যে কারণে মনোনয়ন বঞ্চিত হলেন দক্ষিণের সাবেক মন্ত্রী

Feature Image

পটুয়াখালী থেকে : সাগরকন্যাখাত পটুয়াখালীর কলাপাড়া, রাঙ্গাবালী, মহিপুর নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী – ০৪ আসন। এ আসনে শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়নের চিত্র সবচাইতে বেশি দেখা যায়। বিগত আমলে এই আসনে আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে মাহবুবুর রহমান তালুকদার ছিলেন অন্যতম। কারণ দলীয় দুর্দিনে এই অঞ্চলে মাহবুবুর রহমান তালুকদারের দলীয় ভূমিকা অনস্বীকার্য। সে কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। পরবর্তীতে দূর্নীতি, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজিসহ দলবিরোধী কর্মকান্ডের কারণে দলীয় আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন বলে ধারণা করে কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতারা।


সর্বশেষ স্থানীয় সরকার ইউপি নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালী – ০৩ আসনের পাচঁটি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিনটিতে নৌকা বিজয়ী হলেও ধানখালী ও লালুয়া নামক ইউনিয়নে নৌকার পরাজয় ঘটে। অভিযোগ পাওয়া যায় মাহবুবুর রহমান গোপনে ধানখালীতে বিদ্রোহী (প্রকাশ মাহবুবুর রহমানের শ্যালক) হিসাবে সার্পোট করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালানোরত অবস্থায় ২৬ই মার্চ পটুয়াখালী পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাসিব হাসান রাকিবের উপর র্ব্চরচিত হামলা করা হয়। পরে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব এম. পি মাহবুবুর রহমান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল আহসানের ছবিতে লাল ক্রসচিহ্ন দিয়ে তার ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করেন। বিষয়টি দলীয় সভানেত্রীর নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরে নিলে তারা রাকিবকে মুঠোফোনে ঢাকার সেগুনবাগিচায় দেখা করতে বলে। পরে তিনি দেখা করতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পরবর্তীতে মাঠ পর্যায়ে জরিপের নামে ঐ সংস্থার একটি বিশেষ টিম। হামলার বিষয়টি সহজে মেনে নেয়নি পটুয়াখালী জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। যার ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক প্রভাবশালী সহ-সভাপতি সহ বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বিভিন্ন গুরুত্বর্পূণ ইউনিট যথা, চট্টগ্রাম, নারায়নগঞ্জ, কক্সবাজারসহ, অনেক ইউনিটের নেতাকর্মীরা বিষয়টিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যার ফলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিষ্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং শামীম ওসমানকে অবহিত করেন তারা। মাহবুবুর রহমানের দল বিরোধী কর্মকান্ড লিফলেট আকারে ছাপিয়ে অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের বাসার ঠিকানা পাঠাতে দেখা যায় রাকিবকে। রাকিব চট্টগ্রাম মহানগরের আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সাগর এর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতাদের দরখাস্ত: এদিকে মাহবুবুর রহমানের দল বিরোধী কর্মকান্ড সর্ম্পকে একাধিক পৃষ্ঠার প্রতিবেদন তৈরী করেন ধানখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শহিদুল আলম, সাধারণ সম্পাদক জাকির মৃধা, সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন বিশ্বাস স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনটি দলীয় সভানেত্রী ও সাধারণ সম্পাদকের নিকট প্রেরণ করেন। ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতির ছেলে শিমুর উপর হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়।

স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা জুয়েল প্যাদা আটক:  ইউপি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর পরই কলাপাড়া উপজেলা সেচ্চাসেবকলীগ নেতা জুয়েল প্যাদাকে অস্ত্রসহ আটক করে র‌্যাব-৮। পরে জানা যায় জুয়েল প্যাদাকে নিজ বাড়ী থেকে আটক করে চাকামইয়া ব্রীজ নামক এলাকায় নিয়ে মার-ধর করে অস্ত্র দিয়ে ফাসিয়ে জেলহাজ্বতে প্রেরণ করা হয়। মূলত ধানখালী ইউনিয়নে নৌকার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনা চালানোর জন্যই মাহবুবুর রহমান তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে আটক করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এতে বরিশাল আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আরো খবর »