এ কেমন হত্যাচেষ্টা ?

Feature Image

পটুয়াখালী প্রতিনিধি : প্রায় এক বছর পূর্ন হতে চলছে । কবরের বাঁশ আজ অনেক বড় হত । ১৯৯৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার লোন্দা গ্রামে পিতা আলমগীর পাহলান মাতা শোভা বেগমের উদরে জন্মগ্রহন করেন তিনি । পাঁচ ভাইবোন মধ্যে ৪র্থ তিনি । তারা প্রত্যেকেই এলাকার মেধাবী মুখ হিসেবেই পরিচিত । ৫ম শ্রেনীতে পড়া অবস্থায়ই রেডিও তে বঙ্গবন্ধুর ভাষন শুনে তাকেই নেতা হিসেবে মনেপ্রানে গ্রহন করেন তিনি । ২০১১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় সায়েন্স বিভাগে উত্তীর্ন হওয়ার পর মায়ের তীব্র অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রকৌশলী হওয়ার জন্য মেধা তালিকায় উত্তীর্ন হয়ে সিভিল ডিপার্টমেন্টে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি হন তিনি । ভর্তির একমাসের ব্যাবধানে শিক্ষাবানিজ্যের বিরুদ্ধে একাই কলেজে মিছিল করতে শুরু করেন। ফলে উক্ত কলেজের শিক্ষকরা বিষয়টি সমাধানের জন্য গভর্নিংবোর্ডের সভার তারিখ ধার্য করতে বাধ্য হন।

আর উক্ত সভায় তাকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হবে সেটা তিনি বুজতে পেরে ছাত্রত্ব রক্ষার জন্য সাংবাদিকতাকে পেশা -হিসেবে গ্রহন করেন তিনি পরে এনটিভি স্টাফ রিপোর্টার (বর্তমান পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি ) কাজল বরন দাসের আশ্বাসে ক্লাসে ফেরেন । কলেজ ক্যাম্পাসে মাদক ,ইভটিজিং , শিক্ষাবানিজ্য সহ বিভিন্ন অনৈতিক কার্যক্রমে প্রতিবাদ করে দুষ্কিতীকারীদের তোপের মুখে পড়েন ফলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে । দিশেহারা হয়ে তৎকালীন কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদুল ইসলামের হাত ধরে রাজনীতিতে আসেন তিনি । কলেজ থেকে জাহিদ বিদায় নিলে তৎকালীন পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাসির উদ্দীন হাওলাদারের হাত ধরে রাজনীতিতে পটুয়াখালীর মাটিতে আবির্ভাব তার । বিনামূল্যে রক্তদান, আইনগত, আর্থিক সহযোগিতা সহ বিভিন্ন মানবকল্যানের স্বার্থে সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন যা শুধু ছাত্রদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন মানুষের মধ্যে অল্পক্ষনেই ছড়িয়ে পরে যার প্রমান কলেজ থেকে বিদায় বেলা কলেজের পাশে বই লাইব্রেরীর মালিক তার কাছে পাওনা ছিল ৪৫ হাজার টাকা যা সে এখনো পুরোপুরি শোধ করতে ব্যর্থ ফলে ছাত্রনেতাদের মধ্যে পটুয়াখালী তার জনপ্রিয়তা ছিল আকাশচুম্বী । সভাপতি নাসিরের সাথে গুরুশিষ্যের সন্ধি হলে শতাধিক নেতাকর্মী নিয়ে দলীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহন করেন

ছাত্রলীগের সাপ্তাহিক মিছিলে মাত্র পনের দিনের মধ্যে পটুয়াখালী শিবিরের আখড়া হিসেবে খ্যাত পলিটেকনিক কলেজকে শিবিরমুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছিলেন সফলও হয়েছিলেন তিনি। তৎকালীন পটুয়াখালী সদর থানার ওসি জিয়াউল হকের সহযোগিতায় জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাসিরকে ছাত্রসংসদে ডেকে শিবিরমক্ত ক্যাম্পাস ঘোষনা করেছিলেন সাথে সাথে কলেজের গুরুত্বপূর্ন স্থাপনায় বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার ছবি টানানো মূলক ঘোষনাসহ কার্যকর করেছিলেন যার ফলে তাকে একাধিক গায়েবি মামলার আসামি হতে হয়েছিল। সর্বশেষ কলেজ থেকে বিদায়বেলা বিশ্ব ব্যাংক কর্তৃক দেয়া বৃত্তির ১০ লক্ষ টাকা ৬ শতাধিক বিদায়ী শিক্ষার্থীদেরকে কলেজ প্রিন্সিপাল কর্তৃক হরনকৃত অর্থ ফিরিয়ে দিয়ে অসাধারন ছাত্রনেতার পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। যা পটুয়াখালীর ইতিহাসে বিরল ঘটনা । নেতার চেয়ে দলীয় আনুগত্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল বলে পটুয়াখালীর অধিকাংশ নেতার চক্ষুশীল হয়ে পড়েন তিনি । ২০১৮ সালের ২৯শে মার্চ সারাদেশে শতাধিক ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় যার ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালীর একাধিক ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তার জন্মস্থান ধানখালীতে ও নির্বাচন হলে জেলা , উপজেলা,ইউনিয়নের একাধিক দলীয় নেতাকর্মীর আমন্ত্রনে ধানখালী নামক ইউনিয়ন নৌকার পক্ষে প্রচারনার জন্য যান তিনি । ইউনিয়নে যাওয়ার পরেই তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো হয় ৯টি ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী এবং নৌকার প্রার্থীর কাছ থেকে ২৭ লক্ষ টাকা চুক্তি করে ভোট চুরি করতে নির্বাচনে এসেছেন তিনি যা বিএনপির প্রার্থী ও আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সভা, উঠানবৈঠকে জনসাধারনকে অবহিত করেন অপরদিকে তিনি নৌকার প্রচার প্রচারনা চালানোর সময় সভা, উঠান বৈঠকে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তার কর্মী খন্দকার মোস্তাক আখ্যা দিয়ে তৎকালীন পটুয়াখালী ০৪ আসনের এমপি মাহাবুবর রহমান ও কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক রাকিবুল আহসানের সমালোচনা করেন কারন বিদ্রোহী প্রার্থী ঐ এমপি মাহাবুবুর রহমানের শ্যালক ছিলেন। যার পরিপ্রেক্ষিতেই সবাই ক্ষুব্ধ হয়ে ২৬ মার্চ দুপুরে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর জখম হন পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাসিব হাসান রাকিব পরে আহত অবস্থায় তাকে জনতা পুলিশ মিলে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নিলে সেখানে ও তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয় কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিব গাজীর বিচক্ষনতায় বেঁচে যান পরে বরিশাল মেডিকেল, ঢাকা মেডিকেল, শ্যামলী কিডনি হাসপাতাল, মিরপুর ডেন্টাল সহ একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা হয় তার।

