বাংলাদেশের ফুল উৎপাদন শিল্প চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে

Feature Image

রুমি আক্তার পলি
৪ এপ্রিল ২০১৮

প্রয়োজনীয় সুযোগের অভাবে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে সম্ভাবনাময় এবং প্রত্যাশিত ফুল চাষের ব্যবসা ভাল চলছে না।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটি (বিএফএস) এর সভাপতি আব্দুর রহিম বলেন, দেশের ফুলেল খাতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে।তিনি বলেন,”এই সেক্টরের জন্য ঢাকায় স্থায়ী কোনো পাইকারি বাজার নেই। এটি উন্নত প্রযুক্তির সুযোগের অভাবের সম্মুখীন।ফুল চাষিদের অন্যান্য কৃষকদের মতো কম খরচের ঋণের সুযোগ নেই।”

বিএসএফ সভাপতি আরও বলেন, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গাদখালীতে ৩০ ডেসিমাল জমিতে ১৯৮৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু হয়, যা এখন বাংলাদেশের ‘ফুলের রাজধানী’ নামে পরিচিত।

বর্তমানে ২৪টি জেলায় প্রায় ১২০০ একর জমিতে ফুল চাষ করা হয়। ফুল উৎপাদন, বিতরণ ও বিক্রি এর সাথে কমপক্ষে ২০ লাখ মানুষ জড়িত।

“কিন্তূ, ফুল চাষ ব্যবসা হিসাবে খুব একটি প্রগতিশীল, সমৃদ্ধ হয় না অনেক সমস্যার কারণে।আমরা যৌক্তিক সহায়তার অভাবে আমাদের ফুল সংরক্ষণ করতে পারি না, যদিও দিনে দিনে উৎপাদন বাড়ছে” আবদুর রহিম বলেন।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পেশাদারদের অভাবও একটি সমস্যা।আব্দুর রহিম বলেন, এই ক্ষেত্রটি যথাযথ দিকনির্দেশনা ও ব্যবস্থাপনা ছাড়া গত ৩০ বছরে ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়েছে।ফুল চাষের সঠিক জ্ঞানের অভাবে কৃষকরা যথাযথ মুনাফা অর্জন করতে পারেনি।

ভারত, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামে এবং জাপানের মতো এশীয় দেশ বিশ্বব্যাপী ২০ বিলিয়ন ডলারের ফুল বাজারে অংশগ্রহণ করে।বিএফএস এর মতে, এই বাজারে বাংলাদেশের বড় খেলোয়াড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আব্দুর রহিম জানান, বাজার গবেষণা সংস্থা ফুল শিল্পের উপর তাদের একটি রিপোর্টে সুপারিশ করেছে যে কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষকদের উন্নততর সেবা প্রদানের জন্য কিছু কর্মকর্তাকে বিদেশ থেকে প্রশিক্ষণ দিতে পারে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে যে, এই সেক্টর বিকাশের জন্য সরকার একটি স্থায়ী বাজার প্রতিষ্ঠা করবে এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করবে।পাশাপাশি, ফুলের আমদানিতে সরকারকে উচ্চ মানের কর্তব্য আরোপ করতে হবে।এই পদক্ষেপ সমূহ স্থানীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে অনেক অবদান রাখতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান মকবুল হোসেন বলেন,”ফুল ব্যবসায়ীরা আমাদের কিছু সুপারিশ পাঠাতে পারে তাদের উন্নয়নের জন্য।তারপর আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে উক্ত সুপারিশ সমূহ পাঠাবো।তারা সিদ্ধান্ত নেবে।”

ঢাকা শহরে স্থায়ী পাইকারি বাজার প্রতিষ্ঠার জন্য উপযুক্ত নির্মাণ ভূমি নির্বাচনের জন্য সরকারকে সম্মত করার জন্য বিএফএস কাজ করছে যাতে উৎপাদকদের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং ফুল শিল্পের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবস্থা করা যায়।কিন্তূ, এটি দ্রুত বর্ধমান ফুল বাজারের জন্য খুব কম বলে মনে করা হয়।

ফুল ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রতি বছর দেশে ৮৫০ কোটি টাকা মূল্যের ফুল বিক্রি হয়। ২১শে ফেব্রুয়ারী, ভ্যালেন্টাইন্স ডে, পহেলা বৈশাখ ইত্যাদি বিশেষ উপলক্ষ্যে দৈনিক বিক্রির পরিমাণ ১৫-২০ কোটি টাকা পর্যন্ত হয় রাজধানীতে।দেশের বাইরে ৫০-৬০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে পারে।

শাহবাগের ফুল বিক্রেতা আলমগীর বলেন,”সাধারণত আমরা সাদা গোলাপ প্রতি পিস্ ১০০ টাকায় বিক্রি করি, কিন্তু বিশেষ দিনে এটি প্রায় এক হাজার টাকায় বিক্রি হয়”।

আবদুর রহিম এই পর্যায়ে বলেন যে শিল্পকে বিকাশের জন্য অবশ্যই আধুনিকীকরণ করতে হবে।সরকার ঢাকায় একটি স্থায়ী পাইকারি বাজার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং যশোরে একটি ইনস্টিটিউট স্থাপনের কথা চলছে যেখানে এটি শুরু হবে ।

আরো খবর »