ফ্যাশন ও স্টাইলে ব্যাগ

Feature Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, স্বাধীনবাংলা২৪.কম

শুধু শার্ট, জুতা, প্যান্ট আর ঘড়ির মধ্যেই স্টাইল বা ফ্যাশন সীমাবদ্ধ নয়। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ।

পোশাক থেকে শুরু করে আদ্যোপান্ত সবখানেই চলে হাল ফ্যাশনের হাতাহাতি। যুগটাই এখন ফ্যাশন আর স্টাইলের। ফ্যাশনের এ দুরন্তপনায় অনেক প্রয়োজনীয় একটি অনুষঙ্গ হলো ব্যাগ। এ অনুষঙ্গটি স্টাইলের একটি বড় স্থান দখল করে আছে।

বর্তমান সময়ে প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি ফ্যাশনের অনুষঙ্গে পরিণত হয়েছে ব্যাগ। দৈনন্দিন ফ্যাশন পোর্টফোলিওতে এর আধিক্য যেন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই ব্যাগের ফ্যাশন পার্শ্ব বিষয় না হয়ে এখন ধরা দিয়েছে মূলধারা হিসেবে। তরুণদের আউটলুকে এটি যুক্ত করছে আভিজাত্য।

এই ব্যাগের ভিড়ে রয়েছে ছেলেদের অফিস ব্যাগ আর মেয়েদের সাইড ব্যাগসহ বিভিন্ন স্টাইলের ব্যাগ। এ ছাড়া স্থান দখল করেছে পার্টি ব্যাগও। স্টাইলে ভিন্ন এসব ব্যাগের চাহিদাও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ পড়ূয়া আনিকা রাজধানীর বসুন্ধরা সিটিতে এসেছেন ব্যাগ কিনতে। তার পছন্দ ছোট ধরনের চামড়ার ব্যাগ। তার মতে, লেদারের এসব ব্যাগ পোশাকের গাম্ভীর্য বাড়িয়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, সময়ের ব্যবধানে লেদারের এসব ব্যাগে এসেছে রঙের ছোঁয়া। এ ছাড়া কাপড় বা অন্যান্য উপকরণে তৈরি ব্যাগেও দেখা যায় ভিন্নতা। তাই আমাদের জন্য বেশ সহজ হচ্ছে পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে ব্যাগের ব্যবহার।


এসব ব্যাগের রয়েছে নানা কীর্তি। লেদারের, কখনও প্লাস্টিকের, কখনওবা শুধু কাপড়ের তৈরি হয়। এসব ব্যাগ কখনও কাঁধঝোলা হয় আবার কখনও আকৃতিতে একটু বড়, হাতটা একটু ছোট আবার কখনও কখনও পিঠে বাঁধার ব্যাগ হিসেবে তৈরি করা হয়। মেয়েরা সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, জিন্স শার্ট, কামিজ সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে এ ধরনের ব্যাগ ব্যবহার করতে পারেন।


অফিসিয়াল ব্যাগের বেলায় কিছু বিষয় অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হয়, যা অফিসের সাধারণ পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাবে। সচরাচর দেখা যায়, সেমিনারে বিদেশি ব্যাগের পাশাপাশি দেশে তৈরি লেদারের ব্যাগগুলো বেশ মানিয়ে যাচ্ছে। একটু ভিন্নতা আনতে কাপড়ের তৈরি ব্যাগগুলোও অফিসে ব্যবহার করতে পারবেন। যেগুলো ক্যানভাস কাপড়ের ওপর তৈরি করা হয়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় লেদারের ব্যাগগুলো ব্যবহার করলে, যা সম্পূর্ণ দেশীয় কারখানায় তৈরি এবং অগণিত ডিজাইন, আকারের সঙ্গে কয়েকটি কালার সমৃদ্ধ করা হয়েছে। আবার লেদারের তৈরি ব্যাগগুলোর বাইরে যে ব্যাগ এ দেশে বেশি চলে তা আসে চীন থেকে এবং এগুলোর মানও ভালো। এগুলো আপনি আপনার চাহিদার সঙ্গে মানিয়ে ক্রয় করতে পারবেন।


বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের দামি ক্যামেরা বহন করেন অনেকেই। আর যা হাতে কিংবা সাধারণ কোনো ব্যাগে বহন করা কোনোভাবেই নিরাপদ নয়। আর এ অসাবধানতা দূর করার জন্য বাজারে এসেছে আধুনিক মানের লেদার ও কাপড়ের তৈরি ক্যামেরা ব্যাগ। এ ব্যাগগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং বিভিন্ন সাইজের ক্যামেরার আকার অনুযায়ী তৈরি। এর মধ্যে রয়েছে একটু গোলাকার সাইজ, যা সাধারণ স্কুল-কলেজ ব্যাগের চেয়ে ভিন্ন ধরনের। সঙ্গে থাকছে ক্যামেরার লেন্স, বডি, জুম রাখার জন্য আলাদা কাভার পকেট। ক্যামেরার এই ব্যাগগুলো অবশ্য কিছুদিন আগেও সিনথেটিকসের ওপর তৈরি হতো, যেটা রেকসিন নামেই পরিচিত, যা এখন আর ব্যবহার হয় না বললেই চলে। কারণ রেকসিনের ব্যাগগুলো খুব সহজেই ফেঁসে যায়। ফলে যে কোনো সময় ক্ষতি হতে পারে মূল্যবান ক্যামেরার।
ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটু খেয়াল রাখতে হবে_ কোন ধরন বা কোন ডিজাইনের ব্যাগ কোথায় মানিয়ে নেওয়া যেতে পারে। যেমন_ স্কুল কিংবা কলেজের ছেলেমেয়েরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো রঙ বা ডিজাইন সিলেক্ট করতে পারেন, যা পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে যাবে। কিন্তু অফিসিয়াল ব্যাগ ব্যবহারের বেলায় বাড়তি খেয়াল রাখতে হবে নিশ্চয়ই। যেহেতু অফিসিয়াল ব্যাপার, সেক্ষেত্রে খুব বেশি বড় বা খুব ছোট ব্যাগ না হাওয়াই ভালো। আবার কালারের ক্ষেত্রেও নজর রাখা উচিত। বেশি রঙসমৃদ্ধ ব্যাগ না ব্যবহার করাই ভালো। সবচেয়ে ভালো হয় কালো। ডিপ কালারের ব্যাগগুলোও মানিয়ে যাবে।


বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে পাওয়া যায়। যেমন_ নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, শাহবাগ পিজি মার্কেট, চকবাজার, সদরঘাট ও মিরপুর-১ নম্বর। উল্লেখ্য, শাহবাগের অজিজ সুপার মার্কেটের গোডাউন প্লাজায় রয়েছে আমদানিকৃত ব্যাগের পাইকারি মার্কেট। বিভিন্ন ধরনের স্কুল ব্যাগের দাম পড়বে দেশি-বিদেশি অনুপাতে। যেমন_ দেশি ব্যাগ ২৫০-৭০০ টাকা এবং বিদেশি পড়বে ৮০০-১,৫০০ টাকা পর্যন্ত। কলেজ ব্যাগ দেশিগুলোর দাম পড়বে ২৫০-১,০০০, বিদেশি ৭০০-১,২০০ টাকা। এ ছাড়া অফিসিয়াল ব্যাগগুলোর যথাক্রমে দাম পড়বে_ দেশি ৫০০-১,০০০ টাকা এবং বিদেশি ৮০০ থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।

আরো খবর »