অনেকে হামলার খবরে উল্লাস করেছিলো। কিছুদিন পর রেহাই পাইনি নির্বাচনে তার সাথে চলা আওয়ামীলীগ কর্মী রাজীব সন্যমত ও এমনকি তার ভাড়া করা মটর সাইকেলের চালক ও নিস্তার পায়নি তাদের কেও মারধর করা হয়েছে বেড়ধক ।

লক্ষ্য ছিল মূলত ধানখালীতে ভোট কারচুপির মাধ্যমে নৌকা হারানোই এর আগে ঔ প্রার্থীরা রাকিবের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরন বিধি লংঙ্গনের অভিযোগ এনে পটুয়াখালী র‌্যাব -৮ , কলাপাড়া থানাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক লিখিত অভিযোগ করেন যার কারন বিগত জাতীয় নির্বাচনে পটুয়াখালী ০৪ আসনের একাধিক প্রার্থী ঐ ইউনিয়নে অংশ নিলেও ব্যক্তিস্বার্থে রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার জন্য সভায় অংশগ্রহন করলেও বিদ্রোহী প্রার্থীর সাথে আতাত করছিলেন সর্বশেষ আর ও একটি ক্ষোভের বহিপ্রকাশ স্পষ্টত নেতাদের মধ্যে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাসিরের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন রাকিব। যার ফলে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাদের ব্যক্তিগত লোক কলাপাড়া উপজেলা, পৌর, কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্তিতে তার হাত ছিল বলে ধারনা তাদের যে ইস্যুটা হামলার একটা অন্যতম কারন হিসেবে বিবেচিত। জেলার দিকে অবলোকন করলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের অনেকের কাছ থেকে জানা যায় গুরুশিষ্য নাসিরের সাথে রাকিবের ঘনিষ্ঠতা একসময় তুঙ্গে থাকলেও তার স্থায়িত্ব হয়নি কলাপাড়ার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতা রাকিবের সরলতার সুযোগ নিয়ে নাসিরের সাথে সম্পর্কের ফাটল ধরাতে সক্ষম হন যার ফলে তাকে জেলা ছাত্রলীগের গুরুত্বপূর্ন পদ থেকে বঞ্চিত হয়ে হয় পরে যে সম্পর্ক দেখা যায় যা পুরোটাই সাংগঠনিক স্বার্থে লোকদেখানো ছিল।

অপরদিকে দলীয় কর্মী হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক বিকাশ হাওলাদার, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি হাসান সিকদার সম্পাদক ওমর ফারুক নূন্যতম সহানুভূতি দেখালেও তাকে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ দলীয় নেতারা এমনকি পরিশেষে মামলাটা তুলে নিতে হয়েছে তাকে যেখানে তিনি জেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক, ছাত্রলীগ সভাপতি সম্পাদক এমনকি কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতাদেরকে তার ইউনিয়নে গিয়েছেন বলে রাজপথে দাড়িয়ে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেছিলেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক কাজী আলমগীর বলেন, বিষয়টি অনেক দুঃখজনক ছিল আমরা সাংগঠনিক ভাবে সুরাহার চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব ।

আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সাগর জানান, রাকিবকে হত্যাচেষ্টার বিষয়টি আমাদের জন্য লজ্জার আপনারা ইতোমধ্যে দেখেছেন ঐ এমপি কে এবার মনোনয়ন বঞ্চিত করেছেন নেত্রী আশা করি রাকিবকে হত্যাচেষ্টাকারীরা শেখ হাসিনার রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পাবে না । এ বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন

সম্পাদক নেছারুল ইসলাম বাহাদুর জানান, রাকিব পটুয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের অহংকার বিষয়টাতে আমরাও মর্মাহত হয়েছি কিন্তু আমাদের করার কিছুই ছিলনা না এতে বড় বড় নেতা ও পয়সাওয়ালাদের হাত ছিল ।

আরো খবর »