি ঢিবি মধু বিক্রি হয় ১২,০০০ টাকায়। প্রতিটি দল ৩ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা লাভ করে।

তিনি আরোও বলেন, দিনাজপুরে লিচুর কুঁড়ি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়া জেলায় সরিষার ফুল, চাকমায় ধনে ফুল, শরিয়তপুরের কালো জিরা ফুল এবং পঞ্চগড়ের তিল ফুল থেকে বছরে ছয় মাস তারা মধু সংগ্রহ করে। বাকি ছয় মাসের জন্য তাদের বেকার থাকতে হয়।

মধু চাষি সিকান্দার বলেন, যদিও তারা মধু সংগ্রহ করে তবে এর কোন নির্দিষ্ট বাজার নেই।মধু উৎপাদনের নির্দিষ্ট কোনো প্রক্রিয়াও নেই।

তাছাড়া, যারা মধু সংগ্রহ করে সরকার থেকে তাদের কোনো ধরণের ব্যাংক ঋণ দেয় হয় না।

দিনাজপুরের বিসিকের কর্মকর্তা জানান, জেলায় মধু সংরক্ষন শিল্প বৃদ্ধির জন্য মধু চাষিদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

আরো খবর »